E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

হাতকড়া পরিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকে আটকে রাখলেন এসআই!

২০২১ মার্চ ০১ ১৭:৫৮:৪৫
হাতকড়া পরিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকে আটকে রাখলেন এসআই!

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে ২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা ভোটকেন্দ্রের ভিতরে এজেন্টদের খাদ্য সরবরাহ করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে কারণ জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধরের শিকার হন জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের ওই নেতাকে হাতকড়া পরিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সামনেই পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে বেধড়ক মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে ২০নম্বর ওয়ার্ডে বগুড়া কলেজ ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ছাত্রলীগ নেতার নাম মুকুল ইসলাম। তিনি বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১টার দিকে ধাওয়াপাড়া বগুড়া কলেজ ভোটকেন্দ্রে মেয়র পদে নৌকার এজেন্ট হিসেবে থাকা আওয়ামী লীগ কর্মীদের জন্য প্যাকেট খাবার সরবরাহ করছিলেন ২০নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন। একপর্যায়ে প্যাকেট ঘাটতি পড়ায় তিনি কেন্দ্রের বাইরে থেকে আরও কিছু খাবার নিয়ে দ্বিতীয় দফা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন। এ সময় ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের ওই নেতাকে বাধা দেন। এ সময় নৌকার কর্মী ছাত্রলীগ নেতা মুকুল ইসলাম পুুলিশের উক্ত কর্মকর্তার নিকট বিনয়ের সঙ্গে কারণ জানতে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হন।

মুকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘নৌকার এজেন্টদের জন্য খাবার নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। মুকুল তখনো নির্বাচন কেন্দ্রের সীমানার বাহিরে থেকে কথা বলছিলেন।

মুকুল আরো জানান, একপর্যায়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম তেড়ে এসে আমার শার্টের কলার চেপে ধরেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এসময় তাকে আমি নিজের পরিচয় দেই এবং জানাই একজন অনার্স পাস ছেলেকে এভাবে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে পারেননা। এতে আরো ক্ষীপ্ত হয়ে তিনি তাৎক্ষণিক কলার ধরেই টেনে হিচরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন।

এসময় মোবাইল বের করতে গেলে তিনি মোবাইল কেড়ে নেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় বলেন “আওয়ামী লীগ তোর পা..(পশ্চাৎদেশে) মধ্যে ঢুকাবো। ডাক তোর কোন নেতাকে ডাকবি”। এরপর মারতে মারতে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম প্রিসাইডিং কর্মকর্তার রুমে ঢুকেই হাতকড়া লাগান এবং কনস্টেবল সাকিব মিলে দ্বিতীয়দফা বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে রাইফেলের বাট দিয়ে মারধর করে এবং অশ্রাব্য গালীগালাজ চলতেই থাকে। ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষের সবাই হতচকিত হয়ে পড়েন এবং ভয় পেয়ে যান। ভোট কেন্দ্রের সীমানার বাহিরে ছাত্রলীগ কর্মীরা অন্যায়ের প্রতিবাদে শ্লোগান দিলে তাদের লাঠিচার্জ করে। মারধর একটু থামলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার টেবিলের সামনের চেয়ারে বসে মুকুল, একটু পর উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম আবার অশ্রাব্য ভাষায় গালীগালাজ করে তেড়ে আসেন চেয়ার থেকে মাটিতে বসাতে।’

মুকুল জানান, “এভাবে হাতকড়া পড়া অবস্থায় অনেকক্ষণ থাকার পর কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ দলের সঙ্গে থাকা শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান এসে ঘটনার সঠিক বিহীত না করে আমাকে দিয়েই উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের নিকট ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে এবং এরপর হাতকড়া খুলে দেয়। হাতকড়া খুলে দেয়ার পর আরো ৩০মিনিট আটকে রাখা হয় এবং তারপর ছেড়ে দেয়া হয়। এমন ঘটনায় আমি ভীষণ ভাবে ব্যাথিত। আমি ঘটনার বিচার চাই।”

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুল মালিক জানান, ওই যুবককে কেন আটক করা হয়েছে এবং হাতকড়া পরিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশ কোনো অনুমতি নেয়নি। শুধু জানিয়েছে, কেন্দ্রে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। হাতকড়া পরানো অবস্থায় মুকুল হোসেনকে পুলিশের মারধরের বিষয়ে আবদুল মালিক বলেন, ধস্তাধস্তি হয়েছে, মারধরের সময় তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

মামলা কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে হাতকড়া পরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, ‘বাইরে ওসি জামান স্যার আছে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন।’

ভোট কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ দলের সঙ্গে থাকা শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান প্রচার মাধ্যমকে জানান, ছাত্রলীগের ওই নেতাকে আটক বা হাতকড়া পরানোর ব্যাপারে এসআই কিছুই জানাননি। বিষয়টি দেখা হচ্ছে। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ মুকুল হোসেনকে ছেড়ে দেয়।

মুকুলকে হাতকড়া পড়ানো ও মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস আলম জানান, আইনশৃ্খংলা রক্ষার্থে নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা দেয় হয়েছে, তাই বলে মামলা কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে হাতকড়া পরানোর আইনত কোন ক্ষমতা কারো নেই। দু-একজন সদস্যের কারণে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস কলঙ্কিত হচ্ছে। বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মুকুল ইসলাম একজন ত্যাগী ও মেধাবী নেতা। মুকুলের সঙ্গে ঘটা অন্যায় তদন্তপূর্বক অবিলম্বে উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম-এর বিচারের দাবী জানাচ্ছি।

বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস জানান, মুকুলের সঙ্গে ঘটা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অন্যায়ভাবে মুকুলের হাতে হাতকড়া পড়ানো হয়েছে এবং বেদম মারধর করা হয়েছে। আমি পুলিশ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্র্তপক্ষের নিকট অনুরোধ জানাবো ঘটনার তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের। মুকলের হাতে হাতকড়া পরানো এবং মারধরের মতো অন্যায়ের জন্য উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের বিচার চাই।

(আর/এসপি/মার্চ ০১, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

১৮ এপ্রিল ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test