E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

বাকৃবিতে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট চলছে

২০১৪ এপ্রিল ৩০ ১৫:১৬:৪৮
বাকৃবিতে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট চলছে

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সাদ ইবনে মমতাজের হত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচারের দাবিতে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্রধর্মঘট চলছে। মঙ্গলবার ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ক্লাশ-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এদিকে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে এখন পর্যন্ত ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন অনুষদীয় ছাত্র সমিতির নেতাকর্মীরা। তারা ভিসির পদত্যাগও দাবি করেছেন।

এদিকে ভিসি জানিয়েছেন অনুষদীয় ছাত্র সমিতির নেতাকর্মীরা জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকের সামনে এসে জমায়েত হতে থাকে। পরে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিভিন্ন অনুষদ প্রদক্ষিণ করে ফের প্রশাসন ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন আমাদের দাবি দাওয়া নিয়ে টালবাহানা করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
এদিকে কাস-পরীক্ষা শুরুর দাবিতে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল হকের বাসভবন ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদীয় ছাত্র সমিতির নেতাকর্মীরা।
তারা বলেন, কবে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হবে ভিসিকে সামনে এসে লিখিতভাবে বলতে হবে। সা’দ হত্যার বিচারের দাবিতে মাসব্যাপী আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রসমিতির নেতাকর্মীরা বলেন, এদের মধ্য থেকে যারা শিক্ষক লাঞ্চিত করছে, ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করছে তাদের বিচার করতে হবে। তারা আরো বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ভিসি কোনো ঘোষণা না দেন আমরা এখানে (ভিসির বাসভবনের সামনে) অবস্থন করব।
ভিসির ভাষ্য :
ছাত্র সমিতির কর্মসূচি সম্পর্কে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অনুষদীয় ছাত্র সমিতির নেতাকর্মীরা জঘন্য সন্ত্রসী কর্মকাণ্ড করছে। এটা কোনোমতেই ছাত্র সুলভ আচরণ নয়। তারা ক্লাস-পরীক্ষা চাইলে আমার বাসভবন ঘেরাও করত না। সা’দ হত্যায় অপরাধীদের দ্রুত শান্তি দেয়ার জন্যই আমার বাসভবনে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যাদের ছত্র ছায়ায় তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করত আমি তাদের প্রশাসন থেকে সরিয়ে দেয়ায় তারা আজ আমার উপর ক্ষুব্ধ। তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। আমি অপরাধীদের বিচার করেছি বলে তারা এখন আমার পদত্যাগ দাবি করছে। একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনেই এসব চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভির্সি।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা অযৌক্তিকভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছে। সম্পূরক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য তাদের সময় দিতে হবে।
এদিকে চলমান আন্দোলনে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রক্টর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পশুপালন অনুষদের পশুপুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. জহিরুল হক খন্দকারকে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও একই অনুষদের ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া ছাত্র বিষয়ক বিভাগের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কৃষি অনুষদের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন এবং আশরাফুল হক হলের প্রভোষ্ট হিসেবে ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিসির বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি সভায় তাদের নিয়োগ দেয়া হয়।
(এসইএস/এএস/এপ্রিল ৩০, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test