E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

গৃহবন্দী নারীদের মানবেতর জীবন

রায়গঞ্জে প্রতিপক্ষের হুমকিতে পুরুষ সদস্যরা গ্রামছাড়া 

২০১৮ মার্চ ১৪ ১৫:৩৮:৩১
রায়গঞ্জে প্রতিপক্ষের হুমকিতে পুরুষ সদস্যরা গ্রামছাড়া 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের সরাইহাজীপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হুমকিতে গ্রাম ছাড়া রয়েছে ৮-১০টি পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। হাট-বাজার করতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছে গৃহবধূরা।

শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে দেয়া হচ্ছে বাধা। ফসল কাটতে না দেয়ায় জমিতেই পাকা ধান নষ্ট হয়ে গেছে। চাষাবাদে বাধা দেয়া পতিত রয়েছে অর্ধশত বিঘা জমি।

ভুক্তভোগীরা বলছে, প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ ও প্রশাসন কেউ তাদেরকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে না। আর প্রতিপক্ষরা বলছে, হুমকি নয়, গ্রামবাসীর ভয়ে তারা গ্রামে আসছে না এবং জমি চাষাবাদ-ধান কাটছে না।

সরেজমিনে জানা যায়, একটি বিরোধপুর্ন জমি নিয়ে হামলা-মামলার কারণে আব্দুল আলীম মেম্বর-আয়ুব আলী বাহিনীর সাথে সরাইহাজীপুর গ্রামের শামসুল হক গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্ধ চলছিল। এনিয়ে আদালাতে মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। এ অবস্থায় আলীম-আয়ুব বাহিনী ভুক্তভোগী শামসুল হক ও তাদের স্বজনদের গত তিনমাস যাবত এলাকায় যেতে দিচ্ছে না। জমিতে চাষাবাদ করতে দিচ্ছে না। জমিতে গেলেই আলীম-আয়ুব বাহিনী লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাড়িয়ে দিচ্ছে। অসহায় পরিবার মানুষগুলো পুলিশ ও প্রশাসনের শরনাপন্ন হলেও তারা নিচ্ছে না কোন ব্যবস্থা।

ভুক্তভোগী ফজলুল হক জানান, আলীম মেম্বর-আয়ুব বাহিনীর আলামিন, মামুন, শাহিন, বাঘা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বড় ভাই শামসুল হককে মারপিট করে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি পঙ্গু অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। শুধু তাকেই নয়, তাদের পক্ষের সের আলীর কান কেটে দিয়েছে। বোন মনোয়ার খাতুন, মোস্তফা ও বারীককে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে। সকলেই পঙ্গুত্ব অবস্থায় জীবনযাপন করছে। তার উপরে এ সকল লোকদের এলাকায় ঢুকতে দিচ্ছে না। সবসময় এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এ অবস্থায় ৮-১০টি পরিবার বাড়ীতে যেতে না পেরে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বৃদ্ধ আব্দুস সোবহান, আব্দুস সালাম, আব্দুল লতিফ ও আবুল হোসেন জানান, বিরোধপুর্ন জমি আয়ুব বাহিনীর দখলেই রয়েছে। তারপরেও নিজেদের পৌত্রিক সম্পত্তিতে বাঁধা দেয়ার কারণে ফসল কাটতে না পারায় প্রায় অর্ধশতাধিক বিঘা জমির পাকা ধান ও সরিষা জমিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ধান কাটতে গেলেই আলীম ও আয়ুব বাহিনীর লোকের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাড়া করে ফিরিয়ে দিয়েছে। এঅবস্থায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান রোপন করতে না দেয়ায় সব জমি পতিত রয়েছে।

তারা জানান, আমাদের জীবনজীবিকা জমির আবাদের উপরই নির্ভরশীল। ফসল তুলতে না পারায় ইতোমধ্যে পরিবারের অভাব-অনটন শুরু হয়েছে। ঘর থেকে বের হতে না দেয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য জোগাড় করতে পারছে না। বিষয়টি বারবার পুলিশকে জানাতে গেলে উল্টো আমাদেরকেই গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনকে জানালেই তারাও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

গৃহবধু মনোয়ারা খাতুন, জহুরা খাতুন, ইতি খাতুন ও মমতা খাতুন জানান, আমাদের স্বামী-স্বজনদের বাড়ীতে আসতে দিচ্ছে না। পরিবারের কাউকে বাজারে যেতে দিচ্ছে না। ঘর থেকে বের হলেও মারপিট করার জন্য তেড়ে আসে। ছেলে-মেয়েরা স্কুল কলেজে যেতে পারছে না। আমরা পুরোপুরি গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছি।

ভুক্তভোগী নবম শ্রেনীর এমদাদুল হক জানান, বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাবার পথেই লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করে। ভয়ে স্কুলে যেতে পারছি না। আমাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে প্রতিপক্ষ আব্দুল আলীম মেম্বর ও আইয়ুব বলেন, গ্রামে ঢুকতে ও ধান কাটাসহ চাষাবাদে বাঁধা দেয়া হয়নি। জমি দখলসহ আয়ুব আলীকে মারপিট করার পর গ্রামবাসীর ভয়ে তারা নিজেরাই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে।

প্রভাবশালী আব্দুল আলীম ও আয়ুবের সুরে সুর মিলিয়ে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, তাদেরকে কেউ গ্রামে ঢুকতে বাঁধা দেয়নি। তারা নিজের ইচ্ছায় গ্রাম আসছে না এবং জমির ফসল কাটছে বা ধান রোপন করছে না।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল আখতার জানান, জমির ধান নষ্ট হোক আর পতিত থাক আমাদের দেখার বিষয় নয়। কারণ বিষয়টি নিরসনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য দায়িত্ব নিয়েছেন। যে কারণে আমাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে সংসদ সদস্য কোন সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করব।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন জানান, আমি কোন মিমাংসার দায়িত্ব নেয়নি। উপজেলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন হলে প্রশাসনই পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।

(এমএসএম/এসপি/মার্চ ১৪, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test