E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

গণধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা

নিহত টুম্পার কন্যা ও স্বামীর প্রথম স্ত্রীকে আদালতে তলব 

২০১৮ সেপ্টেম্বর ০৫ ১৮:২৪:৫৪
নিহত টুম্পার কন্যা ও স্বামীর প্রথম স্ত্রীকে আদালতে তলব 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : যাত্রাদলের নায়িকা ধর্মান্তরিত টুম্পা খাতুনকে গণধর্ষণের পর তার শরীরে কোরাসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যার অভিযোগে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠণের শুনানীর একপর্যায়ে সন্তান ও স্বামীর প্রথম স্ত্রীকে আগামী ৩১ অক্টোবর আদালতে তলব করা হয়েছে। সোমবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার আসামী পক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানী শেষে এ আদেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন,আশাশুনি উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের গহর গাজীর ছেলে নিহতের স্বামী সাইফুল্লাহ গাজী (৩৮) ও একই উপজেলার গদাইপুর গ্রামের রাজাকার মোজাহার সরদারের ছেলে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিম ওরফে ডাকাত ডালিমসহ ১১জন।

আশাশুনি উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের ইসমাইল সরদারের ছেলে শহীদুল সরদারের দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায়, সাত বছর আগে যাত্রাদলের নায়িকা হিসেবে সাতক্ষীরার আশাশুনির দুর্গাপুর গ্রামের সোনা চৌকিদারের বাড়ির পাশে মাঠে গান করতে আসা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বটবাড়ি গ্রামের মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাসের মেয়ে সোমা বিশ্বাসকে(২৫) ফুসলিয়ে নিয়ে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াাজ ডালিমের সহযোগিতায় ধর্মান্তরিত করে টুম্পা খাতুন নাম দিয়ে তাকে বিয়ে করেন একই উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মাদকাসক্ত বহু বিবাহের নায়ক সাইফুল্লাহ। বর্তমানে তাদের মরিয়ম নামে তিন বছর ৫ মাসের একটি মেয়ে আছে।

খাজরা ইউপি’র সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য তমেনাসহ একের পর এক পাঁচজনকে বিয়ের কথা গোপন রেখে তাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করা নিয়ে টুম্পার সঙ্গে সাইফুল্লার বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত বছরের ৯ জুন দিবাগত রাত তিনটার দিকে স্বামীর বাগদা চিংড়ির হ্যাচারির বাসায় শাহানেওয়াজ ডালিমসহ ১৪/১৫ জন টুম্পার উপর ঝাপিয়ে পড়ে গনধর্ষণ করে। পরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে ও কাথা জড়িয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। ১৬ জুন খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টুম্পা মারা যায়।

আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড করার পর গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সকল আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২৮ এপ্রিল নারাজী শুনানী শেষে বিচারক হোসনে আরা আক্তার সকল আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ঘটনায় টুম্পার বাবা, মা, ভাই ও বোন সাতক্ষীরা আদালতে এসে একবার আসামীদের পক্ষে ও পরে বাদি পক্ষে এফিডেফিড দেয়।

(আরকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১৬ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test