E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

ত্রাণের গোশত দিয়ে পিকনিক!

২০১৪ এপ্রিল ২৫ ১৪:২৭:৫৪
ত্রাণের গোশত দিয়ে পিকনিক!

রাজশাহী প্রতিনিধি: জেলার তানোরে দুঃস্থ ও হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দের দুম্বার গোশত দিয়ে ‘পিকনিক’ করেছেন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বইছে সমালোচনার ঝড়।

গত ২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ত্রাণের গোশত দিয়ে এই ‘পিকনিক’ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদিআরব থেকে ত্রাণ হিসেবে বাংলাদেশে আসে দুম্বার গোশত। এসব গোশত বিভিন্ন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) মাধ্যমে সরাসরি সমাজের দুঃস্থ ও হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের কথা। পিআইও গরীবের জন্য বরাদ্দকৃত এসব গোশত উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচিত (চেয়ারম্যান-মেম্বার) জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা সমাজের দুঃস্থ ও হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ না করে নিজেরা আনুপাতিক হারে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার পাড়িশো দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুল গাফফার জানান, তিনি শুনেছেন দুম্বার গোশত এসেছে, কিন্তু দুইদিন যাবত চেয়ারম্যান ও মেম্বারের পিছে ঘুরেও এক টুকরা গোশত সংগ্রহ করতে পারেননি। উপজেলার হিরানন্দপুর (কুজিশহর) গ্রামের মৃত আমের মোল্লার পুত্র মিজানুর মোল্লা অভিযোগ করেন, তাঁর ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দকৃত দুম্বার গোশত মেম্বার আক্কাশ আলী তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন।

জানতে চাইলে কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন প্রামাণিক চোখ কপালে তোলার মতো কথা বলেন, ‘অল্প একটু দুম্বার মাংস বণ্টনের জন্য দেওয়া হয়। এসব মাংস গরীবের মধ্যে বণ্টন করতে গেলে এক টুকরা করেও দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই মেম্বারদের নিয়ে পিকনিক করেছি।’

তিনি বলেন, ‘দুম্বার অল্প একটু মাংস নিয়ে সরকার কেনো যে এসব করে সেটা বোধগম্য নয়। গরীব-দুঃখীদের যদি মাংস খাওয়াতে হয় তাহলে বেশি করে বরাদ্দ দেওয়া হোক, তা না করে অল্প একটু মাংস দিয়ে কেনো আমাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হচেছ।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘সরকারের বরাদ্দকৃত দুম্বার মাংস সমাজের দুঃস্থ ও হতদরিদ্রদের মধ্যে বণ্টনের জন্য চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুই একটি ইউপির চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা গরীব-দুঃখীদের মধ্যে বণ্টন না করে নিজেরা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন।’

(ওএস/এটি/এপ্রিল ২৫, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

১৭ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test