E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

২২ হরিণ শিকার মামলা থেকে সাত্তার মোড়লকে অব্যহতি

২০১৮ নভেম্বর ১৩ ১৬:৪২:৪৯
২২ হরিণ শিকার মামলা থেকে সাত্তার মোড়লকে অব্যহতি

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : গত ৮ জুলাই সুন্দরবনে ২২টি হরিণ শিকারের ঘটনা অনুসন্ধান করে তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসাথে আইন ও বিধি অনুযায়ি সুন্দরবন সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। ২২টি হরিণ শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোষ্ট গার্ড,বনবিভাগ, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে যে কথোপকথন হয়েছে তা সংরক্ষণ করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৫ জুলাই সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বংশীপুর গ্রামের ওম্মৎ আলীর ছেলে সাপ্তাহিক নয়া বার্তার সম্পাদক আবু বক্করের দায়েরকৃত রিট পিটিশন শুনানী শেষে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মোঃ খায়রুল আলম এ নির্দেশ দেন।

এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের মৃত কোরবান মোড়লের ছেলে কুখ্যাত হরিণ শিকারী আব্দুস সাত্তার মোড়লকে বাদ দিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গত ২৮ অক্টোবর দায়েরকৃত অভিযোগপত্র দু’টি বিচারের জন্য মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম হুমায়ুন কবীর।

(রিট পিটিশন নং ৯৭৯১/১৮) এর রিটকারি আবু বক্করের পক্ষে আইনজীবী অ্যাড.শাসমুল হক বলেন, সুন্দরবনের ভিতরে বা সংরক্ষিত এলাকায় বণ্যপ্রাণী হত্যার ঘটনা ঘটলে মামলা করার কথা বনবিভাগের। অথবা বনবিভাগের পরামর্শে প্রশাসনের মামলা করার বিধান রয়েছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে। কিন্তু বনবিভাগ এ ব্যাপারে কোন মামলা দায়ের করেনি। মামলা করেছেন শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক লিটন মিয়া। ওই লিটন মিয়াসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জের বন্দকাটি গ্রামের সাত্তার মোড়লের সহায়তায় ২২টি হরিণ শিকারের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ২২টির স্থলে হরিণ শিকার দেখানো হয়েছে তিনটি। যদিও গত ৯ ও ১০ জুলাই বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে বন্দকাটি গ্রামের কুখ্যাত হরিণ শিকারী সাত্তার মোড়লের কালিকাপুর বাগানবাড়িতে মোটর সাইকেল রেখে তারই ব্যবহৃত লঞ্চ ও স্পীড বোর্টে ১৬ খণ্ড বরফ নিয়ে সুন্দরবনে হরিণ শিকারে যেয়ে বনবিভাগ ও কোষ্টগার্ডের হাতে ধরা পড়ে শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক লিটন মিয়া, উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান, সহকারি উপপরিদর্শক মামুন, সহকারি উপপরিদর্শক ফজলুল করিম, সিপাহী আলমগীর ও উত্তম কুমার দাস, কদমতলীর হরিণ শিকারী মঞ্জুরুল ইসলাম ও পাতাখালির মহিবুল্লাহ।

সাত্তার মোড়ল ধরা পড়লেও প্রভাব খাটিয়ে তিনি চলে গেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। জানতে চাইলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মান্নান আলী পুলিশ সদস্যদের বাঁচাতে শিকারীদের বিরুদ্ধে ওই পুলিশ সদস্যরা অভিযানে গিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে উপপরিদর্শক লিটন মিয়া বাদি হয়ে ৯ জুলাই শ্যামনগরের পাতাখালির মহিবুল্লাহ,একই গ্রামের এবিএম আব্দুল আজিজ, হরিনগরের সালাহউদ্দিন, মুন্সিগঞ্জ কদমতলার মঞ্জুরুল, কালিগঞ্জের বন্দকাটি গ্রামের সাত্তার মোড়ল ও হাফিজুরের নামে বন্যপ্রাণী সংরক্ষন ও নিরাপত্তা আইনের ২০১২ সালের ৩৭(১) (২) তৎসহ ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারায় শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

আসামিদের মধ্যে তিনজন লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের মালিক। গ্রেফতারকৃত মঞ্জুরুল ইসলাম ও মহিবুল্লাহ গত ২৪ জুলাই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস হাসান এর বেঞ্চ থেকে গত ৭ আগষ্ট চার সপ্তাহের অগ্রিম জামিন পেয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হলে ৪ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম হুমায়ুন কবীর শুনানী শেষে সাত্তার মোড়ল, হাফিজুর, সালাউদ্দিন ও আজিজ ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তবর্তীকালিন জামিনে মুক্তি পান।

২৮ অক্টোবর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আকরাম হোসেন মামলার অন্যতম আসামী সাত্তার মোড়লকে বাদ দিয়ে এজাহারভুক্ত পাঁচজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মঙ্গলবার মামলার ধার্য দিনে পৃথক দু’টি ধারার দু’টি অভিযোগপত্র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য পাঠানোর নির্দেশসহ চার আসামীর স্থায়ী জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল বারি।

জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. বিবেকানন্দ রায় জানান, সাত্তার মোড়লকে বাদ দিয়ে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি পিপি জজ কোর্টে নারাজির আবেদন দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে সাত্তার মোড়লের বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

(আরকে/এসপি/নভেম্বর ১৮, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

১০ ডিসেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test