E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

বিএনপির সমাবেশে গুলি

হবিগঞ্জে এসপি-ওসিসহ ৫৪ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

২০২১ ডিসেম্বর ৩০ ১৮:২৫:০৯
হবিগঞ্জে এসপি-ওসিসহ ৫৪ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

তারেক হাবিব, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জে বিএনপির সমাবেশে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এসপি, ওসি সহ ৫৪ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান উদ্দিন প্রধানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন জেলা বিএনপির সদস্য এডভোকেট শামছুল ইসলাম। দীর্ঘ শুনানী শেষে মামলার আদেশ পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিচারক।

এ মামলার আসামীরা হলেন- হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুক আলী, ডিবি’র ওসি আল-আমিন, ওসি (তদন্দ) দৌস মোহাম্মদ, এসআই (নিরস্ত্র) নাজমুল হাসান, এএসআই আবু জাবের, এএসআই বাপ্পী রুদ্র পাল ও এএসআই আলমগীর হোসেন সহ ৫৪ জন পুলিশ সদস্য। মামলায় অভিযোগ আনা হয়- বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবীতে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি গত ২২ ডিসেম্বর একটি সমাবেশ আহবান করে।

সমাবেশটি করতে হবিগঞ্জ পৌরসভার মাঠে ও চিলড্রেন পার্ক ব্যবহার করার জন্য প্রশাসনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসন অনুমতি দেয় নাই। এরই মধ্যে জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি সর্বমহলে প্রচারিত হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে শায়েস্তানগরস্থ বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা বিএনপি। যথারীতি বিষয়টি লিখিতভাবে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়। কিন্তু পুলিশ পার্টি অফিসের সামনে একটি ছোট মঞ্চ তৈরীর কাজে বাঁধা দেয় এবং গলির পূর্ব, পশ্চিম মুখে বেরিকেড দিতে শুরু করে। বেলা ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অর্থাৎ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি ও চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সভাস্থলে উপস্থিত হন এবং সভাস্থলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হতে শুরু করে। কিন্তু পুলিশ হবিগঞ্জ শহরের সকল প্রবেশ মুখে চেক পোষ্ট বসিয়ে সভাস্থলে আসা নেতাকর্মীদের আটক ও হয়রানী করতে থাকে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ ও জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হাশিম পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী শান্তিপুর্ণভাবে পালন করার সুযোগ দেওযার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেন। কিন্তু পুলিশ অহেতুক উত্তেজিত ও মারমুখী আচরণ শুরু করে এবং সভাস্থলে জনতার আসা বন্ধ না হলে গুলি করবে বলে হুমকি দেয়।

এক পর্যায়ে পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলি, সদর থানার ওসি মাসুক আলী, ডিবি’র ওসি আল আমিন এবং ওসি (তদন্ত) দৌস মোহাম্মদের নির্দেশে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক পুলিশ সমাবেশ স্থলের সামনে ছাত্রদলের মিছিলে গুলি বর্ষন শুরু করে। পুলিশের গুলিতে বহু নেতাকর্মী আহত হয়ে মাটিতে লুটাইয়া পড়ে। পুলিশের ছোড়া গুলিতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ রাজীব আহম্মেদ রিংগনের শরীর ঝাঝড়া হয়ে যায়। তার সারা শরীরে শত শত স্লিন্টার এর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়। ছাত্র দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের চোখে গুলির আঘাতে তার ডান চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। গুলির আঘাতে হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত কাউন্সিলর সফিকুর রহমান সিতু, আশরাফুল আলম সবুজ, ইয়ামিন মিয়া, তৌহিদুর রহমান অনি, নাজমুল হোসেন অনিসহ অনেকে গুরুতর আহত হয়। পুলিশের গুলিতে প্রায় ৩০০ (তিনশত) নেতাকর্মী আহত হয়।

মামলার আসামীগণ বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে সর্বমোট ৭৫৪ টি শর্টগানের বা ৪৪৮ টি শর্টগানের সীশা এবং ৯০টি গ্যাস গানের শর্টসেল নিক্ষেপ করে এবং তিনশত নেতাকর্মীকে আহত করে। যারা বর্তমানে জীবন মৃত্যুর সন্নিক্ষনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পুলিশ বিনা কারণে শান্তিপ্রিয় নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি বর্ষন করে মারাত্মক অঙ্গহানি ও গুরুতর জখম করে শাস্তিয্যো অপরাধ করেছে বিধায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

মামলার বাদী এডভোকেট শামছুল ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবীতে বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ প্রায় ১২শ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও হবিগঞ্জে এত গুলি নিক্ষেপ করা হয়নি। এতে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছে, অনেকের অঙ্গ হানী হয়েছে। আমরা সুষ্ট বিচারের আশায় আদালতের স্মরনাপন্ন হয়েছি। আমি আশা রাখি ন্যায় বিচার পাবো।

(টিএইচ/এসপি/ডিসেম্বর ৩০, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২৮ জুন ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test