E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

সরকারি জমি স্কুলে বিক্রি

২০১৮ মে ২৯ ১৫:৫৫:৪২
সরকারি জমি স্কুলে বিক্রি

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার বাবুখালী ইউনিয়নের একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাছে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি মাগুরা জেলা প্রশাসকের কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইমরান মৃধা নামে এক ব্যক্তি।

লিখিত অভিযোগে ইমরান জানিয়েছেন, বাবুখালী ইউনিয়নের সুলতানসি ১৩ নম্বর মৌজার ১৭৩, ১৭৪, ১৭৫, ১৭৬ দাগের ৫৮ শতকও ২১৮ দাগের ৫ শতক সর্বমোট ৬৩ শতক জমির মুলমালিক ছিলেন সুলতানসি এলাকার শাহজাহান মৃধা ও নছের উদ্দিন মোল্যা। ১৯৬৫ সালে ভারতীয় শরনার্থী শিবির স্থাপনের জন্য তৎকালীন বৃহত্তর যশোর জেলা প্রশাসকের সরকারি মালিকানায় (দলিল নম্বর ১৪৩১/৬৫) এই ৬৩ শতক জমি হস্তান্তর করেন। যা বাবদ সরকারিভাবে তাদের ৫৮ হাজার টাকা মুল্য দেয়া হয়।

এ সময় মাগুরা যশোরের অধীনে একটি মহকুমা ছিল। ১৯৭১ সালে মারা যান শাহজাহান মৃধা। দীর্ঘ দিন পর ২০১২ সালে দানকৃত ওই জমির মধ্যে ১৭৩ ও ১৭৬ দাগের ১৯ শতক জমি নিজেদের মালিকানাধিন দেখিয়ে মৃত শাহজাহান মৃধার ছেলে গোলাম আকবর মৃধা, গোলামতকব্বর মৃধা, মনোব্বর মৃধা, সরোয়ার মৃধা বাবুখালী আফতাব উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাছে ৮ লাখ টাকা মুল্যে ( দলিল নম্বর ১৩৭০/১২) বিক্রি করেছেন। অথচ ১৯৬৫ সালে সরকারের অনুকুলে বিক্রি করা জমির দলিলে দেখা যায় ১৭৩, ১৭৪, ১৭৫, ১৭৬ এই চার দাগের ১৬ আনা অংশই মালিকানাসুত্রে সরকারি ভোগ দখল করার যোগ্য হবে।

একই জমি রকারের কাছে ও পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে স্কুলের কাছে বিক্রির এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু এই জমি জালিয়াতি নয় প্রতার কচক্রটি ২০০৭ সালে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে স্কুল চত্বরের একটি সরকারি গভীর নলকুপ গোটা স্থাপনাসহ তুলে নিয়ে গেছে। যে ঘটনায় আবুল কালাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি আকবর মৃধা ও তকব্বর মৃধার নামে মহম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগে ইমরান মৃধা আরো জানিয়েছেন, জমি জালিয়াতির এ ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন আফতাব উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক রতন আলী খান ও সহকারি শিক্ষক আবু সাঈদ। তারা দুজন দাতা সদস্য তকব্বর মৃধাকে সাথে নিয়ে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতি চালিয়ে আসছেন। যথাযথ তদন্তে যার প্রমাণ মিলবে।

সুলতানসি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা দবিরমৃধা এ বিষয়ে জানান, এই জমি বিক্রির মাধ্যমে নগদ টাকা গ্রহণের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে বিক্রেতাগণের মধ্যে তকব্বর মৃধা নিজে আফতাব উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আজিবন দাতা সদস্য হয়েছেন। অথচ বিনামুল্যে জমিদান ছাড়া এ ধরনের স্কুলে দাতা সদস্য হবার কোন নিয়ম নেই।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে গোলাম আকবর মৃধা বলেন, ‘স্কুলের কাছে বিক্রি করা জমির প্রকৃত মালিক তারাই। তাদের নামে এ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এলাকার একটি প্রতিপক্ষ গ্রুপ শত্রুতাবশত তাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে’।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক রতন আলী খান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে একইভাবে এটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

মাগুরা জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্যে ৩০ মে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিযোগকারিদের মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তথ্য প্রমানসহ উপস্থিত হতে বলা হয়েছে’।

(ডিসি/এসপি/মে ২৯, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test