E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

বরগুনার আমতলী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দী

২০১৮ জুলাই ২৮ ১৭:৫৪:০৪
বরগুনার আমতলী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দী

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : সৈয়দ নুহু উল আলম নবীন।। প্রবল বৃষ্টিপাতে পায়রা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার উপজেলার বালিয়াতলী, ঘোপখালী, পশুর বুনিয়া, জয়ালভাঙ্গা, তুলাতলা, গুলিাশাখালীর জেলেপাড়া, আবাসন, আঙ্গুলকাটাসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। 

গত কয়েকদিনের ভারীবর্ষণে জলাবন্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় আমনের বীজ পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। এতে উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক আমনের বীজ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে। জোয়ারের পানিতে গুলিশাখালীর আবাসন ও জেলে পাড়া এবং আরপাঙাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় ঐসব এলাকা এখন প্রায় ৩ ফুট পানির নিচে।

হলদিয়া ইউপির উত্তর কাঠালিয়া দক্ষিন কাঠালিয়া, রাওঘা, কুলাইরচর, টেপুরা গ্রামে পানি নিস্কাশনের কোন পথ না থাকায় পানি বন্দী হয়ে পড়েছে গ্রাম গুলো। গুলিশাখালী এবং বালিয়াতলী এলাকার অনেক দরিদ্র জেলে পরিবারের ঘর-বাড়ি তলিয়ে রান্না করতে না পাড়ায় এখন তাদের না খেয়ে পানি বন্দী অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে নারী এবং শিশুদের ভোগান্তি বেড়েছে সব চেয়ে বেশি। গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে গুলিশাখালী, বড়বগি, আমতলীর চাওড়া, হলদিয়া আরপাঙ্গাশিয়া সহ উপজেলা দুটির ১৪ ইউনিয়নের প্রায় ৫০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে আমতলী, তালতলীর নিম্নাঞ্চল ও হাজার হাজার একর ফসলী জমি প্লাবিত হচ্ছে।

আমতলী উপজেলার বালিয়াতলী গ্রামের গৃহবধূ ময়না বেগম বলেন, বাড়ির মধ্যে হাঁটু পানি আমরা ঘর থেতে বের হতে পারছিনা। সরকার আমাদের এ দুর্দশা দেখেও কেন যে কোন ব্যবস্থা নেয়না তা আমরা এখনো বুঝতে পারিনা।

এছাড়া সোনাকাটা, নিশানবাড়ীয়া, বড়বগী, ছোটবগী, পচাঁকোড়ালিয়া, আড়পাংগাশিয়া, চাওড়া, হলদিয়া, গুলিশাখালী ইউনিয়নের ভাঙা বেড়িবাঁধগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন।

হলদিয়া ইউপির কাঠালিয়া গ্রামের সমাজ সেবক মো. মাহবুব মৃধা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৪/বি পোল্ডারের দক্ষিন রাওঘা ঠুন্ডাখালী খাল সলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাধেঁর উপর একটি কালভার্ট ছিল। এই কালভার্ট দিয়ে উল্লেখিত ৬ গ্রামের পানি নিস্কাশন হত। কালভার্টটি ১০/১৫ বছর পূর্বে জোয়ারের পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এর পর পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়ি বাঁধ দিয়ে আটকিয়ে দেয়। এ কারণে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় আর শুকনো মৌসুমে অভ্যান্তরীন খাল গুলো শুকিয়ে যায়। যার কারনে কৃষকরা কোন চাষাবাদ করতে পারছেনা।

উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের গৃহবধূ রাফিজা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোরা রানতেও (রান্না) পারি না, আর খাইতেও পারিনা, মোগো কতা (কথা) হুইন্না আর লাভ কি? পায়খানায় (টয়লেট) যাওয়ারও জাগা নাই। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পানি বন্দী হয়ে বাসিন্ধারা চরম দুভোর্গের মধ্যে জীবন যাপন করছেন।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান জানান জানান, বৃষ্টিপাত কমে গেলে ভাঙ্গা বেড়িবাঁধগুলো পুনরায় মেরামত করা হবে।

(এন/এসপি/জুলাই ২৮, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test