E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

কলেজছাত্র হাবিবুল্লাহ হত্যা : একজনের ফাাঁসি, দুইজনের যাবজ্জীবন 

২০১৮ জুলাই ২৩ ১৫:৫২:২২
কলেজছাত্র হাবিবুল্লাহ হত্যা : একজনের ফাাঁসি, দুইজনের যাবজ্জীবন 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কলেজ ছাত্র চাঞ্চল্যকর হাবিবুল্লাহ হত্যা মামলায় এক আসামীকে ফাঁসিতে ঝুৃলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, দু’জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও ১০ জনকে  সোয়া এক থেকে  সোয়া চার বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক অরুনাভ চক্রবর্তী এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী ডাঃ সাইফুল্লাহ পলাতক রয়েছেন।

ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামীর নাম ডাঃ সাইফুল্লাহ (৩৫)। তিনি আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া গ্রামের ইন্তাজ সরদারের ছেলে। অপর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন বাঁকড়া গ্রামের রাজ্জাক সরদারের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (২৯) ও একই গ্রামের কালাম সরদারের ছেলে মামুন সরদার (৩১)।

বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, বাঁকড়া গ্রামের মোকছেদ সরদারের ছেলে ডাঃ জুলফিকার (৪৬), হাসান সরদার (৩৬), মাহমুদ সরদারের ছেলে মালেক সরদার (৪৬), নিয়ামউদ্দিন সরদারের ছেলে সালাম সরদার (৪৭), মাহমুদ সরদারের ছেলে রব্বানী সরদার (৩১), জামাল সরদারের ছেলে টুকু সরদার (৩৬), ইনতাজ সরদারের ছেলে বিল্লাল সরদার (৩১), লুৎফর রহমান সরদারের ছেলে পিণ্টু সরদার (৩৬), আতিয়ার সরদারের ছেলে জালাল সরদার (৪৯), নেছারউদ্দিন গাজীর ছেলে আব্দুর রহিম গাজী (৩১)।

এদিকে মামলার রায়কে ঘিরে সোমবার সকাল ৯টা থেকে আসামীপক্ষ ও বাদিপক্ষের স্বজনদের আদালত পাড়ায় ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নিরাপত্তা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া গ্রামের একটি গভীর নলকুপের সুপেয় পানি সরকারিভাবে কার্ডের মাধ্যমে বিতরন করা হয়। পানি বিতরনের জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি ওই গ্রামের আলিমুদ্দিন সরদার। ২০১৪ সালের ১১ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে খাওয়ার পানি বিতরনকে কেন্দ্র করে আশাশুনির বাঁকড়া গ্রামের পানি বিতরন কমিটির সভাপতি আলিমুদ্দিন সরদারের ছেলে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হাবিবুল্লাহ সরদারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলিমুদ্দিন সরদার বাদি হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০/১৫০ জনের বিরুদ্ধে ১২ জুলাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক লুৎফর রহমান ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ৩৫জন আসামীর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে অভিযোগ গঠণ করা হয়। গত ৫ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিনে ইনতাজ সরদারের ছেলে নিজামউদ্দিন সরদার, তার ভাই খায়রুল্লাহ সরদার ও তাদের ভগ্নিপতি কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল গ্রামের তাজুল সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম পালিয়ে যায়।

এদিকে ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি মহামান্য হাইকোর্টে এ মামলার ৩৫ জন আসামীর জামিন আদেশ খারিজ হলেও ১১ জানুয়ারি জামিন সংক্রান্ত এক ভুয়া আদেশে আসামীরা জামিন লাভ করার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিষ্টার আবু মোঃ সালাহউদ্দিন বাদি হয়ে ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকার শাহবাগ থানায় ৩৫জন আসামীসহ তাদের নিযুক্তীয় আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রতারনার মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক হাসানুজ্জামান ও আনোয়ারুল ইসলামের হাত ঘুরে বর্তমানে দুদকের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মানষী বিশ্বাসের কাছে তদন্তাধীন।

মামলার নথি ও ১৪ জনের সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে আসামী ডাঃ সাইফুল্লাহ এর বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা, ৩০৪ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জিয়ারুল ইসলাম ও মামুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মারপিটের অভিযোগে ডাঃ জুলফিকার (৪৬), হাসান সরদার (৩৬), মালেক সরদার (৪৬), সালাম সরদার (৪৭), রব্বানী সরদার (৩১), টুকু সরদার (৩৬), বিল্লাল সরদার (৩১), পিণ্টু সরদার (৩৬), জালাল সরদার (৪৯), আব্দুর রহিম গাজীকে (৩১) সোয়া এক বছর থেকে সোয়া চার বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাঁকড়া গ্রামের নিজামউদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক, সেলিম সরদার, কালাম সরদার, খায়রুল্লাহ সরদার, ইমামুন হোসেন, আলী সরদার, এবাদুল হক, ইউসুফ সরদার, আনারুল সরদার, রবিউল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম, মাসুদ হোসেন, আলম সরদার, ইসলাম গাজী, মজনু সরদার, ইন্তাজ আলী সরদার, আছাফুর রহমান, ফজলু সরদার, লাভলু সরদার, শহীদুল্লাহ বাবলু ও কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল গ্রামের রফিকুল ইসলামকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের হাজতীর সময়কাল সাজার মেয়াদকাল থেকে বাদ যাবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন, জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. তপন কুমার দাস, অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. আব্দুস সামাদ, অ্যাড. জিএম লুৎফর রহমান, অ্যাড. অজয় কুমার সরকার, অ্যাড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, অ্যাড. শহীদুল ইসলাম পিণ্টু প্রমুখ।

আসামীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. এসএম হায়দার আলী, অতিরিক্ত পিপি অ্যাড.নিজামউদ্দিন, অ্যাড. জুহুরুল ইসলাম, অ্যাড. মনিরউদ্দিন প্রমুখ।

জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. তপন কুমার দাস বলেন চার বছর ১১ দিনে মামলাটির বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের রায়ে ন্যয় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. এসএম হায়দার আলী বলেন, মামলার আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নিহত হাবিবুল্লাহ সরদারের মা মোছাঃ মনোয়ারা খাতুন ও বাবা আলিমুদ্দিন সরদার রায় প্রদানকালে এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। এজলাস থেকে বেরিয়ে তারা সাংবাদিকদের বলেন, এ রায় তারা খুশী হতে পারেননি। রায়ের সত্যায়িত কপি হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

(আরকে/এসপি/জুলাই ২৩, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

২১ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test