E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

কর্ণফুলীতে বাড়ছে এলপি গ্যাসের চাহিদা বাড়ছেনা ব্যবহারের নিরাপত্তা

২০১৮ এপ্রিল ২০ ২৩:১৬:৩৩
কর্ণফুলীতে বাড়ছে এলপি গ্যাসের চাহিদা বাড়ছেনা ব্যবহারের নিরাপত্তা

জে জাহেদ, চট্টগ্রাম : নতুন করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় কর্ণফুলীতে বাড়ছে এলপি গ্যাসের চাহিদা। বাড়ছেনা ব্যবহারের নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপক কোন যন্ত্র ছাড়াই ঘরে ঘরে এলপি গ্যাস ব্যবহার।

অনেকে নতুন করে এসবের নাম দিয়েছেন বোতল বোমা। ফলে যানবাহন ও গৃহস্থালি জ্বালানির গ্যাস সিলিন্ডার ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

নিম্নমানের সিলিন্ডার ও কিটস ব্যবহার, ৫ বছর পরপর রিটেস্ট না করাসহ বিভিন্ন কারণে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও হতাহত এবং আগুন লাগার খবর কর্ণফুলীতে বাড়ছে।

জানা গেছে, উপজেলার কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছেই। ফায়ার সার্ভিস অনেকটা বিদ্যুতের শর্টসার্কিট, সিগারেটের আগুন বলে ধারণা করলেও। যার গভীরে রয়েছে এসব গ্যাসের বোতলে আগুন লাগার খবর।এসব মৃত্যুসঙ্গী বোমা ঘরে নিয়েই বসবাস করছে উপজেলার প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ।

তথ্যমতে, কিছুদিন পুর্বে পুরাতন ব্রিজঘাট চত¡ের ১৬টি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মূলত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ আগুনের সুত্রপাত বলে খবর পাওয়া যায় ।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, বাংলাদেশে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে যারা ব্যবসা করছেন তারাই আবার এই সিলিন্ডার পরীক্ষার সনদ দিয়ে থাকেন। সিলিন্ডারের সমস্যার কারণ থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তথ্যসুত্রে, কর্ণফুলীতে ছোটবড় দুশতাধিক মিল ফ্যাক্টরীতে ব্যবহার হচ্ছে প্রচুর গ্যাস বোতল। আশেপাশে বসতবাড়ি। উপজেলায় নেই ফায়ার সার্ভিস। শহর হতে দমকল বাহিনী আসতে আসতে ৫০% পুড়ে ছাই।

এমনকি মহাসড়কে ও উপজেলায় চলাচল করা যানবাহনের একেকটিতে ২থেকে ৬টি সিলিন্ডার পর্যন্ত সংযোজন করা হয়। যেন বোমা বহনকারী গাড়িতে আমরা চলছি প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতায়।

দেখা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহার ক্রসিং,কলেজ বাজার,মইজ্জারটেক বাজার,সৈন্যেরটেক বাজার,ফকিরন্নির বাজার বোর্ড বাজার,ইছানগর বাজার,চরপাথরঘাটা বাজারের অর্ধশত দোকানে গ্যাসের বোতল বিক্রি করছে অবাধে। নেই কোন সরকারের নজরধারী।

সবচেয়ে বড় সমস্যা নিয়মবিধিতে খুচরা দোকানে ১০টার অধিক বোতল না রাখার আইন থাকলেও বহু বোতল মজুত করছে বহু দোকানদার। মানছেনা আইন, নিরাপত্তাহীনতায় জনগণ যেন বসবাস করছে বোতলজাত গ্যাস বোমার উপর।

সরেজমিনে আমাদের প্রতিবেদক ঘুরে দেখেন উপজেলার সবকটি বাজার। নজরে পড়ে শিকলবাহার ক্রসিং মহাসড়কের উপর বিসমিল্লাহ ট্রেডিং নামক দোকানে। যে দোকানে কয়েক হাজার গ্যাস বোতলের স্তুপ।

পাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাতের বেলায় এসব বোতল ফুলিং করে দোকানদার। বড় বোতল হতে ছোট বোতলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে গ্যাস ভর্তি করে। প্রধান সড়কে প্রকাশ্যে তা কিভাবে বাজারজাত করছে তা বোধগম্য নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিএনজি সিলিন্ডারে প্রতি বর্গইঞ্চিতে তিন হাজার ২০০ পাউন্ড চাপে গ্যাস ভরা হয়, ঐ সময় গাড়ি ভয়াবহ বোমা হয়ে বিস্ফোরণের বিপদ সৃষ্টি করতে পারে, এ আশঙ্কা রোধে গ্যাস সিলিন্ডারের সঠিক মান রক্ষা করা জরুরি।

প্রতিটি সিলিন্ডারের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। দশ থেকে ১৫ বছর। এরপর সেগুলো ধ্বংস করে ফেলতে হয়। কিন্তু দেশে গাড়িতে যেটা ১০ বছর বা ১৫ বছর আগে লাগানো হয় সেটা চলতেই থাকে। একই অবস্থা বাসাবাড়ির বোতল গ্যাসের। সেগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং যে কোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণ কতৃপক্ষ নজর প্রত্যাশা করেছেন। সিলিন্ডারের মান পরীক্ষা সংস্থা বিস্ফোরক অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান,নিয়ম মতে খুচরা দোকানে ১০ বোতল গ্যাস এবং পরিবেশক বা ডিলার ২০০/৫০০ বোতন মজুদ রাখতে পারে। কিন্তু জনবলের অভাবে রিটেস্ট সম্ভব হয় না বলে গ্রামের বাজারে যেমন ইচ্ছা তেমন বাজারজাত ও প্রক্রিয়াকরণ করছে বোতল গ্যাস।

অন্যদিকে যদিও জনবল কম, সেক্ষেত্রে নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কতৃক প্রজ্ঞাপন জারি কিংবা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার আবেদন অনেকের।

এসব দোকানে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন কার্যকর করার কথাও জানিয়েন কর্ণফুলীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহ জাহান। জানা গেছে, চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে বছরে ১৪ হাজার টন গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে বোতলজাত করে বিপিসি। কর্ণফুলীর বিন হাবিব এলপি গ্যাস কোম্পানী বছরে ১০হাজার টনের অধিক গ্যাস বোতল বাজারে ছাড়ে। এসব সিলিন্ডার বোতল অনেক পুরনো। এগুলোর মধ্যে ১৯৮১ সালের সিলিন্ডারও রয়েছে। বিশেষ করে সিলিন্ডারের মুখের ভাল্ব ৩০ বছরের পুরনো। এসব ভাল্ব দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে যায়। ফলে কিছুদিন পুর্বে ইছানগরের বিন হাবিব প্লান্ট রক্ষিত সিলিন্ডারে গ্যাস ভরানোর সময় ও আগুন লাগে।

সচেতনতা ও অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটছে। সরকারিভাবে সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা নেই। গ্রাহকদের সচেতন করার বিষয়েও নেই কোনো কার্যক্রম ও তৎপরতা।

কোম্পানিগুলো যে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে বিক্রি করছে তারও যাচাই-বাছাই করার সুযোগ কম। এলপি গ্যাস ব্যবহারের নতুন নীতিমালা তৈরি হয়েছে গত সপ্তাহে। তবে এ সমস্যার সমাধান হবে কিনা সেটাই এখন জনগণের প্রশ্ন।
নাকি হঠাৎ হঠাৎ লিখতে হবে জনগণের সম্পদ ও মানুষ পুড়ার নিমর্ম খবর।

(জেজে/এসপি/এপ্রিল ২০, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৮ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test