E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

করোনা রোগী সাজানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ!

২০২০ মে ২৭ ১৯:০৫:৩১
করোনা রোগী সাজানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সাজানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সখীপুর ও ঘাটাইল উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলমালির চালা গ্রামের ইচালীপাড়ায়। ভয় দেখানোসহ চাঁদা না পেয়ে ক্ষুব্দ ওই গ্রামের দুই স্বেচ্ছাসেবকের বিরুদ্ধে শ্যালকের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ এনে থানায় আবেদন করা হয়েছে। 

অভিযোগে জানা যায়, গত ২০ মে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের ফুলমালির চালা গ্রামের ইচালীপাড়ায় আসেন ওই গ্রামের বাসিন্দা ও সুনামগঞ্জ জেলার সেলিমগঞ্জ শাখা ব্রাক এর ম্যানেজার মো. সাদেকুর রহমান(৫৫)। গত ২৩ মে খবর পেয়ে প্রতিবেশি ও পাশের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক আবুল কালাম এবং একই গ্রামের মৃত চাঁন মাহমুদের ছেলে নায়েব আলী তার বাড়িতে যান।

এ সময় তারা সুনামগঞ্জ জেলার সেলিমগঞ্জ শাখা ব্রাক অফিস থেকে তিনি সরাসরি বাড়িতে এসেছেন এবং তিনি করোনা ভাইরাস বহন করছেন- এমন অভিযোগ করেন। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সাদেকুর কর্মরত প্রতিষ্ঠানে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় আসা নেগেটিভ রিপোর্টটি তাদের দেখান। এতে তারা ফিরে গেলেও মুঠোফোনে দশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন স্বেচ্ছাসেবক আবুল কালাম। অন্যথায় তাকে করোনায় আক্রান্ত রোগী বানিয়ে বাড়ি লকডাউনের হুমকি দেন। তবে এতেও দাবিকৃত টাকা আদায় না হওয়ায় ক্ষুব্দ স্বেচ্ছসেবক কালাম ও নায়েব ২৪ মে আবার তার বাড়িতে গিয়ে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়ে চলে যান। এ সময় টাঙ্গানো পতাকা নামিয়ে রাখেন ওই ব্রাক কর্মকর্তা।

এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবকদ্বয় ওই কর্মকর্তার বাড়িটি ঘাটাইল উপজেলা হওয়া স্বত্ত্বেও তারা বাড়িটি লকডাউন করতে ২৪ মে দুপুরে সখীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুকসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। তারা ওই কর্মকর্তার করোনার নেগেটিভ রিপোর্টটি দেখেন। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক আবুল কালাম ব্রাক কর্মকর্তার স্ত্রী হাসিনাকে ধাপ্পর মারেন।

ব্রাক কর্মকর্তার স্ত্রীকে মারধর করাসহ চাঁদা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ কর্মকর্তা ওমর ফারুক অভিযুক্ত কালামকে ব্রাক কর্মকর্তার স্ত্রীর পা ধরে ক্ষমা নেয়াসহ পূনরায় তাদের বিরক্ত না করার জন্য সাবধান করেন। তবে এ ঘটনার পরই বিকালে স্বেচ্ছাসেবক নায়েব আলীর হুকুমে স্বেচ্ছাসেবক আবুল কালাম ওই ব্রাক কর্মকর্তার শ্যালক ও সখীপুর উপজেলা কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের মো. আফসার মাস্টারের ছেলে কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. মিনহাজ উদ্দিনের উপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান।

চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে স্বেচ্ছাসেবক আবুল কালাম বলেন, ব্রাক কর্মকর্তার বাড়ি ঘাটাইল উপজেলায় হলেও তিনি ওই কুতুবপুর গ্রাম্য সমাজভুক্ত। এছাড়াও সুনামগঞ্জ থেকে বাড়িতে আসায় তাকে বাইরে না বেরোনোর জন্য তাকে তারা সতর্ক করতে গিয়েছিলেন। তবে ওই ব্রাক কর্মকর্তা তাদের নিষেধ অমান্য করায় ঈদের আগের দিন (গত ২৪ মে) পুলিশ কর্মকর্তা, দফাদার ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে ওই বাড়িতে যান। এ সময় ওই ব্রাক কর্মকর্তার স্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ করায় উত্তেজিত হয়ে তিনি ব্রাক কর্মকতার স্ত্রীকে একটি থাপ্পর মারেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা এ অপরাধের জন্য তাকে মারধর করাসহ ব্রাক কর্মকর্তার পায়ে ধরে ক্ষমা প্রার্থণা করান।

এ ঘটনায় আহত কীটনাশক ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, বাড়িতে এসে আমার বোনের গায়ে হাত তোলাসহ দুলাভাই ওই ব্রাক কর্মকর্তাকে এমন হয়রানী করার খবর পান। এ সময় ওই বাড়িতে আসার পথে স্বেচ্ছাসেবক নায়েব আলীর হুকুমে চাঁদাবাজ আবুল কালাম আমাকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে থাকেন। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলায় আমার বাম হাতের হাঁড় কেটে যাওয়াসহ বাম কানে মারাত্মক আঘাত লাগে। এ ঘটনায় সখীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য মজিবর ফকির বলেন, ব্রাক কর্মকর্তার বাড়িটি ঘাটাইল থানায় হলেও তারা সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রাম্য সমাজভুক্ত।

এ প্রসঙ্গে সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বলেন, অন্য একটি মামলা তদন্ত করতে তিনি ওই এলাকায় যান। এ সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তার কাছে অভিযোগ করেন সিলেটের সুনামগঞ্জ থেকে একজন ব্যক্তি গ্রামে এসেছেন এবং সে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাকে সতর্ক করার পরও তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের কথা মানছেন না। এ কারণে তিনি ওই বাড়িতে যান। তবে ওই ব্রাক কর্মকর্তার বাড়িটি ঘাটাইল থানার আওতাভুক্ত তা তিনি জানতেন না।

পরে ওই দিন বিকালেই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার ওই স্বেচ্ছাসেবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে ব্রাক কর্মকর্তার শ্যালকের উপর হামলা চালায়। হামলার অভিযোগটি তারা পেয়েছেন। হামলার সার্টিফিকেট হাতে পাওয়া মাত্রই মামলা দায়ের করাসহ অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি।

(আরকেপি/এসপি/মে ২৭, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

০৮ জুলাই ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test