Ena Properties
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

মির্জাপুরে এমপির নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহে লটারী ও জুয়ার মহোৎসব!

২০১৭ ডিসেম্বর ০৭ ১৭:১৩:৪৫
মির্জাপুরে এমপির নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহে লটারী ও জুয়ার মহোৎসব!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এমপি’র নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে বিজয় মেলার নামে প্রকাশ্যে অবৈধ লটারী ও জুয়ার মহোৎসব চলছে! প্রশাসনের অনুমোদন না থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার তত্ত্বাবধানে চলছে ওই লটারী।

স্থানীয়রা জানায়, মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে মির্জাপুর উপজেলা সদরের এসকে পাইলট হাইস্কুল মাঠে গত ২ ডিসেম্বর থেকে মাসব্যাপী বিজয় মেলার উদ্বোধন করেন, সড়ক, জনপদ ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. একাব্বর হোসেন।

মেলা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করে, আগামি সংসদ নির্বাচনে খরচের জন্য কোটি টাকার তহবিল গঠনের উদ্দেশে সংসদ সদস্য মো. একাব্বর হোসেন ওই লটারীর উদ্যোগ নিয়েছেন।

সূত্রমতে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাজী আবুল হোসেন ৮০লাখ টাকায় ওই মেলা ডেকে নেন। মেলায় বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর স্টল থাকলেও মুখ্য হয়ে ওঠেছে ‘দৈনিক স্বর্ণ ছোঁয়া র‌্যাফেল ড্র’ নামীয় ওই অবৈধ লটারী। সারাদিন পুরো উপজেলা জুড়ে বিশ টাকা মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হয়। পরে রাতে ড্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন মোটর সাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মূল্যবান পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেলার এক পাশে সারিবদ্ধ স্টল রয়েছে।

এর পাশেই ‘দৈনিক স্বর্ণ ছোঁয়া র‌্যাফেল ড্র’র বিশাল প্যান্ডেল। আর এক কোনে রয়েছে পুতুল নাচ। মির্জাপুর ও আশেপাশের এলাকাগুলোতে সিএনজি, অটোরিকশাযোগে বাহারী বিজ্ঞাপন প্রচার করে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। মেলার সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হয়। ঢাকঢোল পিটিয়ে মেলার নামে অনৈতিক কর্মকান্ড চালানো হলেও এর কোন সরকারি অনুমোদন নেই। মূলতঃ স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে চলছে ওই অনুমোদনহীন মেলা।

কৌতুহলী হয়ে পুতুল নাচের প্যান্ডেলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে অশ্লীল নৃত্য। মাইকে গানের তালে তালে ‘শিল্পী’রা পরিধেয় বস্ত্র খুলে উলঙ্গ হচ্ছেন। কেউ কেউ পুতুল নাচ দেখতে প্যান্ডেলের ভিতরে ঢুকেই লজ্জায় বের হয়ে আসছেন।

মেলার বাইরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশ টাকায় টিকিট কিনতে ভির করছে। তারা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এভাবে মেলায় উপস্থিত হওয়ায় অভিভাবকরা শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে সর্বশান্ত হচ্ছে গ্রাম-গঞ্জের খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েক ব্যক্তি জানান, বিজয় মেলায় এভাবে পুতুল নাচের নামে অশ্লীল নৃত্য ও লটারীর নামে জুয়ার মহোৎসব পুরো উপজেলাবাসীকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের কাছে ওই মেলা বন্ধের আবেদন করেছেন।
মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও মেলার পরিচালক হাজী আবুল হোসেন জানান, মেলায় লটারীর কোন অনুমোদন দেয়া হয় না। তবে সব মহলকে ম্যানেজ করে সারাদেশের অনুকরণে তিনিও বিজয় মেলায় লটারী শুরু করেছেন।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম মিজানুল হক জানান, উদ্যোক্তারা মেলা পরিচালনার জন্য একটি আবেদন উপজেলা প্রশাসনে করেছিলেন। সেখানে পুলিশের মতামত চাওয়া হলে পুলিশের পক্ষ থেকে মতামত দেয়া হয়েছে। তবে মেলার অনুমোদন দেয়া হয়নি। অনুমোন না থাকায় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানান তিনি।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মির্জাপুরে কোন মেলার অনুমোদন দেয়া হয়নি। লটারী-জুয়ার অনুমোদন দেয়ার প্রশ্নই আসে না।

সড়ক, জনপদ ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. একাব্বর হোসেন জানান, মেলার নামের নির্বাচনী ফান্ড সংগ্রহের প্রশ্ন অবান্তর; বিজয় দিবসের আলোচনা সভার জন্য এই মেলার আয়োজন। অবৈধ লটারীর বিষয়টি এড়িয়ে তিনি প্রশাসন থেকে বিজয় মেলার অনুমোদন পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

(আরকেপি/এসপি/ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test