E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা : বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে ১৬ জনের নামে মামলা

২০২০ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৭:১৬:৪২
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা : বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে ১৬ জনের নামে মামলা

 

 

 

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা বদর খন্দকারকে (৪৫) নৃশংসভাবে খুনের  ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল শিকদারকে প্রধান আসামী করে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী নাজনীন বেগম বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে চেয়ারম্যানসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৮, তারিখ, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ইং। এ দিকে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী মতিউর রহমান ওরফে মুন্নাকে (৩২) গত মঙ্গলবার রাতে কাশিয়ানী থানার সহযোগিতায় লোহাগড়া থানা পুলিশ গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার চর ঘোনাপাড়া এলাকা থেকে আটক করে। আটক মুন্না বুধবার নড়াইলের সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদা’র আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান শেষে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

 

 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে সাবেক চেয়ারম্যান বদর খন্দকারকে হত্যা করা হয়েছে। ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল শিকদারকে মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছে। অন্য আসামীরা হলেন, লোহাগড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ শেখ ও তার ভাই শ্রমিক নেতা পিকুল শেখ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আজাদ সুজন, লোহাগড়া ইউপি’র সাবেক সদস্য সুরুজ মোল্যা,চর কালনা গ্রামের আবু বক্কর খোকা মোল্যার ছেলে রবিউল ইসলাম তারু মোল্যা ও তার ভাই মতিউর রহমান মুন্নাসহ ১৬ জন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিল্টন কুমার দেবদাস বলেন, মামলার আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে একটি রাম দা, মোবইল, ট্রাভেল ব্যাগ ও একজোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামীসহ অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য করা প্রয়োজন, গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিহত চেয়ারম্যান বদর খন্দকার মোটর সাইকেলযোগে বাড়ি থেকে লোহাগড়া উপজেলা সদরে আসার সময় কালনা-যশোর মহাসড়কের পাশে টি-চর কালনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে দেশীয় অস্ত্র ধারালো ছ্যান ও রাম দা, দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে তার দুই পা ও একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষ অবস্থায় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পথিমধ্যে যশোরের নওয়াপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। গত মঙ্গলবার বিকালে নিহতের নামাজে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, প্রধান আসামীসহ অন্যদের গ্রেফতারের জন্য সাঁড়াশী অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করছি,খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন এবং আসামীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।

(আরএম/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

১১ এপ্রিল ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test