Pasteurized and Homogenized Full Cream Liquid Milk
E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

চার বছর পর চাঞ্চল্যকর টনিক হত্যা রহস্য উন্মোচিত

২০১৯ অক্টোবর ২১ ১৫:৪২:১৪
চার বছর পর চাঞ্চল্যকর টনিক হত্যা রহস্য উন্মোচিত

নড়াইল প্রতিনিধি : তদন্তকারী সংস্থা ও তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন এবং মামলার বাদীর অসহযোগিতায় কেটে গেছে চারটি বছর। অবশেষে যশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হাতে মামলা যাওয়ার অল্প সময়ে উন্মোচিত হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়ায় চাঞ্চল্যকর আমিরুল ইসলাম টনিক হত্যা রহস্য। এই হত্যাকান্ডে টনিকের চাচাতো ভাইসহ চার জন জড়িত বলে তথ্য মিলেছে। 

গত শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) পিবিআই এর হাতে আটক হওয়া সজিব খান, পুলিশ ও আদালতের কাছে জবানবন্দি এবং মামলা সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রামের নুরুল ইসলাম শেখ’র ছেলে আমিরুল ইসলাম টনিক (৩৬) বিগত ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ১০টার দিকে লোহাগড়া পৌর এলাকার মশাঘুনি গ্রামের নতুন বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় দৃর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। আহতের পর প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন।

টনিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে যশোর সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন। যশোর থেকে খুলনা, অতপর ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলেও তিনি বাঁচতে পারেননি। ওই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারী সে মারা যায়। উক্ত ঘটনায় নিহতের পিতা-মাতা,স্ত্রী ও বড় ভাই জীবিত থাকা সত্বেও রহস্যজনকভাবে চাচাতো ভাই আবু সাঈদ শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ৪ বছরে ৫জন তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করলেও হত্যা রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হন। অবশেষে মামলাটি গত আগষ্ট মাস থেকে পিবিআই তদন্ত কাজ শুরু করেন।

এ মামলায় গত ১৮ অক্টোবর রাত পৌনে একটার দিকে পিবিআই সদস্যরা উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের সবুর খানের ছেলে ও আন্ত:জেলার ডাকাত দলের সদস্য সজিব শেখকে তার বাড়ি থেকে আটক করেন। আটকের পর সে পুলিশেকে ওই হত্যাকান্ডের স্ববিস্তার বর্ণনা দেয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সেখানেও সে একই জবানবন্দি প্রদান করেন। ঘটনার দিন রাতে তারা চারজন টনিকের বাড়িতে হানা দিয়ে বাথরুমের ভেন্টিলেটন ও জানালা ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। টনিকের চাচাতো ভাই এবং এই মামলার বাদী আবু সাঈদের আপন ছোটভাই তূষারসহ তিনজন ঘরের ভেতরে যায়।

সজিব তখন বাহিরে পাহারায় ছিলেন। ঘরের ভেতরে আলমিরা খোলার শব্দ শুনে টনিক ঘুম থেকে জেগে চাচাতো ভাই তুষারকে চিনে ফেলে তার নাম ধরে ডাক দেয়। সাথে সাথে তুষার তার মাথায় ছ্যানদা দিয়ে কোপ মেরে পালিয়ে যায়। অন্যরাও তুষারের সাথে পালিয়ে যাওয়ার সময় টনিক গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে কিছুদুর ধাওয়া করেন। তুষার শেখ আন্ত জেলা ডাকাত দলের অন্যতম সদস্য। তার নামে লোহাগড়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতিসহ, হত্যা,ধর্ষন, চুরি ও ছিনতাইয়ের আন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে।

পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন সোমবার দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, মামলার তদন্তভার গ্রহন করে এসআই শরীফুল ইসলাম ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করেন। সে কারনে দ্রুত এই মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এবং আসামী আটক করা গেছে। অভিযুক্ত সজিব খান শনিবার (১৯অক্টোবর) বিকালে নড়াইলের বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলেও জানান তিনি।

(আরএম/এসপি/অক্টোবর ২১, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

১৩ নভেম্বর ২০১৯

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test