‘অতলান্ত পিতৃস্মৃতি’ শেষ পর্ব
প্রবীর বিকাশ সরকার : [ভূমিকা : আমার ৫৫ বছরের জীবনে বাবার সঙ্গে কেটেছে মাত্র ২৪-২৫টি বছর! জ্ঞান হওয়ার পর থেকে যেভাবে বাবাকে দেখেছি, চিনেছি, জেনেছি এবং বুঝেছি তার মূল্যায়নই হচ্ছে এই আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস বা স্মৃতিকথা ‘অতলান্ত পিতৃস্মৃতি’---এমন করে খোলামেলা খুঁটিনাটি কোনো স্মৃতিকথা আর কোনো বাঙালি লিখেছেন তার জন্মদাতা পিতৃদেবকে নিয়ে আমার অন্তত জানা নেই।]
অনেক চেষ্টা তদবির করেও কিছু হলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএত ভর্তি হওয়া গেল না। সিদ্ধান্ত নিলাম কুমিল্লা চলে যাবো। যাবার আগে হল থেকে ফোন করেছিলাম ‘স’কে। স্বপনের কাছ থেকে টেলিফোন নাম্বার নিয়েছিলাম। বললো, ‘বংশালে আসার জন্য। একটি পর্দাঢাকা চায়ের দোকানে বসে ঘন্টাখানেক আলাপ হলো। কিছুটা নরোম হয়ে এসেছে কিন্তু ‘গ’এর বিষয়ে বিশ্বাস আগের মতোই কোনো নড়চড় নেই।
বললো, ‘ওকে কষ্ট দেবেন না। ভবিষ্যতে বিয়ে করে সুখী হন। মেয়েটা ভালো, দেখতেও সুন্দরী দু’জনায় মানাবে খুব। আমাদের সম্পর্কটা স্বল্পায়ু ছিল তাতে কোনো দুঃখ নেই, একটা সিরিয়াস কিছু ঘটার আগেই সরে এসেছি, এটাকে মঙ্গলজনকই বলতে হবে। তবুও তো কিছু চমৎকার স্মৃতি, কিছু আনন্দমুখর সময়, ভালোলাগার মুহূর্ত পেলাম এটাইবা কম কিসে! এর বেশি হয়তো আমাদের ভাগ্যে ছিল না।’ ‘স’ একটা বিষণ্ন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আমাকে বিদায় দিল। কুমিল্লায় ফিরে আসতে আসতে মনে মনে বললাম, ‘আমার আর কারো প্রয়োজন নেই। কারো প্রয়োজনেও আমি নেই।
এবার আমি মুক্ত স্বাধীন। নির্বিঘ্নে আকাশে উড়ে বেড়াবো। মুক্তবিহঙ্গ। বালির খেলাঘর ভেঙ্গে বালির সঙ্গে মিশে গেছে।’ লতিফমামা ঠিক ঠিক সুখবর নিয়ে এসে হাজির হলেন একদিন। বললেন, ‘স্টুডেন্ট হিসেবে উচ্চশিক্ষার্থে জাপানে যাওয়া যাবে।’ সার্টিফিকেট এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়া হলো। আবার মফিজও বললো, ‘দোস্ত টেনিসি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যাবে। ওখানে গিয়ে টোফেল কোর্স করতে হবে। ভিসা দেবে কোনো ভুল নেই। কি করবি এক মাসের মধ্যে জানাবি আমাকে।’ এক মাসও লাগেনি ১৫ দিনের মধ্যেই জানিয়ে দিলাম তাকে, তুই যা আমি টোকিও যাচ্ছি।’ এবং আমার আগেই মফিজ চলে গেল আমেরিকাতে।
১৯৮৪ সালের এপ্রিল মাসে বিদেশযাত্রার সিদ্ধান্ত হলো। ‘স’কে খবর দিয়েছিলাম। ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এলো। একদিন দুপুরের পরে নীল রঙের সালোয়ার কামিজ পরে এলো। সন্ধ্যে পর্যন্ত বেশ হাসিখুশি স্বাভাবিক কথাবার্তা বলে সময় কাটালাম। ওর প্রিয় সুমন কল্যাণপুরের গানটা বাজালাম, ‘পায়ের চিহ্ন নিয়ে / পড়ে থাকা পথটা যার / তার আসার দিনের কথা/ লেখা বুঝি........।’ আমার সামনে বিছানায় বসেছিল। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই কেঁপে উঠলো। টপ টপ করে ঝরে পড়া তার চোখের তপ্ত জলে আমার বাঁ হাত ভিজে গেল। কিন্তু না। এপ্রিল মাসে চেষ্টা করেও জাপানে প্রবেশ করা গেল না। যে স্কুল স্পনসর হয়েছিল তার বাজে রেকর্ড আছে সরকারের জাস্টিস মিনিস্ট্রিতে। জাস্টিজ মিনিস্ট্রি ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ করে। কি আর করা? ফিরে এসে পরে অক্টোবর মাসের ২৩ তারিখে জাপানে প্রবেশ করলাম জাপানে আমি।
এই ক’মাস আর কাউকে জানানোর প্রয়োজন মনে করিনি। তখন আমাদের বাসা ছিল উজির দীঘির পাড়ে। ফলে বিষ্ণু, স্বপনরাও জানে না। বাসা থেকেও বেরোলাম না। বরং বই পড়া ও লেখালেখি করে সময় কাটালাম। লতিফমামা নতুন স্কুল খুঁজে বের করলেন। ভিসা তো ক্যান্সেল হয়নি। জাপানে গিয়ে কি করবো সব পরিকল্পনা করেছি। ‘স’ও জানে না যে আমি দেশেই ছিলাম আরও চার মাস। এখনো মনে পড়ে, সেই দিনটির কথা যেদিন খুব সকাল বেলা বাবা-মাকে প্রণাম করে যাত্রা করলাম লতিফমামার সঙ্গে, তিনি আমাকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন। তাঁর মাধ্যমে টাকার ব্যবস্থা হয়েছিল।
সেই টাকা পরে পরিশোধ করেছি। আমি কোনোদিন আমার বাবার চোখের জল দেখিনি। গতবারও যখন বিদায় নিয়ে গিয়েছিলাম, এত বিহবল ছিল যে, কোনো কিছু অনুভব করতে পারেনি। হেসে বিদায় দিয়েছিল। এবার প্রণাম করতে গেলে জড়িয়ে ধরেছিল। ভাঙা গলায় বললো, ‘বিদেশ গিয়ে অমানুষ মানুষ, আবার মানুষ অমানুষ হয়ে যায়। তুমি যাই করো, দেশকে ভুলে যেও না। দেশকে ভুলে গেলে আমাদেরও ভুলে যাবে। দেশই তোমার শেষ আশ্রয়।’ আজ ৫০ বছরের বেশি সময় ফেলে এসে বাবার মৃত্যুতে পেছনে ফিরে যখন তাকাই দেখতে পাই আমার জীবনের অর্ধেক সময়ের বহু দুঃখসুখ আর ঘটনাবলির সঙ্গে বাবা নীরব সাক্ষী হয়ে জড়িয়ে আছে। কতভাবেই না ঋণী তাঁর কাছে! আমার এই পর্যন্ত এসে দাঁড়ানো তার পেছনে বাবা ও মার অবদান অসামান্য।
মা আমার অস্তিত্বের ধারক আর বাবা আমার আত্মপরিচয়। আজকে জীবনজীবিকার তাগিদে বন্ধু-বান্ধবী সবাই বিচ্ছিন্ন। শিখা বাংলাদেশে, ‘স’ বিয়ে করে আজকে আমেরিকাতে, ‘গ’ স্বামীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে আর আমি জাপানে। জাপানে আসার পর আজ পর্যন্ত এই তিনজনের সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ নেই। কে কেমন আছে জানি না। কিন্তু যখনই এদের কারো মুখ মনে পড়ে তখন বাবার ছায়া দেখতে পাই। আবার যখনই বাবার স্মৃতি স্মরণ করি তখন এরা মনের সামনে এসে দাঁড়ায়। ....সমাপ্ত।
আলোকিচত্র: ২০১২ সালে জাপান থেকে স্বদেশে ফিরে যাই। এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে বাবা শেষ পেনশনের টাকা তুলে ঘরে ফেরার সময় অটোরিকশোতে একসঙ্গে। সেদিনটি এত বেশি বেদনাদায়ক ছিল যার ব্যাখ্যা পৃথিবীর কোনো প্রকার গ্রন্থেই থাকার কথা নয় একমাত্র অনুভব ছাড়া।
লেখক : জাপান প্রবাসী
পাঠকের মতামত:
- ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের বউকে কুপিয়ে জখম করেছে ছোটভাইয়ের পরিবার
- ‘বিশেষ মুহূর্তগুলো আমি মিস করব’
- আইপিএলে নতুন দায়িত্বে সৌরভ গাঙ্গুলি
- দিনাজপুর ও লালমনিরহাটে মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে প্রচন্ড সংঘর্ষ হয়
- উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মারধর, কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু!
- সুন্দরবন সংলগ্ন ১৮ রিসোর্ট বন্ধে চূড়ান্ত নির্দেশ
- মুকসুদপুরে রাতের আঁধারে প্রবাসীর জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ
- চোরাই বৈদ্যুতিক মিটারসহ যুবক গ্রেপ্তার
- লৌহজংয়ে মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ
- সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী জাকারিয়া হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, খুনিদের ফাঁসির দাবি
- সোনাতলায় শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে মন্দিরে মন্দিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
- দেবহাটায় সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে মন্দিরের জমি দখলের হুমকি
- গোবিপ্রবি'তে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অত্যাধুনিক গবেষণাগার উদ্বোধন
- কাপ্তাইয়ে হাসিনা বেগম হত্যায় প্রধান আসামির ফাঁসি
- দুগপূজা উপলক্ষে ধামরাইয়ে বিশেষ আইন শৃংখলা সভা
- বড়াইগ্রামে পাশের বাড়ির টয়লেট থেকে যুবকের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার
- তুলার আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষি ও শিল্পের সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন
- ধামরাইয়ে ২৩২টি মন্দিরে চলছে শারদীয়া দুর্গোৎবের প্রস্তুতি
- একদিনে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ১০ জনের
- গোপালগঞ্জে শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন
- বাবরি মসজিদ প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির গ্রেপ্তার
- গোপালগঞ্জে এসএসসি জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা, প্রধান অতিথি গোবিপ্রবি উপাচার্য
- চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৪ শতাংশ
- চার দিনের সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- বিএটি বাংলাদেশের করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান হলেন মোমশাদ আলী খান
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
- নৌপথে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই কয়লার চালান জব্দ, গ্রেফতার ৪
- ‘এবার জনগণই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে’
- ভালুক ও মৌমাছির গল্প
- ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস নিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানী সুভাষ সাহা
- শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশ রূপ নিল জনসমুদ্রে
- রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র: বিতর্ক, বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে মুখোমুখি এনপিসিবিএল এমডি
- ‘জামায়াত জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা হবে’
- দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ঘিরে মুখর নীলফামারী প্রেস ক্লাব
- সরকারি বিল ইজারা নিয়েও মাছ ধরতে পারছেনা জেলেরা
- মোড়লের ক্ষমতা আর নেই, বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- শাহরাস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ বসত ঘর পুড়ে ছাই, আহত ৩
- ঐতিহাসিক জালাল মঞ্চে বসেছিলো শত কবির মিলনমেলা উৎসব
- জিয়া সেদিন বঙ্গবন্ধুকে কথা দিয়েছিলেন, 'স্যার, আমার বুক বিদ্ধ না করে বুলেট আপনার গায়ে লাগতে পারবে না'
- নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা নুরের, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘিরে নজরদারি দাবি
- কেশবপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক যুবদল নেতা উজ্জ্বলের মৃত্যু
- যশোরে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতি
- 'তোমার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম যে ব্যক্তিটি খুনি মোশতাককে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, তিনি মাওলানা হামিদ খান ভাসানী, যাকে তুমি পিতৃজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতে'
- নানা সংকটে নড়াইলের বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘর
- ফানুস উৎসব থেকে বলছি
-1.gif)








