E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

রায়পুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

২০১৭ অক্টোবর ১৫ ১৪:০১:২৮
রায়পুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মিতালী বাজার মডেল একাডেমীতে চলছে চরম অনিয়ম ও দূর্নীতি। প্রধান শিক্ষক রেজাইল করিম তার অদৃশ্য খুঁটির জোরে চালিয়ে যাচ্ছে যথেচ্ছা চারিত কর্মকান্ড। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল বর্তমানে অসহায়ত্বের শিকার হয়ে পড়েছে। ঘুষ গ্রহণের প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে স্বয়ং বিদ্যালয়ের সভাপতির সামনেই অকথ্য গালাগাল ও অশ্লীল ভাষার বাক্যবাণে জর্জরিত হয়েছেন এক অসহায় মহিলা অভিভাবক।

এক পর্যায়ে চর-থাপ্পর মেরে পঞ্চাশোর্ধ ওই মহিলাকে প্রধান শিক্ষক তার অফিস থেকে টেনে হেচড়ে বের করে দিয়েছেন মর্মে অভিযোগ করেছে রোববার উপজেলার চর বিকন্সফিল্ড গ্রামের ছলেমান মিজির স্ত্রী শিউলী আক্তার স্বপ্না নামের ওই মহিলা এঘটনার প্রতিকার দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, চর বিকন্সফিল্ড গ্রামের ছলেমান মিজির স্ত্রী শিউলী আক্তার স্বপ্নার ছেলে রিয়াদ মিতালী বাজার মডেল একাডেমী থেকে গত বছর মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। সে অনুযায়ী রিয়াদ ফরম ফিলাপও করে। পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগে রিয়াদ জানতে পারেন বানিজ্য বিভাগের পরীক্ষার্থী হিসেবে বোর্ড থেকে তার প্রবেশ পত্র এসেছে। খোজ নিয়ে বিদ্যালয়ের অফিসের গাফিলতিতে এমন ঘটনা জানতে পারলেও তিনি ছেলের ভবিষ্যত চিন্তা করে মুখ গুজে থাকেন রিয়াদের মা স্বপ্না বেগম।

তিনি প্রধান শিক্ষককে ব্যাবস্থা নিতে অনুরোধ করলে তিনি ২০ হাজার টাকা দাবি করে বসেন। মহাবিপাকে পড়ে যান স্বপ্না বেগম। এক পর্যায়ে দার-কর্জ করে টাকা জোগার করে প্রধান শিক্ষক রেজাইল করিমের হাতে এনে দিলেও কোন কাজ করে দিতে পারেননি। ছেলের বিভাগ পরিবর্তণের জন্য গ্রহন করা টাকাও ফেরত দেননি। বাধ্য হয়ে মানবিক বিভােেগর ছাত্র হয়েও বানিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবেই রিয়াদ এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে এক বিষয়ে খারাপ করে রিয়াদ। এবছর পরীক্ষা দিতে গেলে রিয়াদের কাছে আবারও ১০ হাজার টাকা দাবি করে বসেন প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম। গত বছর কাজ করতে না পারায় রিয়াদের মা স্বপ্না বেগম টাকা দিতে অস্বকৃতি জানিয়ে আগের নেয়া টাকা ফেরত চাইলে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন প্রধান শিক্ষক।

তিনি বিদ্যালয় সভাপতির সামনেই মহিলাকে লাঞ্চিত করেন। স্বপ্না বেগমের অরেক ছেলে অস্টম শ্রেণিতে পড়–য়া মেধাবী ছাত্র’র ভবিষ্যত নস্ট করে দিবে, স্কুল থেকে বের করে দেবে এমন হুমকী দেন। স্কুল থেকে বের হয়ে গত বছরের টাকা নেয়ার অন্যতম সাক্ষী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য ইউপি সদস্য হারুন মেম্বারকে জানালে তিনিও চড়াও হন স্বপ্না বেগমের উপর। অপমান করে তাড়িয়ে দেন। উপায়ান্ত না পেয়ে স্বপ্না বেগম এঘটনাসহ প্রধান শিক্ষকের সকল অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে এ সব করে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

(পিকেআর/এসপি/অক্টোবর ১৫, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test