E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

১৮ নেতাকর্মী জেলহাজতে

নবীনগরে বিএনপির ৩৩ নেতাকর্মীর মধ্যে বাবা-ছেলেও আসামি, আতঙ্কে নেতাকর্মীরা

২০২৩ অক্টোবর ৩০ ১৭:১৭:০৬
নবীনগরে বিএনপির ৩৩ নেতাকর্মীর মধ্যে বাবা-ছেলেও আসামি, আতঙ্কে নেতাকর্মীরা

বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় হরতাল চলাকালে পুলিশের কর্তব্যকাজে বাঁধা, যানবাহন ভাংচুর ও বিস্ফোরক দ্রব্যের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টির অভিযোগে বিএনপি'র ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বাবা ছেলেকেও আসামি করা হয়েছে। 

আসামির তালিকায় থাকা বাবার নাম আমীরুল ইসলাম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষক দলের 'যুগ্ম আহবায়ক'। আর ছেলের নাম আবদুল্লাহ আল উদয়। তিনি নবীনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির 'সদস্য সচিব'।

মামলার এজাহারে বাবাকে ২০ নম্বর ও ছেলেকে ২৯ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলাটির বাদী হয়েছেন নবীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) জাহাঙ্গীর আলম।

এদিকে গতকাল রবিবার বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়েরের পর থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই এখন গ্রেপ্তার আতংকে পলাতক রয়েছেন।

গতকাল দিনভর বিএনপি নেতাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে গিয়ে অনেককেই পাওয়া যায়নি।
বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার আতংকসহ তাদের বিরুদ্ধে আরও মিথ্যে মামলা হওয়ার আশংকাও তারা করছেন।

পুলিশ জানায়, ইতিমধ্যে আলোচিত এ মামলায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে গতকাল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাদী পুলিশের এস আই জাহাঙ্গীর আলম তার এজাহারে অভিযোগ করেন, পৌর এলাকার জল্লা তিন রাস্তার মোড়ে আসামিরা বেআইনীভাবে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যসহ হরতালের সমর্থনে ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাস্তায় চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে ভাংচুর ও নাশকতা চালায়। এসময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করলে, হরতাল সমর্থনকারীরা পুলিশের উপরও হামলা করে।

তবে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা পুলিশের এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও 'কাল্পনিক' বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে মামলার ২০ নম্বর আসামি জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক আমীরুল ইসলাম বলেন, 'এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ পুলিশের মনগড়া ও সাজানো। আমাদের জানামতে, এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। অথচ একটি মিথ্যে মামলায় আমরা বাড়িতে থাকার পরও আমাকে ও মাস্টার্সে অধ্যয়ণরত আমার ছেলেকে আসামি করা হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক।'

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, 'যা ঘটেছে, পুলিশ এজাহারে তাই লিখেছে। অর্থাৎ ঘটনার সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে, তাদেরকেই মামলায় আসামি করা হয়েছে।'
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মনির হোসেন বলেন, মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০ আসামীসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এরমধ্যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামীদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।'

এদিকে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আজও (৩০ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপির মোট ৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে চালান করেছে। গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওসি মাহবুব আলম।

(জিডি/এসপি/অক্টোবর ৩০, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

০৫ মার্চ ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test