E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

সিজারে গাফিলতিতে প্রসূতির অবস্থা সঙ্কটাপন্ন

নড়াইল হাসপাতালের ডাক্তারসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

২০২১ জানুয়ারি ২৮ ১৬:২৩:১৭
নড়াইল হাসপাতালের ডাক্তারসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শেখ সাদ বীনশরীফ, নড়াইল : নড়াইলের একটি ক্লিনিকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে অপারেশন ও চিকিৎিসকের গাফিলতিতে প্রসূতি মায়ের জীবন সংকটাপন্ন হওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। 

নড়াইল সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোঃ আকরাম হোসেনসহ ইমন ক্লিনিকের মালিক সরোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগমের নামে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী প্রসূতি ঝুমা বেগমের স্বামী মাহফুজনুর রিপন।

২৫ জানুয়ারি নড়াইল সদর নালিশী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। নালিশী আদালতের বিচারক সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদা আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সিভিল সার্জনকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলেছেন।

মামলায় বলা হয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর ইমন ক্লিনিকে সিজার অপারেশন করাতে যান সন্তান সম্ভাবা মা ঝুমা বেগম। অপারেশন করেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকরাম হোসেন। ঐ অপারেশনে নিম্নমানের সুতাসহ চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবহার করায় রোগীর তলপেট ফেটে রক্ত বের হয়ে জরায়ূ এবং প্রস্রাবের নালীতে পচন ধরে। অবস্থা খারাপ হলে খুলনায় নিয়ে ২য় দফা অপারেশন করে জরায়ু কেটে ফেলা হয়। এই ভুল চিকিৎসায় চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকেরা যুক্ত।

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং চিকিৎসকের গাফিলতির ফলে ৪ লক্ষ টাকা খরচসহ স্ত্রীর জীবন বিপন্ন হওয়ায় আদালতের কাছে উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন মামলার বাদী মাহফুজ নুর রিপন। মামলার স্বাক্ষী হিসেবে খুলনার গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শামছুন্নাহার লাকী, নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুব্রত কুমার বাগচীসহ ৫ জনকে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইমন সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিক সরোয়ার হোসেন (০১৭১৮৫৪০৯১৭) ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, আমাদের ক্লিনিকে আমরা যথাযথভাবে চেষ্টা করি রোগী সুস্থ করার জন্য। এখান থেকে চলে গিয়ে রোগীরা অসেচেতনভাবে অনেক কাজ করে, যাতে তাদের অন্য কোন সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে আমাদের কোন দায় নেই।

মামলার অপর আসামি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. আকরাম হোসেন (০১৭১১৭০৯০৯৫) বলেন, আমি তো অপারেশন ভালোভাবেই করলাম, ঘটনা তো অনেকদিন আগের। এরপর তারা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, খুলনায় চিকিৎসা নিয়েছে, কোথা থেকে কি হয়েছে আমি বুঝতে পারলাম না।

এদিকে জেলায় সদ্য যোগদানকারী সিভিল সার্জন ডা. নাসিমা আকতারের (০১৯১৫৯৮১৪৯৬) সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি তেমন কিছুই জানিনা। আমি ছুটিতে আছি। (২৮ জানুয়ারি) নড়াইলে জয়েন্ট করে এ ব্যাপারে কথা বলতে পারবো।

(এস/এসপি/জানুয়ারি ২৮, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

০১ মার্চ ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test