E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে কামারশালায় টুং টাং শব্দ ততই বেড়ে চলেছে

২০১৮ আগস্ট ১৮ ১৬:০৯:৩৪
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে কামারশালায় টুং টাং শব্দ ততই বেড়ে চলেছে

রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের কামাররা কোরবানীর ঈদকে সামনে খুবই ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে টুং টাং শব্দে কামারদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা টুং টাং শব্দে একটানা কাজ করে যাচ্ছেন।

কোরবানির পশু কাটতে দা, বঁটি ও ছুরি অবশ্যম্ভাবী। সেজন্য বেড়েছে কদর। কয়লার চুলায় দগ্দগে আগুনে গরম লোহার পিটাপিটিতে টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে ওঠেছে কামারশালাগুলো। একই সঙ্গে সামনে আগুনের শিখায়-তাপ দেয়া, হাতুড়ি পেটানোর টুং-টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা, বটিঁ, চাপাতি ও ছুরি। কামারদের দম ফেলারও ফুসরত নেই। নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন তারা। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করে যাচ্ছেন। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদেকে কেন্দ্র করে কয়েকগুন ব্যস্ততা বেড়ে গেছে।

কামাররা জানায়, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০, দা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বঁটি ২৫০ থেকে ৫০০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে এক হাজার টাকা, মাংস কাটার চাপাতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে জেলা শহরের কলেজ গেট, গোডাউন ব্রিজ, সন্তোষ বাজার ও পার্ক বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে খুবই ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কামাররা। পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতে দোকানে লোকজনের ভিড়ও বেড়েছে প্রচুর। আগে যে সমস্ত দোকানে দুই জন করে শ্রমিক কাজ করতো, এখন সেই দোকানে ৫-৬জন করে শ্রমিক কাজ করছেন। কামারদের অভিযোগ, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লার দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে গেছে। অপরদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ উপলক্ষ্যে কামারদের মজুরি ও দা, চাপাতি এবং ছুরির দাম কয়েকগুণ বেশি নেয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজরের কামার সত্য রঞ্জন দাশ জানান, সারা বছর কাজ কম থাকে। কোরবানীর ঈদ এলে তাদের কাজ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পুরনো ছুরি শান দেয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের গুণাগুণের উপর ভিত্তি করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। তবে ঈদের দুই দিন আগে থেকে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা শান দেয়ার কাজ করতে হবে।

অপর কামার আনন্দ জানান, কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে কয়লা ও শ্রমিকের মূল্য বেড়ে গেছে। দুই মাস আগেও প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিলো ৪০০-৪৫০ টাকা। সেই কয়লা এখন ৮০০-৮৫০ টাকায় কিনে আনতে হচ্ছে।

পার্ক বাজারের দোকানি বাদল মিয়া জানান, ঈদকে সামনে রেখে কাজের চাপ বেশি। কাজের চাপে কখন খাওয়ার সময় চলে যাচ্ছে তারা টেরও পাচ্ছেন না। চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে বিক্রি তত বাড়ছে।

শহরের সাবালিয়া এলাকার ক্রেতা আব্দুল হালিম জানান, তিনি একটি চাপাতি ৫০০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। এছাড়া তাদের সমাজের ছুড়ি, দা, জবাই করার ছুরিসহ প্রায় ১৯টি জিনিষ শান দিতে নিয়ে এসেছেন তিনি।

(আরকেপি/এসপি/আগস্ট ১৮, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test