E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

বোমাবাজ ভাই রাব্বি পালিয়ে বাঁচলেও বোমাসহ গ্রেপ্তার হলো নিরীহ বড় ভাই শাহারিয়ার

২০২০ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৮:৩৬:৫৪
বোমাবাজ ভাই রাব্বি পালিয়ে বাঁচলেও বোমাসহ গ্রেপ্তার হলো নিরীহ বড় ভাই শাহারিয়ার

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : বিক্রির জন্য মজুত রাখা দু’টি বোমাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে তাকে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতের নাম শাহাররিয়ার হোসেন কিষাণ। তার বাবার নাম এনামুল হক।

সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইয়াছিন আলম চৌধুরী জানান, বিক্রির জন্য বোমা মজুত করে রাখা হয়েছে এমন খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুর গ্রামের এনামুল হকের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় এনামুলের ছেলে বোমা প্রস্ততকারি দিদারুল ইসলাম রাব্বি পালিয়ে যায়। ঘরের মধ্যে অবস্থানকারি তার ভাই শাহারিয়ারকে দু’টি তাজা বোমসহ গ্রেপ্তার করা হয়। বোমা দু’টি বিক্রির জন্য তারা মজুত রেখেছিল বলে জানান শাহারিয়ার।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ নয় বছর খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মোজাহার রাজাকারের ছেলে শাহানেওয়াজ ডালিম অনিয়ম ও দূর্ণীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিপক্ষে অবস্থানকারি রমজান মোড়ল, আলতাফ হোসেন বকুলসহ বিভিন্ন লোকজনের নামে পরিকল্পিত বোমা হামলা মামলা, চাঁদাবাজি মামলা দিয়েছে। তার বাহিনীর অত্যাচারে অনেকেই পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছে। আবার অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এমন এক পরিস্থিতিতে গত ১১ এপ্রিল আওয়ামী লীগ নেতা শরবৎ মোল্লা হত্যা মামলায় চেয়ারম্যান ডালিমসহ তার পক্ষের ৫৭ জনের নামে মামলা হয়। মামলায় অনেকে গ্রেপ্তার হয়, অনেকে জামিন পায় আবার কয়েকজন পালিয়ে রয়েছে। শরবৎ হত্যা মামলার পর থেকে অহিদুল ও কুদ্দুস বাহিনীর সদস্যরা ডালিম সমর্থকদের ঘেরে লুটপাট চালাতে থাকে। এমন এক পরিস্থিতিতে গত সোমাবার গভীর রাতে ঢাকার খিলক্ষেত থেকে চেয়ারম্যান ডালিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা আরো জানান, ডালিম চেয়ারম্যানের দুর্গে ভাঙন ধরেছে বুঝতে পেরে আগামি ২০২১ সালের মার্চে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস খুলনার প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার গদাইপুরের অহিদুলকে প্রতিদ্বন্দিতার আশ্বাস দেন। চেয়ারম্যান ডালিমকে প্রতিহত করতে সার্বিক সহায়তা দিতে থাকেন অহিদুল। কিন্তু ডালিমের প্রতিদ্বন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠণিক সম্পাদক কাপষণ্ডা গ্রামের রমজান মোড়লকে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়ে তাকে খতম করার পরিকল্পনা নেয় কুদ্দুস ও অহিদুল।

এরই অংশ হিসেবে ডালিমের কাছের লোক বলে পরিচিত বোমাবাজ ইউনুস ও শরবৎ হত্যা মামলার আসামী তার দু’ ছেলেকে নিজেদের দলে ভিড়িয়ে তাদেরকে ব্যবহার করে সোমবার রাতে কাপষণ্ডার মিজানুর রহমানের খাসটিয়া বিলে বোমা মেরে মাছ লুটের নাটক সাজিয়ে রমজানসহ ১১জনের নামে বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দেওয়া হয়। কাপষণ্ডা বাজারে রমজান মোড়লের নিয়ন্ত্রণাধীন আওয়ামী লীগের অফিস ও ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালকদের অফিস ভাঙচুর করা হয়। রমজান সমর্থক ব্যবসায়িদের বাজার ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পিটিয়ে জখম করা হয় রমজানের বোন হামিদা ও Ÿ্যবসায়ি আব্দুল মজিদকে। হামিদা আশাশুনি হাসপাতালে চিকিঃসাধীন। আব্দুল মজিদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

র‌্যাব ও পুলিশের ভুমিকার কারণে পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এরপরও গদাইপুরের এনামুলের ছেলে বোমাবাজ রাব্বিকে দিয়ে কুদ্দুস ও অহিদুলের পথের কাঁটা রমজানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এর প্রস্তুতিকালে গোয়েন্দা পুলিশ রাব্বির বাড়ি থেকে দু’টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে। তবে রাব্বি পালিয়ে গেলেও তার নিরীহ বড়ভাই শাহারিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে ডালিমকে মামলায় দিয়ে রমজানকে মামলায় মামলায় জর্জরিত করে এলাকা ছাড়া করতে উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ পর্যায়ের নেতা অহিদুলের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা লুটে নিচ্ছেন বলে তারা মনে করেন।
তবে রুহুল কুদ্দুস ও অহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকায় কোন অনৈতিক কাজের সঙ্গে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইয়াছিন আলী চৌধুরী বলেন, বিক্রির প্রস্তুতিকালে শাহারিয়ার নামে এক যুবককে দু’টি বোমাসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় শাহারিয়ার ও তার ভাই রাব্বির নাম উল্লেখ করে উপপরিদর্শক ফরিদ হোসেন বাদি হয়ে রাতেই আশাশুনি থানায় মামলা করবেন।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কবীর বলেন, খাজরার পরিস্থিতি নিয়ে সব সময় পুলিশ সজাগ রয়েছে। মিজানুর রহমানের ঘেরের বোমা হামলা মামলায় যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া কাপষন্ডা গ্রামের হামিদা বানু ও আব্দুল মজিদকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় হামিদা বানুর দেওয়া এজাহারটি যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গদাইপুরে বোমাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থানায় কোন এজাহার দেওয়া হয়নি।

(আরকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

২৪ অক্টোবর ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test