E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

রূপপুর প্রকল্পে ৩ হাজার জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু 

২০১৮ আগস্ট ১৩ ১৩:৫১:৫০
রূপপুর প্রকল্পে ৩ হাজার জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু 

স্বপন কুমার কুন্ডু, ঈশ্বরদী (পাবনা) : ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিন হাজার জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে এখন ২০০ জনবল রয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর নিউক্লিয়ার এনার্জি বিষয়ে ভারত ও রাশিয়া থেকে উচ্চতর পড়াশোনা করে ইতোমধ্যে ফিরেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। পারমাণবিক প্রকল্প বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে গত শনিবার ৮২৫ জন প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীর একটি দল রাশিয়া গিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, “প্রকল্পে সাপোর্ট সিস্টেমের জন্য দেড় হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। সব মিলিয়ে রূপপুরকে চালানোর জন্যতৈরি করা হবে তিন হাজার জনবল। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বলে তিনি জানান। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) নীতিমালা অনুযায়ী এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আরো জানান, আইইএ ও বাংলাদেশের যৌথ কারিগরি বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি রয়েছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি তাঁরা দেখভাল করছেন। সচিব আনোয়ার হোসেন দাবি করে বলেন, সম্প্রতি আইইএর একটি প্রতিনিদিল দল রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প দেখতে এসে নিরাপত্তা, কারিগরি দিক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান জানান, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমরা কড়া নজর রাখছি, যাতে কোনো জামায়াত-শিবির বা যুদ্ধাপরাধীর সন্তান ঢুকে না পড়ে। আর এখানে উচ্চপদস্থ মন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তান ও আত্মীয়দের কোন লবিংকেও আমরা পাত্তা দেব না।”

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার, যার ৯০ শতাংশই রাশিয়া ঋণ হিসেবে দেবে। কেন্দ্র হতে যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তার প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে সাড়ে তিন টাকা।

রুশ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের নকশায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্বলিত ‘সর্বাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি’ দিয়ে রূপপুরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এর নিরাপত্তা নিয়ে ‘দুশ্চিন্তার কিছু’ থাকবে না।

আনোয়ার হোসেন জানান, “রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানের সাথে ভিভিইআর টেকনোলজি নিয়ে চুক্তি হয়েছে। তারা রিপোর্ট দিয়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সে মোতাবেক নকশা তৈরি করেছে, ডিপিপি তৈরি করে তারা কাজে নেমে পড়েছে। ০.২ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে বিদ্যুৎ প্রবাহ করবে ইউনিটগুলো। ”ফুকুসিমা দুর্ঘটনার পর জাপান কিন্তু আবারো সেই নিউক্লিয়ার প্রকল্পে ফিরে গেল। আমাদের এখন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। পেট্রোবাংলা বলছে, গ্যাসের মেয়াদও ফুরিয়ে আসছে। ওদিকে কয়লা তুলতে গেলে রক্তারক্তি হয়ে যাচ্ছে।

পাবলিক অ্যাওয়ার্নেস বাড়াতে রোসাটমের জয়েন্ট কমিউনিকেশন প্লান্ট তৈরি করেছি, চুক্তি হয়েছে তারও আগে। কারও কোনো প্রশ্ন এখনও থেকে থাকলে সেই চুক্তি পড়ার জন্য সচিব আহব্বান জানান।

চুক্তি অনুযায়ী, এই কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়াই ফেরত নিয়ে যাবে। কেন্দ্রের মেয়াদ ৩০ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত হবে বলে সচিব জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরের সময় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরি গবেষণার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার একটি চুক্তি হয়। ওই বছরই অক্টোবরে রূপপুরে ভিত্তিস্থাপন করা হয় । পরে রুশ সরকারের সহায়তায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সাথে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর চুক্তি হয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের। অ্যাটমস্ট্রয় রোসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। দুই ইউনিট মিলিয়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার (এক লাখ এক হাজার ২০০ কোটি টাকা)।

মূল পর্বের কাজ বাস্তবায়নে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে রাশিয়া ৪ শতাংশ হারে সুদে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে।

“প্রকল্প শুরুর পর উৎপাদনে গেলে ৩০ বছরের মধ্যে আমরা এই টাকা রাশিয়াকে ফেরত দেব বলে মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান জানিয়েছেন।”

এই প্রকল্পটির ব্যয়ে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৫২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, ভারতীয় ঋণ থেকে ৮ হাজার ২১৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ২৩৫ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুরের ৫০ বছর আয়ুর ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। পরের বছর চালু হবে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরে পরমাণু চুল্লির জন্য কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণ উদ্বোধন করেছিলেন। আর গত ১৪ জুলাই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

(এসকেকে/এসপি/আগস্ট ১৩, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test