E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

চালুর পর ২২ বছরই বন্ধ

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু অত্যন্ত জরুরী

২০১৮ সেপ্টেম্বর ২০ ২২:৩৮:১৪
ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু অত্যন্ত জরুরী

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : প্রায়ই নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভাড়া করা হেলিকপ্টার উঠানামা করছে। এখানের্ বিমান বন্দর চালু না থাকায় রাশিয়ানসহ অন্যান্য বিদেশী ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদস্থ কর্মকর্তারা জরুরী প্রয়োজনে বেশী টাকা খরচ করে হেলিকপটার ভাড়া করে বাধ্য হয়ে ঈশ্বরদী আসছেন। আবার মিটিং ও পরিদর্শন শেষ করে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছেন। একই অবস্থা ইপিজেড-এর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের। বিমান বন্দর থাকা সত্বেও বিমান উঠানামা না করায় সকলেই তিক্ত ও বিরক্ত হলেও করার কিছুই নেই। অর্থাৎ ঈশ্বরদী বিমান বন্দর চালু অতীব জরুরী একটি ইস্যু হওয়া সত্বেও চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

এক সময়ে কর্মচঞ্চল ছিল ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট ওঠানামা করতো। লোকশান দেখিয়ে ১৯৯৬ সালে এ বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়া হয়। পাশাপাশি এসময় রাজশাহীতে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ হয়। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ সালে ৭ মাস চালু থাকলেও দীর্ঘ ২২ বছরই বিভিন্ন সময়ে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
লোকসানের অজুহাতে দেড় যুগ বন্ধ থাকার পর দ্বিতীয় দফায় ২০১৩ সালের অক্টোবর চালু হয় পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। এর সাত মাসের মাথায় একই অজুহাতে ২০১৪ সালের মে মাসে তৃতীয় দফায় বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে ১৯৬৬ সালে বিমানবন্দরটি চালু করা হয়। এরপর লোকসানসহ নানা অজুহাতে ১৯৮৭ সালে প্রথম দফায় বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়া হয়। তৃতীয় দফায় ২৭ মাস বন্ধ থাকার পর বিমানবন্দরটি আবার চালু হবে কিনা সে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকায় ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঈশ্বরদী ইপিজেড, ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, ডাল গবেষণা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আসা দেশি-বিদেশি কর্মকর্তারা যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালে ৪১২ একর জমির ওপর ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। ১৯৬৬ সালে কংক্রিটের রানওয়ে তৈরির পর ডিসি-৩ ও এফ-২৭ বিমান উঠা-নামা করতো। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমানবন্দরটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এরপর ১৯৭২ সালে মেরামতের পর ঈশ্বরদী-ঢাকা-ঈশ্বরদী রুটে বিমান চালু করা হয়। ১৯৮৭ সালে লোকসানসহ নানা অজুহাতে বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে ১৯৯৪ সালে বিমানবন্দরটি আবার চালু করা হয়। প্রায় তিন বছর বিমান চলাচল অব্যাহত থাকার পর একই অজুহাতে ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় দফায় বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর তৃতীয় দফায় ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়। ওই বছরের ১৮ নভেম্বর থেকে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের একটি এয়ারক্রাফট সপ্তাহে দু’দিন চলাচল শুরু করে। সাত মাসের মাথায় ২০১৪ সালের ২২ মে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে বিমানের ত্রুটি সারানো ও পরে রানওয়ের সমস্যার কথা বলে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম এসময় জানান, তাদের বিমান চলাচলের জন্য রানওয়ের প্রস্থ একশ’ ফুট হওয়া দরকার, সেখানে রয়েছে ৭৫ ফুট। রানওয়ের প্রশস্থ করার কথা কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

তবে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার জানান, এখানকার রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৭শ’ ফুট ও প্রস্থ ৭৫ ফুট। ইউনাইটেড এয়ার এই রুটে ড্যাস-৮ বিমান ব্যবহার করত। এ ধরনের বিমান ওঠা-নামা করানোর মতো সক্ষমতা এ বিমানবন্দরের আছে।

ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুর রশীদ দাবি করে বলেন, অগ্নিনির্বাপণের গাড়ি না থাকলেও ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অন্যসব ব্যবস্থাপনা ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের রয়েছে আমরা ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত। এক সপ্তাহের নোটিশে ফ্লাইট পরিচালনার সব ব্যবস্থা করতে সক্ষম।

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর অতিস্বত্তর চালুর বিষয়টি অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করেন, ভূমিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ।

বতর্মানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ইপিজেডসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই সহস্রাধিক বিদেশী কর্মরত রয়েছেন। প্রতিনিয়ত বিদেশীদের ঢাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়া পারমাণবিক প্রকল্পে দেশী- বিদেশী ভিভিআইপি মন্ত্রী ও কর্মকর্তা নিত্য যাতায়াত করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই বিপুল অর্থ ব্যয় করে বেসরকারী হেলিকপ্টার ভাড়া করে যাতায়াত করতে দেখা যায। কারণ সড়কপথে ঈম্বরদী হতে ঢাকা যেতে যানজটের কারণে বর্তমানে ৭-১০ ঘন্টা সময় লাগে। ট্রেনের টিকেট প্রাপ্তিতে সমস্যা ছাড়াও সময় লাগে ৫ ঘন্টা। এই অবস্থায় একদিকে সময়ের অপচয়, বিড়ম্বনা এবং হেলিকপ্টার ভাড়ার কারণে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থেরও অপচয় হচ্ছে। অথচ ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু থাকলে অর্থ ও সময়ের অপচয় সাশ্রয় হতো। পাশাপাশি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা এখানকার কাজ শেষ করে ওইদিনই ঢাকায় ফিরে আবার অফিসের কাজে যোগ দেয়ার সুযোগ পাবেন।

(এসকেকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

২৩ অক্টোবর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test