E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

বড়পুকুরিয়ায় কয়লা চুরি ধামাচাপা দিতে মরিয়া একটি চক্র, সংঘর্ষের আশংকা

২০১৮ আগস্ট ০৮ ১৫:৪৯:৫১
বড়পুকুরিয়ায় কয়লা চুরি ধামাচাপা দিতে মরিয়া একটি চক্র, সংঘর্ষের আশংকা

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর : বড়পুকুরিয়ায় ২৩০ কোটি টাকার মূল্যে’র ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা কয়লা গায়েবের ঘটনা ধামা চাপা দিতে কয়লা চুরি’র সাথে জড়িতদের বাঁচাতে এশটি চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে। সুষ্ঠু তদন্তকে বাঁধাগ্রস্থ করতে কয়লা চুরি’র সাথে জড়িতদের পক্ষে বহিরাগত লোকজন দিয়ে মানববন্ধন করেছে। অন্যদিকে শ্রমিক ও স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ মিছিল,মানববন্ধন অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোন মূহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেরও আশংকা দেখা দিয়েছে।

কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। খনির সদ্য অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিবউদ্দীন আহম্মদ, কোম্পনী সচিব আবুল কাশেম প্রধানিয়াসহ ১৯ কর্মকর্তাকে আসামী করে মামলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সচিব, প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের

মহাপরিচালক,পেট্রোবাংলা এবং পিডিপি চেয়ারম্যানসহ দুদক কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ইতোমধ্যে মামলায় অভিযুক্ত ১৯ কর্মকর্তা ও খনির সাবেক দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান ও মো. আমিনুজ্জামানসহ ২১ কর্মকর্তাকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুদক।সোমবার (০৬ আগস্ট) বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা দুর্নীতি মামলার তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সামছুল আলম নথিপত্র জব্দ করে ঢাকায় নিয়ে গেছেন।

২০০১ সাল থেকে চলতি বছরের ২৪ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৭ বছর সাত মাসের সাত ধরনের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। দুদকের পরিচালক (এডমিন) কাজী শফিকুল আলম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, সরেজমিনে তদন্ত দল এসেছি খুব দ্রুতরার সাথে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। এখন যাচাই বাছাই চলছে। কয়লা খনির প্রতিটি সেক্টরে গিয়েছি এবং সবার সাথে গভির ভাবে কথা বলা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দুর্নীতির আছে তাই মামলা হয়েছে। যারা মামলায় আসামী তাদের বিদেশে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

১৯ জুলাই খনির ইয়ার্ড থেকে কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ধরা পড়ে। ২৩০ কোটি টাকার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা ঘাটতির অভিযোগে বিসিএমসিএলের সদ্য সরিয়ে দেওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদ, মহা-ব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। খনির এই তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৯ কর্মকর্তাকে আসামি করে ২৪ জুলাই দুর্নীতি দমন আইনের পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে দুদক। কয়লার অভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে দেশে’র একমাত্র কয়লা ভিত্তিক দিনাজপুরের ৫২৫ মেগাওয়াট বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। তাপবিদুৎ কেন্দ্রের বিদুৎ উৎপাদন বন্ধের প্রভাব পড়তে শুরু দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে। বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ ও ঘন ঘন লোড সেডিং দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের লোড সেডিং হবে তার সত্যতাও স্বীকার করেছে, বড়পুকুরিয়া তাপবিদুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাকিম সরকার।

এ ঘটনায় পেট্রোবাংলার পরিচালক (মাইন অপারেশন) মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি খনির সাবেক চার ব্যবস্থাপনা পরিচালক যথাক্রমে মো. কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও সদ্য সাবেক হাবিব উদ্দিন আহমদকে কয়লা ঘাটতির জন্য দায়ী করে গত মাসের শেষ সপ্তাহে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সর্বশেষ ২৯ জুলাই কয়লা উধাওয়ের ঘটনার তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ( প্রশাসন-ডিজি) খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- যুগ্ম সচিব (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ) নাজমুল হক ও পেট্রোবাংলার পরিচালক (মাইন অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান।
বড়পুকুরিয়ায় ২৩০ কোটি টাকার মূল্যে’র ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা গায়েবের ঘটনা ধামা চাপা দিতে কয়লা চুরি’র সাথে জড়িতদের বাঁচাতে একটি চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সচিব কাশেম প্রধানিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ তাকে অনতি বিলম্বে স্বপদে বহাল রাখার দাবীতে মঙ্গলবার করা হয় এই মানববন্ধন। কয়লা খনি এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হলেও কয়লা খনির আশপাশের ২০ গ্রামের কেউ অংশ নেয়নি এ মানববন্ধনে। সুষ্ঠু তদন্তকে বাঁধাগ্রস্থ করতে কয়লা চুরি’র সাথে জড়িতদের পক্ষে বহিরাগত লোকজন মানববন্ধন করেছে দাবী ২০ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী’র নেতা বুলবুলের। শ্রমিক নেতা নূরুজ্জামানের অভিযোগ, বহিরাগতদের দিয়ে করা এই মানববন্ধ মিডিয়ায় কাভারেজ দিতে আবার কতিপয় ব্যক্তিদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভাড়া করেও নিয়ে আসা হয়েছে।

অন্যদিকে শ্রমিক ও স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ মিছিল,মানববন্ধন অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোন মূহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেরও আশংকা দেখা দিয়েছে।

(এসএএস/এসপি/আগস্ট ০৮, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৮ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test