E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

‘জীবন্ত ক্যালেন্ডার’ তাইফ

২০২০ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৬:১৭:১৫
‘জীবন্ত ক্যালেন্ডার’ তাইফ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : প্রতিদিন একটু একটু সাধনা আর সংকল্পের ছোয়াঁয় একজন সাধারণ মানুষও মহীরুহে পরিণত হয়ে উঠেন । তারই প্রমান চুয়াডাঙ্গার মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তাইফ আহমেদ। ১৯৯৪ সালের ২৫ জানুয়ারি? মঙ্গলবার। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি? বুধবার। এভাবে একের পর এক তারিখে কী বার তা বলে যাচ্ছিলো মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তাইফ আহমেদ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও এভাবে সারাবিশ্বের রাষ্ট্র ও রাজধানীর নামও বলে যায় দ্রুততম সময়ে । সে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকী গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে।

তাইফ আহমেদ (২৫) বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও নেই। কিন্তু ১৯০০ সাল থেকে ২০৯৯ সাল পর্যন্ত ২০০ বছরের মধ্যে যেকোনো তারিখে কী বার তা বলে দিতে পারে মুহূর্তেই। এ সময়ে কোনো মাসের নির্ধারিত বারে কত কত তারিখ তাও বলে দেয় দ্রুততার সাথে। সাধারণ জ্ঞান আর টেকনোলজিতেও আছে দক্ষতা। এলাকায় তাকে বলা হয় জীবন্ত ক্যালেন্ডার।

তাইফ আহমেদ বলে, সে নিজে একটি গাণিতিক সূত্র আবিষ্কার করেছে। যে সূত্র অনুযায়ী সে মুহূর্তেই দিন-তারিখ বলে দিতে পারে। কাজের স্বীকৃতির জন্য তার উদ্ভাবিত সূত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চায় বলেও জানায় সে। তবে রাষ্ট্র ও রাজধানীর নাম সে ধীরে ধীরে আত্মস্থ করেছে বলে তাইফের জানান।

তাইফের মা আছমা খাতুন বলছিলেন, ছোট থেকেই অন্য শিশুদের মতো আচরণ করতো না তাইফ। এজন্য তাকে নেয়া হয় চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসকের মতে সে জন্মগতভাবেই অস্বাভাবিক। তারপর তাকে বাড়িতে রেখেই লেখাপড়া শেখানোর চেষ্টা করা হয়। এক সময় তার বিশেষ কিছু কাজ পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছে বিস্ময় সৃষ্টি করে। এর মধ্যে যে কোনো মোবাইল নম্বর এক-দুবার শুনলেই মুখস্ত হয়ে যায়। মোবাইল, টিভি ও কম্পিউটারের ছোটখাটো কাজ ও সমস্যার সমাধান করতে শিখে ফেলে সে।
দিন তারিখে কী-বার তা বলতে পারে তাইফ। নিজেই আবিষ্কার করে এর বিশেষ সূত্র। যা সে তার পারিবারিকভাবে পাওয়া শিক্ষায় লিপিবদ্ধ করে রাখে। তাইফের এ বিস্ময় এলাকার গন্ডি ছড়িয়ে জানাজানি হয় জেলাব্যাপী। এখন অনেকেই তাকে দেখতে আসে।

এলাকাবাসী জানান, প্রথম দিকে তাইফের প্রতিভা দেখে এলাকার লোকজন বেশ আশ্চর্য হতো। এক সময় তার পরিচিতি বাড়তে থাকে। এখন তাকে এলাকার গর্ব বলেও মনে করেন অনেকে।

তাইফ যেহেতু মানসিক ভারসাম্যহীন। এজন্য তার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত তার পরিবার। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারেননি তারা। এজন্য সরকার ও বৃত্তবানদের কাছে ছেলের ভবিষ্যত সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন তাইফের মা।

(টিটি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

০৫ মার্চ ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test