E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

৮ বছর পর ২৭ নভেম্বর হচ্ছে উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন

নবীনগরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কারা হচ্ছেন? চলছে গ্রুপিং লবিং!

২০২২ নভেম্বর ২৪ ১৭:২১:৫৪
নবীনগরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কারা হচ্ছেন? চলছে গ্রুপিং লবিং!

গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দীর্ঘ আট বছর পর অবশেষে আওয়ামীলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামি ২৭ নভেম্বর রবিবার। তবে কাংখিত এ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন করে নবীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা নির্বাচিত হবেন, তা নিয়ে চলছে লবিং গ্রুপিং।  আওয়ামীলীগ ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন মহলেও সম্মেলন নিয়ে চলছে নানা হিসেব নিকেশ ও বিভিন্ন কানাঘুষা।

আওয়ামীলীগের আসন্ন সম্মেলন দলটির সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম জানান, দীর্ঘ ৮ বছর পর আগামি ২৭ নভেম্বর নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য দলটির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রআম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী এমপি। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি। সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুলসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।

এতে সভাপতিত্ব করবেন নবীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল।
আজ দিনভর দলটির স্থানীয় নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন সম্মেলনে নতুন করে 'সভাপতি' পদে দু'জনের নামই এখন সবচেয়ে জোরে সোরে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। এঁরা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল। এ ছাড়া দলের সিনিয়র সহ সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা নিয়াজ মোহাম্মদ খান ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিমের নামও 'সভাপতি' পদে কেউ কেউ গুরুত্ব দিয়েই আলোচনা করছেন।

তবে 'সাধারণ সম্পাদক' পদে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জনের নাম বিভিন্ন সূত্র ও ফেসবুকের মাধ্যমে নানাভাবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, দলের গুরুত্বপূর্ণ 'সাধারণ সম্পাদক' পদ পেতে ইচ্ছুক ওই ১০ নেতা হলেন নবীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এডভোকেট সুজিত কুমার দেব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন চৌধুরী শাহান, জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক, নবীনগর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট শিব শংকর দাস, জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা ব্যারিষ্টার জাকির আহাম্মদ, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, সাতমোড়া ইউপির চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা সফিকুল ইসলাম শফিক, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক সাংবাদিক নিয়াজুল হক কাজল, উপজেলা আওয়ামীলীগের দুই সদস্য, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কাজী জহির উদ্দিন ছিদ্দিক টিটো ও ঢাকার সাবেক ছাত্রনেতা, উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, 'সভাপতি' পদে যাঁদের নামই শোনা যাক না কেন, বর্তমান সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল কিংবা বর্তমান সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদল এ দুজনের একজনই এ দায়িত্ব পাবেন, এটি প্রায় নিশ্চিত।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, ফয়জুর রহমান বাদল গত টার্মে নবীনগরের সার্বিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব অবদান রাখার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে তাঁর নানান কর্মযজ্ঞে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। তবে বাদলের পর এবাদুল করিম বুলবুল সংসদ সদস্য হয়ে বিএনপির দখলে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান, দুটি ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌরমেয়র পদটি তাঁর ক্যারিশমায় উদ্ধার করেন। সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে নবীনগর থেকে 'সদস্য' পদেও বাঘা বাঘা প্রার্থীদেরকে হারিয়ে তাঁর পছন্দসই প্রার্থীকে অর্থ, শ্রম, নির্বাচনী কৌশল ও মেধা দিয়ে জিতিয়ে এনেছেন।

নেতাকর্মীদের অনেকেই জানান, আওয়ামীলীগের হারিয়ে যাওয়া পাঁচ পাঁচটি প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদকে এবাদুল করিম যেভাবে শ্রম ও অর্থ দিয়ে উদ্ধার করেছেন, তাতে এইমুহুর্তে বাদলকে হারিয়ে 'সভাপতি' পদে এবাদুল করিম নতুন করে নির্বাচিত হয়ে গেলে আশ্চর্য হওয়ার তেমন কিছু থাকবেনা।

কারণ, গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে জনবান্ধব ও 'কর্মীবান্ধব' নেতা হিসেবে ফয়জুর রহমান বাদলের যে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা ছিলো, উল্লেখিত পাঁচজনকে অনেকটা একক প্রচেষ্টায় প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় 'জনপ্রতিনিধি' বানিয়ে বাদলের সেই ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তায় সেখানে বেশ ভালো করেই 'ভাগ' বসিয়েছেন 'নির্বাচনী অভিজ্ঞ খেলোয়ার' হিসেবে ইতিমধ্যে নিজেকে তৈরী করা এবাদুল করিম এমপি।

অন্যদিকে স্থানীয় নেতারা জানান, 'সাধারণ সম্পাদক' পদে ১০/১২ জন যেসব নেতার নাম শুনতে পাচ্ছি, সেক্ষেত্রে মেয়র এডভোকেট শিব শংকর দাস, উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান ও ব্যারিষ্টার জাকির আহাম্মদের নামই বেশী আলোচিত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মেয়র শিব শংকর দাসকেই সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রাখতে চাইছেন কেউ কেউ।

তবে সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন হবে নাকি কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের সিলেকশনে নতুন কমিটি গঠিত হবে, সেটির ওপরই নির্ভর করবে নানান হিসাব নিকাশ!

সেক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ পর্যবেক্ষকদের সব হিসেব নিকেশ উলট পালট করে 'বর্তমান সভাপতি, সাবেক সফল ও জনপ্রিয় সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদল 'সভাপতি' পদে এবং তিন তিন বারের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী 'অভিজ্ঞ খেলোয়ার' হিসেবে সব মহলে সুপরিচিত এম এ হালিমই যদি 'সাধারণ সম্পাদক' পদে নতুন কমিটিতে পুনরায় থেকে যান, তাতেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবেনা বলে অনেকেই উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের কাছে মত প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে আজ এম এ হালিম এ প্রতিবেদককে বলেছেন, সম্মেলনে আমি কখনও প্রার্থী হবোনা। তবে দলের প্রয়োজনে আমাকে দায়িত্বশীল পদে হাইকমান্ডসহ যদি নেতাকর্মীরা আবারও আমাকে চায়, আমি বঙ্গবন্ধুর একজন সামান্য সৈনিক হিসেবে আওয়ামীলীগে আজীবন কাজ করে যেতে চাই।'

(জিডি/এসপি/নভেম্বর ২৪, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

০১ ডিসেম্বর ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test