আমায় ক্ষমা কর পিতা : ১৩
প্রবীর সিকদার : ১৫ আগস্ট শেষ রাতে আক্রান্ত হবার পর বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ, ডিজিএফআই প্রধান কর্ণেল জামিলসহ বেশ কয়েকজনকে ফোন করে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী ঘটনা জানার সাথে সাথেই সেনা প্রধান শফিউল্লাহ ও বিমানবাহিনী প্রধান একে খন্দকারকে ফোন করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেনাপ্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধান ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে কর্ণেল জামিল ছাড়া আর কেউ বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় এগিয়ে যাননি। সেই রাতে কর্ণেল জামিল জীবন দিয়ে দায়িত্ব পালনের মহৎ দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ঘটনা কোনো সেনা বিদ্রোহের ফসল নয়। গোলাবিহীন ট্যাংক সড়কে বের করে আতংক তৈরীর মাধ্যমে কিছু সংখ্যক সেনা পরিচয়ধারী দুর্বৃত্ত এ নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটায়। সেনাবাহিনী ও রক্ষীবাহিনী দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করা না গেলেও খুনিদের আটক করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতো। কিন্তু সশস্ত্রবাহিনীগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের রহস্যজনক নির্লিপ্ততা খুনিদের সফল হতে সহায়তা করে। এক এক করে সেনাবহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিডিআর প্রধান, রক্ষীবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান, পুলিশের আইজি রেডিওতে স্বকন্ঠ বিবৃতি প্রচারের মাধ্যমে মোশতাক সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সেনাপ্রধান শফিউল্লাহর এক সাক্ষাৎকার সূত্রে জানা যায়, তাকে কেউ অস্ত্রের মুখে রেডিও স্টেশনে নেয়নি; তিনি স্বেচ্ছায় রেডিও স্টেশনে গিয়েছিলেন। রেডিও স্টেশন থেকে সেনা হেড কোয়ার্টারে ফিরে শফিউল্লাহ সেনা কর্মকর্তাদের বলেন, ‘যা হয়েছে-হয়েছে। বাট নাউ ইউ অল রিমেইন ইন ইউর রেসপেকটিভ ইউনিটস। নো ওয়ান স্যুড গো আউট অব ক্যান্টনমেন্ট স্টিল ফারদার অর্ডার।’
আতংক সৃষ্টির জন্য গোলা বিহীন যে ট্যাংকগুলো সড়কে নামানো হয়েছিলো, ১৫ আগস্ট দুপুরের পর ওই ট্যাংকগুলোতে গোলা সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ।
সেনাবাহিনীর ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার কর্ণেল শাফায়াত জামিল বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহর কাছে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ চেয়েছিলেন। শাফায়াত জামিল ক্ষুব্ধ কন্ঠেই বলেছিলেন, ‘অ্যাজ ইউ আর দ্য আর্মি চিফ, আই ওয়ান্ট অর্ডার ফ্ররম ইউ – আই উইল ওয়াশড আউট অফ অল মার্ডারার্স উইথইন হাফ অ্যান আওয়ার। মাই ব্রিগেড ইজ রেডি। ইফ ইউ আর আনেবল টু পাশ দ্য অর্ডার দ্যান ইউ লিভ দ্য চেয়ার এন্ড আক্সড ডালিম টু সিট ইওর চেয়ার অ্যাজ আর্মি চিফ।’ সে সময় কোনো উত্তর দেননি সেনাপ্রধান। সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ‘ইট ইজ নট এ ম্যাটার অব সেন্টিমেন্ট’ বলে শাফায়াত জামিলকে শান্ত করেন। এখানে লক্ষনীয় যে, সেনাসদরে যদি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সমর্থক সংখ্যা বেশি হতো তাহলে শাফায়াত জামিলের পক্ষে এতোটা শক্ত অবস্থান গ্রহণ করা সম্ভব হতো না।
পরে অবশ্য শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধানের পদ ছাড়তে হয়েছিল। ওই পদে আসীন হন জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধু খুনের বেনিফিসিয়ারি সরকার শফিউল্লাহকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়।
ট্যাংক তাক করে ওই রাতে রক্ষীবাহিনীকে খানিকটা বিভ্রান্ত করা গেলেও তাদের প্রস্তুতি ছিল পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের। কিন্তু তারা কোনও নির্দেশ পায়নি। রক্ষীবাহিনী প্রধান ব্রিগেডিয়ার নূরুজ্জামান ওই সময় আমেরিকায় প্রশিক্ষণে ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান পাকিস্তান প্রত্যাগত সেনাকর্মকর্তা লে. কর্ণেল আবুল হাসান অনেকটাই পালিয়ে থেকে দায়িত্ব এড়িয়েছেন। রক্ষীবাহিনীর স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ। তিনি এতোটাই শোকবিহবল ছিলেন যে, রক্ষীবাহিনীকে তিনি কোনো নির্দেশ দেননি বা দিতে পারেননি। অবশ্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, তিনি নির্দেশ দিলেও রক্ষীবাহিনী তা পালন করেনি।
পিতা! তোমাকে রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ ওই সব শীর্ষকর্তা কেন তোমার খুনিদের চলার পথ মসৃন করেছিলেন তা আজও রহস্যে ঘেরা। আমিও সেই রহস্যের জালে স্বেচ্ছাবন্দী হয়ে ভেবেছি, মুজিবের চেয়ে আমার বেঁচে থাকাটাই বেশি জরুরি। কী অকৃতজ্ঞ, কী কৃতঘ্ন সন্তান আমি!
পিতা মুজিব, আমায় ক্ষমা কর তুমি, ক্ষমা কর।
পাঠকের মতামত:
- ঢাকা স্টেডিয়াম এলাকায় মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের একটি জীপের ওপর আক্রমণ চালায়
- শাশুড়িকে মারধরে থানায় অভিযোগ, সালিসি মীমাংসার পর পাল্টা মামলা ছেলের বউয়ের
- হার্টে দু’টি ছিদ্র, কিডনি ৯৪ শতাংশ অকেজো—বাঁচতে চায় অঙ্কন
- ১২ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ১
- আবারও বাড়ল এলপিজির দাম
- ড্রোন উড়িয়ে নিস্ফল অভিযানের মধ্যেই পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা
- ৭ দিনের মধ্যে লবণ আমদানির আদেশ বাতিলের আলটিমেটাম
- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন সমাবেশ
- কুড়িগ্রামে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে মাদ্রাসায় বিক্ষোভ, অধ্যক্ষের পদত্যাগ
- চালকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিআরটিএ'র প্রশিক্ষণ কর্মশালা
- সামুদা এডিবল অয়েলকে ডিজিটাল ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সল্যুশন দেবে ব্র্যাক ব্যাংক
- সালথার কামাইদিয়া স্কুল সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে এলাকাবাসী
- গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা
- বগুড়ায় ফেয়ারডিলের ১৮ বোতলসহ নারী গ্রেপ্তার
- পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার কিশোরী, আটক ২
- কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করায় যুবককে মারধর
- শিক্ষকদের মর্যাদা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই হোক অঙ্গীকার
- জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কাশিয়ানীতে হামলার অভিযোগ, আহত মা-ছেলে
- সাতক্ষীরায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুই সহোদরের বাড়িতে ভাঙচুর লুটপাট, দুই যুবক আটক
- প্রকৃতি, প্রয়োজন ও প্রজন্ম
- ‘জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে না পারলে সেই সরকার দরকার নেই’
- যানজট নিরসনে ‘ইনার সার্কুলার রিং রোড’ নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- সোনাতলায় নাশকতা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা সহ ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
- সুবর্ণচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নব কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভা
- নানা দাবি নিয়ে নোয়াখালী পৌর ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময়
- চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
- ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আবারো ভারতীয় চাল আমদানি শুরু
- সহকারী থেকে বনে গেলেন ডেন্ডিস্ট, ভুল চিকিৎসার মামলায় গ্রেফতার
- সান্তাহারে তীব্র গরমে পথচারীদের লেবুর শরবত বিতরণ
- চাঁদপুরে বোরো ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক, লক্ষ্যমাত্রা পৌনে ৩ লাখ মেট্রিকটন
- ১৩ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
- পাছে লোকে কিছু বলে
- লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত
- বৈশাখ
- ড্রোন উড়িয়ে নিস্ফল অভিযানের মধ্যেই পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা
- কলাপাড়া পৌরসভার ২৪ লাখ টাকার হিসাব চাইলেন বিএনপি সভাপতি
- ‘পুরনো আইনে বাংলাদেশকে পরিচালিত হতে দেব না’
- ‘এবার জনগণই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে’
- মোড়লের ক্ষমতা আর নেই, বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস নিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানী সুভাষ সাহা
- ভালুক ও মৌমাছির গল্প
- ঐতিহাসিক জালাল মঞ্চে বসেছিলো শত কবির মিলনমেলা উৎসব
- জিয়া সেদিন বঙ্গবন্ধুকে কথা দিয়েছিলেন, 'স্যার, আমার বুক বিদ্ধ না করে বুলেট আপনার গায়ে লাগতে পারবে না'
- 'তোমার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম যে ব্যক্তিটি খুনি মোশতাককে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, তিনি মাওলানা হামিদ খান ভাসানী, যাকে তুমি পিতৃজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতে'
-1.gif)








