E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

আশুলিয়ায় অপহৃত দুই কর্মচরীকে ২ লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপনে সিলেটে উদ্ধার, আটক ১০

২০১৮ জুলাই ২৫ ১৫:৪১:৫৬
আশুলিয়ায় অপহৃত দুই কর্মচরীকে ২ লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপনে সিলেটে উদ্ধার, আটক ১০

স্টাফ রিপোর্টার : আশুলিয়া থেকে অপহৃত শামস ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ইন্টার কলি-২ নামক এলুমিনিয়াম থাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারীকে ২ লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ দিয়ে সিলেটের কুলাউড়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণের সাথে জড়িত ১০ অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ১১ অপহরণকারিসহ অনেকের বিরুদ্ধে পরষ্পর যোগসাজসে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে চাঁদা আদায় ও মারধরের অভিযোগে কুলাউড়া থানায় মামলা করেছে অপহৃতরা। মঙ্গলবার সকালে ছাড়া পেয়ে অপহৃতরা আশুলিয়ায় পৌঁছেছে।

উদ্ধার হওয়া অপহৃত কর্মচারী সোলেমান যশোর জেলার মনিরামপুর থানাধীন শেখপাড়া রহিতা এলাকার সালাম খন্দকারের ছেলে। জাকির হোসেন মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার হরগজ এলাকার আবুল হাসেমের ছেলে। এর আগে গত ২০ জুলাই ইন্টার কলি নামক একটি থাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিল্ডিংয়ের থাই গ্লাস লাগানোর নাম করে সোলেমান ও জাকিরকে সিলেটের কুলাউড়া নিয়ে যায় মামুন নামের এক ব্যক্তি। একইদিন রাত ৩টায় কর্মচারী জাকিরের মোবাইল ফোন থেকে এক অজ্ঞাত লোক অপহরণের কথা জানিয়ে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় তাদেরকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। এঘটনায় আশুলিয়া থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক জামাল উদ্দিন। এ ব্যাপারে পুলিশ কোন তৎপরতা না দেখালে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়।

এদিকে উদ্ধারের পর কুলাউড়া থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে সোলেমান ও জাকির উল্লেখ করেন, ‘ঘটনার দিন বেলা ১১টারদিকে দু’জন অজ্ঞাত লোক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানায় তাদের বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া এলাকায়। অভিজ্ঞ কারিগড় পেলে তাদের বাড়িতে বিল্ডিংয়ের থাই গ্লাস এর কাজ করাবেন। তাদের কথায় বিশ^াস করে দোকান মালিক জালাল উদ্দিন থাই গ্লাসের মাপ নেয়ার জন্যে আমাদের দু’জনকে তাদের সঙ্গে পাঠায়। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২ টারদিকে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে শ্যামলী পরিবহণে কুলাউড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে রাত সাড়ে ১২টায় কুলাউড়া বাসস্ট্যান্ডে অজ্ঞাতনামা ওই দুই ব্যক্তির সাথে নেমে পড়ি।

ওখান থেকে সিএনজিযোগে রাত ২টারদিকে লংলা খাস আবাসন টাটুয়া বাড়িতে নিয়ে যায় তারা। সেখানে কিসমত আলী, সফিকুর রহমান, কুদ্দুছ মিয়া, আজর মিয়া, লিটন আহমদ রাব্বি, আয়শা খাতুন, হোসনা বেগম, নাছিমা বেগমসহ আরো অনেকে অবস্থান করছে। লিটন মিয়া সেখানে ঘরের ভিতরে একটি কক্ষে আমাদের বসিয়ে রাখে। পরে আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করে। কিছুক্ষণ পর কাজ কোথায় জানতে চাইলে লিটন জানায়, যেখানে কাজ সেখানে ঘুমানোর জন্যে যেতে হবে। পরে বাড়ি থেকে বের হলে মন্তাজ আলী, মিছির, লিটন, রাব্বি, কুদ্দুছ, সফিকুর ও বাবুল (ঢাকা থেকে আগত) আমাদেরকে লংলা খাসের জঙ্গলে নিয়ে দু’জনের হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। আমাদের কাছে থাকা মোবাইল নিয়ে যায়।

এরপর আমাদের অকথ্য নির্যাতন চালায় এবং বলে তোদের প্রচুর টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে তাদের মেরে জঙ্গলে ফেলে রাখবে বলেও হুমকি দেয়। এরপর আমাদের প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে মোবাইলে টাকা চাওয়ায় আমাদের দ্বারা। পরে মালিক পর্যায়ক্রমে টাকা দিলে ২১ জুলাই বেলা সাড়ে ৪টায় হাত, পা ও চোখের বাঁধন খুলে দিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় লংলা খাস আবাসন টাটুয়ায় আসামী লিটন আহমদ রাব্বির বাড়ি হতে আসামী মিছির, কুদ্দুছ ও সফিকুরসহ অজ্ঞাতনামা লোকজন আমাদের সিএনজিতে উঠিয়ে কুলাউড়া শ্যামলী পরিবহণ বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়।

আমরা লোকদের মাধ্যমে জেনে কুলাউড়া থানায় গিয়ে বিস্তারিত পুলিশকে জানাই। কুলাউড়া পুলিশ আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এবং আমাদেরকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়। সেখানে উল্লেখিত ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছে মুক্তিপণের টাকা নেয়া মোবাইলও উদ্ধার হয়।

এদিকে এই ঘটনার মূল হোতা তুহিন বাবু ড্যান্স একাডেমির মালিক বাবুল ওরফে বাবু বলে জানা গেছে। কিন্তু তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুুলিশ। তুহিনের দোকানের সাইনবোর্ডে থাকা নম্বরেই ৩৫ হাজার টাকা নেয় অপহরণকারীরা।

এলাকাবাসী জানায়, তুহিন দীর্ঘদিন যাবৎ ওই এলাকায় থাকে। যদিও একটি দোকানে সাইনবোর্ড সাঁটানো। তবে সে ওই ড্যান্স একাডেমিতে কোন কার্যক্রম পরিচালনা করে না। সে হোন্ডা নিয়ে সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ায়। তার চলাফেরা আশঙ্কাজনক। কোথায় স্থায়ী ঠিকানা তাও তারা জানেন না।

(টি/এসপি/জুলাই ২৫, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৬ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test