E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

আজ পাকহানাদার মুক্ত হয় কুষ্টিয়া 

২০১৮ ডিসেম্বর ১১ ১৫:০৫:৩১
আজ পাকহানাদার মুক্ত হয় কুষ্টিয়া 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : আজ ১১ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে কুষ্টিয়াকে পাকহানাদার মুক্ত করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২টি যুদ্ধ শেষে ১১ ডিসেম্বর বৃহত্তর কুষ্টিয়া মুক্ত হয়েছিল।

মুক্তিবাহিনী, ভারতীয় মিত্রবাহিনী কুষ্টিয়া শহর দখল নিতে কুষ্টিয়া শহরতলী চৌড়হাসে পৌছালে পাকিস্তান বাহিনীর এ্যাম্বুশে পড়ে। পরে ত্রিমুখী যুদ্ধে পড়ে পাকিস্তানবাহিনী পালিয়ে যায়। ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মুক্ত হয়।

পাকিস্তান বাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১১টায় যশোর থেকে পাকবাহিনী এসে কুষ্টিয়া দখল করে নেয়। এবং এক নাগাড়ে ৩০ ঘন্টার জন্য সান্ধ্য আইন জারি করে সশস্ত্র অবস্থায় কুষ্টিয়া শহরে টহল দিতে থাকে। সান্ধ্য আইন ভেঙ্গে মুক্তিকামী মানুষ বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। তৈরি করে বেরিকেড। বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ইট-পাটকেল, কাটা গাছের গুড়ি, ঘরের চাল নিয়ে এসে সেনাবাহিনীর চলাচল বিঘœ করার উদ্দেশ্যে বেরিকেড তৈরি করে। সেনাবাহিনী সেগুলো সরিয়ে মারমুখী হয়ে যায়। পাকিস্তান বাহিনীর সাথে সাধারণ মানুষের শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ।

৪ ডিসেম্বর খোকসা, ৭ ডিসেম্বর মিরপুরের আমলাসদরপুর, ৮ডিসেম্বর দৌলতপুর, মিরপুর, ভেড়ামারা, ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী এবং ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মুক্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় বিজয় দিবসের ৫দিন আগেই শত্রুমুক্ত হয় এই জনপদ।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বংশীতলাযুদ্ধসহ ২২টি যুদ্ধ শেষে মুক্তি ও মিত্রবাহিনী কুষ্টিয়া দখল নিতে আসছিল। ঠিক তখন ১০ ডিসেম্বর সকালে কুষ্টিয়া শহরের দক্ষিণে চৌড়হাস এই বিমান চত্বরে মেইন রাস্তার উপর পাক বাহিনীর অ্যাম্বুশে পড়ে তারা। শুরু হয় ত্রিমুখী যুদ্ধ। এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। এখানে মিত্র বাহিনীর ৭০ জন শহীদ হন। ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার সমস্ত এলাকা স্বাধীন ও শত্রু মুক্ত হয়।

১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শহর স্বাধীন ও শত্রু মুক্ত হয়। তাই এ দিন আনন্দের হলেও বেদনারও দিন। কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় অবস্থিত কহিনূর ভিলায় ১৮ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এখানে শিশু সহ হত্যা করা হয় মোট ১৬ জনকে।

বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা ৮ নং সেকটরের অধীন ছিল। মেজর আবৃ ওসমান চৌধুরী ৮ নং সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে এপ্রিল মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বমোট ২২ টি ছোটবড় যুদ্ধ শেষে কুষ্টিয়া মুক্ত হয়।

কুষ্টিয়াতে তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের জোনাল চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ চৌধুরী কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে অফিসিয়ালী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে জোনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারী এম শামসুল হক কে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার কবি, ছাত্র, সাহিত্যিক, শিল্পি, লেখকের ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য।

(কেকে/এসপি/ডিসেম্বর ১১, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

২৪ জানুয়ারি ২০১৯

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test