Pasteurized and Homogenized Full Cream Liquid Milk
E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

সরকারী নীতিমালা উপেক্ষিত

ঘাটাইলে অর্থের বিনিময়ে দাখিল মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ

২০১৮ জুলাই ২২ ১৬:৩৫:০৩
ঘাটাইলে অর্থের বিনিময়ে দাখিল মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ছয়আনী বকশিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারী নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে অকৃতকার্য প্রার্থীকে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতির ভগ্নিপতিকে নিয়োগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী একাধিক চাকরিপ্রার্থী অভিযোগ করেছেন।

কর্তৃপক্ষ অভিযোগের তোয়াক্কা না করে রহস্যজনকভাবে গত ২০ জুলাই নিয়োগ প্রদান করেছেন। চাকরি প্রার্থী ফরিদুজ্জামান জানান তিনি ইতিপূর্বে ওই পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করলেও তাকে পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি। পরে তিনি টাঙ্গাইল আদালতে ওই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা জনিত কারনে দেড় বছর ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। ফরিদুজ্জামানকে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে তার নিকট থেকে ৩ লাখ টাকা নেয় এবং আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করে।

স্থানীয়রা জানায় ওই ছয়আনী বকশিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দপ্তরী নিয়োগে ১৩ জন প্রার্থী আবেদন করে। কিন্তু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মাদ্রাসা সুপার যোগসাজসে পরীক্ষার আগের দিন রাতে পিয়ন দিয়ে পরীক্ষার চিঠি বিতরণ করে। একারণে ৭ জন প্রার্থী ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন নাই। মাদ্রাসা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ২ জন প্রার্থী আলাদা আলাদা মামলা দায়ের করে। একটি মামলা শর্ত সাপেক্ষে মিমাংসা হলেও অন্য মামলাটি মাদ্রাসা সভাপতি একতরফাভাবে ডিক্রী নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালায়। যাকে চাকরি দেয়ার শর্তে আপোষ নামা করেন তাকে চাকরি না দিয়ে সভাপতির ভগ্নিপতির নিকট থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে অবৈধ পন্থায় তাকে নিয়োগ দেন।

স্থানীয়রা ওই নিয়োগের তীব্র বিরোধীতা করায় পুলিশ প্রহরায় কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা নেয়। এছাড়া ওই মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক মিন্টু একটি খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। তিনি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তিনি এ পদটিও কৌশলে লুফে নিয়েছেন। এলাকাবাসীর সাথে তার কোন সুসম্পর্ক নেই। জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ। তিনি দীর্ঘ ৬ বছর নাগাদ একই কর্মস্থলে কর্মরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক মিন্টুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দপ্তরি নিয়োগে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে নিয়োগ প্রাপ্ত রুবেল তার ভগ্নিপতি একথা স্বীকার করেন। ছয়আনী বকশিয়া মাদ্রাসার সুপার আঃ লতিফ মিয়া বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবেই মাদ্রাসা বোর্ডের পরিদর্শক বাদশা মিয়ার উপস্থিতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। এখানে এককভাবে আমাদের কোন এখতিয়ার নেই।

এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম সামছুল হক জানান, তিনি নিয়োগ বোর্ডের একজন সদস্য মাত্র। এখানে মাদ্রাসা বোর্ডের প্রতিনিধিই একমাত্র নিয়োগের ক্ষমতা রাখেন।

(আরকেপি/এসপি/জুলাই ২২, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৯ জুলাই ২০১৯

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test