E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

শিরোনাম:

অবাধে চলছে অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা

ভুল অস্ত্রোপচারে ২০ রোগী অন্ধ হলেও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা! 

২০১৮ মে ০৫ ১৫:২৮:৪৩
ভুল অস্ত্রোপচারে ২০ রোগী অন্ধ হলেও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা! 

তৌহিদ তুহিন, চুয়াডাঙ্গা : জীবননগর উপজেলায় একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি সেবার নামে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে চিকিৎসার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে প্রতিনিয়ত । লইসেন্সপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে যেসব শর্ত মানার কথা, তার কিছুই মানা হচ্ছে না এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। অভিযোগ রয়েছে, সিভিল সার্জন অফিসের সবুজ সঙ্কেতে এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকরা অবাধে তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে ২০ জন রোগী অন্ধ হয়ে গেলেও লইসেন্সবিহীন এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের টনক নড়েনি। এ কারণে উপজেলার সচেতন মহলের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, জীবননগর উপজেলায় আটটি ক্লিনিকের মধ্যে চলতি বছরে শুধু একটি ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন করা আছে এবং উপজেলার ৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে শুধু ৩টির লাইসেন্স থাকলেও নবায়ন করা আছে মাত্র একটির।

মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিনেন্স ১৯৮২ তে বলা হয়েছে, ১০ শয্যাবিশিষ্ট ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও নির্ধারিত স্থান সম্বলিত নির্দিষ্ট কক্ষ, অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, তিনজন বিশেষজ্ঞ ও আবাসিক চিকিৎসক, একজন সার্জন ও তিনজন স্টাফনার্স থাকতে হবে।

এসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বেসরকারি পর্যায়ে ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার কথা। কিন্তু জীবননগরে এসবের কোনো কিছুই মানা হচ্ছে না। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একেবারেই নজরদারি নেই। জীবননগর উপজেলা শহরে আটটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছাড়া অধিকাংশ ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও সেবিকা নেই।

এ ছাড়া যথোপযুক্ত অস্ত্রোপচার কক্ষ ও নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছেন এবং আনাড়ি চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে অনেক রোগী এর আগে মারা গেছেন এবং ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অনেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, ক্লিনিকগুলোতে নিজস্ব কোনো সার্জন বা চিকিৎসক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কোনো সেবীকা না থাকায় ভাড়াটিয়া চিকিৎসক ও সেবীকা দিয়েই এসব ক্লিনিক চালানো হচ্ছে। উপজেলার ক্লিনিক মালিকরা সিন্ডিকেট গড়ে মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে রোগীদের সঙ্গে নিয়মিত প্রতারণা করে চলেছেন। এসব অবৈধ ক্লিনিকের কিছু দালাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের ্র প্রধান ফটকের মুখে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসব দালাল হাসপাতালে আসা রোগীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি করেন।

এদিকে বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় চিকিৎসকের কাছে রোগী গেলেই প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে নানাবিধ পরীক্ষা করার জন্য তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অথচ দু’একটি বাদে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো প্যাথলজিস্ট বা আলট্রাসনোলজিস্ট নেই। টেকনেশিয়ানরাই এসব পরীক্ষা করে রোগীর হাতে রিপোর্ট ধরিয়ে দেন। একজন রোগীকে একই সময়ে পৃথক দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে দু’রকম রিপোর্ট পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. মো. খাইরুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরদ্ধে খুব শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(টিটি/এসপি/মে ০৫, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test