E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণ চেষ্টায় শিক্ষক আটক

২০১৮ মার্চ ২৫ ১৫:৪৮:২৪
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণ চেষ্টায় শিক্ষক আটক

চাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী (১২) ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ মোঃ ওসমান গণি (২৩) নামে ওই শিক্ষককে আটক করে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির বিজয়পুর গ্রামে।

জানা যায়, ওই গ্রামের কেরানী বাড়ির ফয়েজ আহম্মদের কন্যা (১২) একই গ্রামের পূর্ব পাড়া মিয়াজী বাড়ির সম্মুখে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বিজয়পুর দারুল উলূম মাদ্রাসার নূরাণি বিভাগে অধ্যয়নরত। গত ১৮ মার্চ শনিবার সকাল ৮টায় মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠ গ্রহণের জন্য যায়। সকাল ১১টায় মাদ্রাসার নূরাণি বিভাগের শিক্ষক মোঃ ওসমান গণি একটি জগ নিয়ে দোতলা ভবন থেকে নিচতলায় পানির জন্য পাঠায়। ওই সময় শিক্ষক তার পিছু পিছু নিচে নেমে আসে। ওই শিক্ষার্থী টিউবয়েল থেকে পানি নেয়ার সময় ওসমান গণি জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ওই সময় ওসমান তার পড়নের বস্ত্র খুলে শ্লীলতাহানী করে।

ওসমান তার সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে শিশু শিক্ষার্থী চিৎকার শুরু করলে তাকে ছেড়ে দ্রুত সরে পড়ে। পরে শিশুটি পানি নিয়ে মাদ্রাসার দোতলায় গিয়ে চুপচাপ থাকায় সহপাঠি শিক্ষার্থীরা তাকে বিভিন্ন কথা জিজ্ঞাসা করতে থাকে। সে কিছু না বলে বেলা ১২টায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাড়ি ফিরে আসে। বাড়িতে কান্না করার বিষয়টি তার মা নুরুন্নাহার (৫০) জিজ্ঞাসা করলে সে কিছুই বলতে চায় না।

এক পর্যায়ে তার মা একই বাড়ির সুলতান আহম্মদের স্ত্রী মশু বেগম ও মোসলেহ উদ্দিনের স্ত্রীকে ডেকে তার কাছ থেকে বিষয়টি অবগত হয়ে শিশুটির পিতা ফয়েজ আহম্মদকে অবগত করে। ফয়েজ আহম্মদ বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ খোরশেদ আলম, এলাকার আবদুল হান্নান, সুলতান আহম্মদ ও ইউসুফ আহমেদকে জানায়। স্থানীয়রা বিষয়টি অবগত হয়ে মীমাংসার চেষ্টায় কালক্ষেপন করে। পরবর্তীতে শিশুর পিতা তার আত্মীয় স্বজনের বিষয়টি অবগত করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৮, তাং-২৩/০৩/২০১৮ খ্রিঃ। মামলার পর থানা পুলিশ শুক্রবার অভিযুক্ত শিক্ষক ওসমান গণিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

শিশু শিক্ষার্থীর পিতা ফয়েজ আহম্মদ জানান, আমার মেয়ে স্থানীয় বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। ২০১৭ সালে সে ফলাফল ভাল না করায় সেখান থেকে চলতি বছরে ওই মাদ্রাসার নূরাণি বিভাগে ভর্তি করাই। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার শুরুতেই আমার মেয়ে এ অবস্থার শিকার হয়েছে। আমি আইনগতভাবে এর ন্যায় বিচার দাবি করছি। তাছাড়া ঘটনাকারীর পক্ষে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবস্থান করছে। তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকী ধমকি দিচ্ছে। ঘটনার পর তারাই স্থানীয় বিচারের আশায় আমাকে কোন ব্যবস্থা নিতে সুযোগ দেয়নি।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। ঘটনা জানার পর ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছে। আমরা শুক্রবার আসামীকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছি। পাশাপাশি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যে ঘটনাগুলো গ্রাম্য সালিশের আওতায় নয় সেটি নিয়ে বিচার-সালিশ করা না হয়। এরুপ ঘটনা ঘটলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবগত করে দোষীদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে সকলের সহযোগিতা আশা করছি।

স্থানীয়দের দাবি, একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার শুরুতে এরুপ ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কঠোর দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।

(ইউএস/এসপি/মার্চ ২৫, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৫ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test