E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

‘খালেদার লংমার্চ ঠেকিয়ে গডফাদার হয়েছি’  

২০১৮ জানুয়ারি ২৭ ১৯:৪৮:২৪
‘খালেদার লংমার্চ ঠেকিয়ে গডফাদার হয়েছি’  

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির প্রতিবাদে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লংমার্চে বাধা দেয়ার কারণেই কিছু গণমাধ্যম ‘গডফাদার’ বানিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের আলোচিত সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান।  

শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের ইসদাইর ওসমানী স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের এক কর্মিসভায় এ কথা বলেন শামীম ওসমান। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে জনসভা করার সিদ্ধান্ত হয় সেখানে।

এ সময় শামীম ওসমান ২০ বছর আগে খালেদা জিয়ার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চের প্রসঙ্গ টানেন।

পার্বত্য এলাকায় অস্ত্র তুলে নেয়া জনসংহতি সমিতির সঙ্গে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তি করে সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার। চুক্তির পর তারা অস্ত্র সমর্পণ করে।

তবে এই চুক্তির ফলে ফেনী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে অভিযোগ তুলে ৯৮ সালের ৯ জুন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ করেন খালেদা জিয়া। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় বিকল ট্রাক ফেলে সে কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ ছিল শামীম ওসমানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি খালেদা জিয়ার লংমার্চ ঠেকিয়ে গডফাদার হয়েছি। অথচ লং মার্চের আগে আমার নামে কোন অভিযোগ ছিল না।’

‘আমি নারায়ণগঞ্জের কলঙ্ক পতিতাপল্লী উচ্ছেদ করেছি তাই সুশীল সমাজের দুশমন হয়েছি। কারণ পতিতালয় থেকে তারা টাকা কামাত। গোলাম আযমকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। কারণ আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।’

আইভীর সমালোচনা

নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন শামীম। গত ১৮ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তির পর ২৩ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে ফিরে যাওয়ার আগে আইভী বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জ চলবে তার কথায়।

এর প্রতিক্রিয়ায় শামীম ওসমান বলেন, ‘কেউ কেউ বলে নারায়ণগঞ্জ সিটির মালিক তিনি নিজে। আমি বলব, এ সিটির মালিক জনগণ। শুধু সিটি না পুরো দেশের মালিক জনগণ। যদি মানুষের জন্য জনগণের জন্য বরিশাল গিয়েও কথা বলতে হয় তাহলে আমি শামীম ওসমান সেখানে গিয়ে বলব।’

হকার বসানো নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের ৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আইভীর অভিযোগ করারও সমালোচনা করেন শামীম। বলেন, ‘যাদের নামে অভিযোগ করেছেন তাদের ধরা তো দূরের কথা মাথার চুলও ছুঁতে চায় তাহলে আগুন ধরিয়ে দেবো।’
‘যারা দিনরাত আপনার পক্ষে কাজ করল, নির্বাচনে জয়ী করল, আপনি তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিলেন, আপনার বুকটাও কাঁপলো না?’।

‘বাঘ আর বিড়ালের পার্থক্য আপনাকে বুঝতে হবে’- এমন মন্তব্য করে আইভীকে শামীম বলেন, ‘বাঘের ঘরে বাঘের জন্ম হয়। শামীম ওসমানের কোন কর্মী বিড়াল নয়, তারা একেক একটা বাঘ। বাঘের মুখের সামনে হাত দেবেন না না।’

‘আমি শামীম ওসমান তো পরে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তারাও যদি ডাক দেয় এক লাখ দুই লাখ লোক জমায়েত হবে, কোন ব্যাপার না। তখন কিন্তু আমি থামাইয়া রাখতে পারব না।’

‘ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে’

নারায়ণগঞ্জের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসন দ্বিমুখী আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন শামীম। বলেন, ‘আমি প্রশাসনকে বলছি ডাবল গেম খেলবেন না। আমার ধৈর্য্যরে বাধ ভেঙে গেছে।’

সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্রসহ ছবি আসা নিয়াজুল ইসলামের খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘রাত দুটার সময় ফুলের টবে নিয়াজুলের অস্ত্র উদ্ধার দেখালেন। যারা নিয়াজুলের অস্ত্র লুট করেছে তাদের গ্রেপ্তার করুন। গেম বন্ধ করেন।’

‘পত্রিকায় খবর আসে নিয়াজুল নাকি পলাতক। কিন্তু সে পলাতক না। নিয়াজুল অসুস্থ, সে চিকিৎসা নিচ্ছে। যারা নিয়াজুলের উপর হামলা করেছে তাদের আগে গ্রেপ্তার করেন। নিয়াজুলকে ধরার চিন্তা কইরেন না।’

৮ ফেব্রুয়ারি ‘খেলবে’ বিএনপি

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে বিএনপি জামায়াতের ‘খেলা’ হবে বলেও মনে করেন শামীম। বলেন, ‘বিএনপি ধরেই নিয়েছে তাদের চোরের নেত্রীর কিছু একটা হবে। তখন কিন্তু জামায়াত বিএনপি সবাই নামবে।’

এবার বিএনপি-জামায়াত ভিন্ন কৌশলে মাঠে নামবে বলেও মনে করেন শামীম ওসমান। তিনি বলেনন, ‘আস্তে আস্তে নামবে তারা। আগামী জুন জুলাইতে দেশে অনেক অঘটন ঘটবে।’

শামীম বলেন, ‘আগামীতে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত নাশকতার পরিকল্পনা করছে। ওরা ওদের সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। তারা চায় লিংক রোড, সাইনবোর্ড, কাঁচপুর দখল করতে। কারণ এসব দখল করতে পারলে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট বন্ধ হয়ে যাবে।’

‘তারা চায় আমাকে কাহিল করতে। কারণ আমাকে কাহিল করতে পারলে তারা সফলকাম হবে। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে এটা নারায়ণগঞ্জ। এখানে আওয়ামী লীগের জন্ম। এখান আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ টিকতে পারবে না।’

বিএনপির বিরুদ্ধে আইভীকে নামার আহ্বান

মেয়র আইভীকেও বিএনপির বিরুদ্ধে নামার আহ্বান জানান শামীম। বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি মেয়র আইভীও এসব প্রতিহত করতে মাঠে থাকবে। তিনি যদি থাকে তাহলে আমার সঙ্গে কোন বিরোধ থাকবে না। কিন্তু মাঠে থাকবেন না, আর আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন সেটা হবে না।’

‘যদি বিএনপি-জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে ভুল করে থাকেন স্বীকার করেন, সংশোধন হন এবং নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান। যদি জামায়াত-বিএনপি দ্বারা ভুল পথে পট পরিবর্তন করে থাকেন সেটাও আলোচনায় বসে স্বীকার করে শেষ করেন। বিএনপির কাউন্সিলর নিয়ে ঘুরবেন, রাজাকারের ছেলের কথায় ভিন্ন পথে চলবেন সেটা কইরেন না।’

৩ ফেব্রুয়ারির সমাবেশে আইভী, তার অনুসারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহকেও দাওয়াত দেন শামীম। বলেন, ‘আসেন একত্রে বসি, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখি। আরেকবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক, তখন না হয় গ্রুপিং করবেন।’

(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ২৭, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৩ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test