E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

পাংশায় র‍্যাবের নির্যাতনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

২০২১ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৯:০৬:০৪
পাংশায় র‍্যাবের নির্যাতনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এ কে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ী পাংশা পৌর সভাধীন ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগ এর সাবেক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম বাবু কে র‍্যাব -১২ তুলে নিয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেল করেছে। 

প্রথমেই লিখত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ রবিউল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন, আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি এবং আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারের উধর্তন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। এই যে, আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লালিত আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য। আমার পিতাঃ কাজী নজরুল ইসলাম সাবেক পাংশা পৌর-২নং ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি। আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের প্রতি একটি কুচক্রীমহল প্রতিনিত অন্যায় নির্যাতন করে আসছে। আমার দোষ আমি সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি এবং আওয়ামীলীগ নাম ধারী সার্থপর নেতাদের ব্যক্তিগত সার্থ চারিতার্থ করিবার জন্য কোন অন্যায় আদেশ নির্দেশ পালন করিনা।

যার কারণে, বিগত ২০১১-১২ ইং সালে একবার আমাকে কুপিয়ে মেরে ফেলার উদ্দের্শে ফেলে রেখে চলে যায় ওই সকল নেতাদের নিজেস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। আবার ২০১৮-১৯ সালে ২০০পিচ ইয়াবা দিয়ে পাংশা থানার সাবেক ওসি আহসানউল্লাহ ওই সকল নেতাদের নিদ্দেশে আমাকে চালান করে। আমি প্রায় ৩ মাস জেল হাজতে থাকার পর যখন বাড়িতে আসি আমাকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে ওই নেতারাই।

সম্প্রতি গত ২২ তারিখ মন্ডলবার দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে আমাকে এবং আমার পিতাকে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে ফিল্মী কায়দায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে যায় পরে জানতে পারি এরা র‌্যাব-১২ এর সদস্য। আমাকে একটি মাইক্রোতে তুলে চরআফড়া মধ্যেপাড়া নিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা দাড় করিয়ে রাখে। এর পর তারা অন্য এক বাড়ীতে যায়। পরে জানতে পারি আরেক আওয়ামীলীগের সদস্য মোঃ শবদুলের ধরতে যায়। তাকে না পেয়ে ঐ এলাকাতে গাড়ী দাড় করিয়ে গাড়ীর মধ্যে থাকা ব্যাগের ভিতর থেকে অস্ত্র ঢেলে এলাকাবাসির জোর করে স্বাক্ষী ও ভিডিও করে। পরে আমার পিতা ও আমাকে বাড়ীতে রেখে যাওয়ার আগে আমাকে বিভিন্ন হুমকি দেয়। র‍্যাবের নেতৃত্বে থাকা অফিসার আমাকে বলে তুমি এমপির সাথে গিয়ে দেখা করবি। তা না হলে তোর জন্য সামনে আরো বিপদ রয়েছে।

পরে জানতে পারি যার নেতৃত্বে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো তিনি র‌্যাব-১২ সিসিপি-২ কোম্পানি কমান্ডার পাবনা এর এ.এস.পি কিশোর রায়। আরো জানতে পারি ১.মোঃ রকি শিকদার(৩০) পিতাঃ মোঃ আতর আলী শিকদার সাং চরআফড়া। ২. সবুজ প্রামানিক পিতাঃ মকছেদ প্রামানিক সাং চরআফড়া। ৩. খোকন মন্ডল(৩৫)পিতাঃ মোঃ আতর মন্ডল সাং চরআফড়া। এড়াই মূলত এলাকার সন্ত্রাসী এবং অস্ত্র বিক্রেতা। র‌্যাব-১২ ও কিছু প্রসাশনিক কর্মকর্তা সমন্বয়ে এই কাজ গুলো করে থাকে এরাই। তবে এদের উৎস দাতা কে? কে এই সন্ত্রাসীদে মদদ দাতা। এই সন্ত্রাসীদের জিজ্ঞাসা করলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে।

এসময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন, পাংশা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র ওয়াজেদ আলী, পাংশা উপজেলা আওয়ামিলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আহম্মদ হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দিবালোক কুন্ডু জীবন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম খান, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যশাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান মন্ডল, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী, পাট্টা ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী বিশ্বাস ও প্রত্যক্ষ দর্শিরা। উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি বক্তারা।

পরে প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী আনোয়ারা বেগম উক্ত ঘটনা বর্ণনা কালে কান্নায় ফেটে পড়ে এবং র‍্যাবের নির্যাতনের কথা বলেন।

উল্লেখ্য গত বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) পাংশা মডেল থানায় পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দকৃত মালামাল জমাকরণ ও সাধারণ ডাইরি প্রসঙ্গে একটি লিখিত দরখাস্ত করেন সিসি-২, র‍্যাব -১২ পাবনা এর এস আই (নিঃ) মোঃ হেমায়েত হোসেন।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আমি ও আমার সঙ্গিয় অফিসার গন মঙ্গবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে যথা রীতি নিয়মিত টহলে বাহির হইয়া পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানাধীন রূপপুর মোড় এলাকায় অবস্থান কালে রাতে ১২.৪৫ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানাধীন চর-আফড়া মধ্যেপাড়া এলাকার মিরাজ মোল্লা ও সাচ্ছু মন্ডলের মুদি দোকানের মাঝামাঝি ইটের সলিং রাস্তার পাশে কিছু অস্ত্র পরে আছে। বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উর্ধধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করে বর্ণিত ঘটনাস্থলে (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ৪.১৫ সময় উপস্থিত হয়ে জনতা ও স্বাক্ষীদের সম্মুখে পরিত্যক্ত বারমার তৈরি ৪ টি ৮ চেম্বার বিশিষ্ট রিভলবার ও ১ টি বারমার তৈরি ১ টি ওয়ান শুটার গান,যাদের প্রতিটি হাতল কাঠের। এছাড়াও সবগুলো অস্ত্রের টিগার ও ফায়ারিং পিন সংযুক্ত এবং সবগুলোই সচল।

(একে/এসপি/সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

১৬ অক্টোবর ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test