E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

জোরপূর্বক কৃষি জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ, নষ্ট হচ্ছে শত শত বিঘা আবাদি জমি

২০২২ জুন ১৮ ১৮:২২:৩৪
জোরপূর্বক কৃষি জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ, নষ্ট হচ্ছে শত শত বিঘা আবাদি জমি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চড়িয়া শিকায় জোরপূর্বক  এস্কেবেটর মেশিন (বেকু) ব্যাবহার করে কৃষিজমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মানের ঘটনা ঘটেছে। জমির মধ্যভাগ থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৫ ফিট গভীর করে মাটি কেটে নেয়ায় নষ্ট হচ্ছে শতাধিক বিঘা আবাদি জমি। বাধা দিলে জমি মালিকদের হুমকি দিয়ে বলপ্রয়োগ করে মাটি কেটে নেবার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রভাবশালি একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও মিলছে না সমাধান।

সরেজমিন উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চড়িয়া শিকা গ্রামঘুড়ে, ভুক্তভোগি ও জনসাধারনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চড়িয়া শিকা নুরু ডা: এর বাড়ি হতে রশিদপুর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার মাটির রাস্তা নির্মানের জন্য বরাদ্দ প্রদান করেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য তানভীর ঈমাম। হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: হেদায়েতুল আলম রেজা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান। স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের কিছু নেতা-কর্মিকে সাথে নিয়ে রাস্তা নির্মান শুরু করেন চেয়ারম্যান। প্রায় ১০ ফিট উচ্চতা ও ১০ ফিট প্রস্থের রাস্তাটি নির্মানে এস্কেবেটর (বেকু) মেশিনের মাধ্যমে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা শুরু করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারিরা।

কৃষি জমির মাঝখান থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৫ ফিট গভীর করে মাটি কাটা শুরু করলে বাধা দেন কৃষক ও জমি মালিকেরা। কিন্তু বাধা অগ্রাহ্য করে প্রায় এক কিলোমিটার ব্যাপি রাস্তার দুই পাশের কৃষিজমির মাঝখান থেকে ১২ থেকে ১৫ ফিট গভীর করে মাটি কেটে নেয়া হয়। ইতিমধ্যেই চড়িয়াশিকা ও রশিদপুর গ্রামের মুমিনুল, আ: হাকিম মোল্লা, রেজাউল মোল্লা, আলাউদ্দিন মোল্লা, আশিক ফকির, লিটন ফকির, ছবুর মল্লিক, রাজ্জাক মল্লিক, রশিদ মল্লিক, কোবাদ মল্লিক, খোকন মল্লিক, সাইদুল মল্লিক, মোহাম্মদ মল্লিক, লোকমান মল্লিকসহ বেশ অর্ধশতাধিক ব্যাক্তির ও চড়িয়াশিকা মসজিদ কমিটির মালিকানাধিন শতাধিক বিঘা জমির মাটি কেটে নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জমি মালিকেরা।

এবিষয়ে স্থানীয় জমি মালিক আ: হাকিম মোল্লা বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। স্থানীয় এমপিসহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু কিছুতেই কৃষিজমির মাটিকাটা বন্ধ হচ্ছে না। আমরা এর সুষ্ট সমাধান ও জমির মাটিকাটা বন্ধ হওয়া চাই।

ক্ষতিগ্রস্থ জমি মালিক ছানোয়ার হোসেন জানান, রাস্তা সবার জন্য প্রয়োজন, এমপি মহোদয় টাকা বরাদ্দ দিয়েছে মাটি কিনে এনে রাস্তা করা হোক, এতে জমিও বাচবে, রাস্তাও হবে। কিন্তু তা না করে আামাদের একমাত্র সম্বল কৃভিজমির মাটি ১৫ ফিট গভীর করে কেটে রাস্তা করা সঠিক হচ্ছে না। যদি সম্পুর্ন জমি থেকে ১ বা ২ ফিট মাটি কেটে নিতো আমাদের এত ক্ষতি হত না। জমিতে ফসল ফলানো সম্ভব হতো কিন্তু এখনতো আর কোন আবাদ হবে না।

এবিষয়ে হাটিকুমরুল ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতুল আলম জানান, রাস্তাটি অত্যান্ত জনগুরুত্বপূর্ন, বারবার এমপি মহোদয়কে বলার পর তিনি অনুদান দিয়েছেন। এভাবে না করলে রাস্তাটি হবে না।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: উজ্জল হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

(আই/এসপি/জুন ১৮, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

২৫ জুন ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test