E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

সাবেরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে সিএসজি অটো স্ট্যান্ড

যাত্রীবেশী বখাটেদের হাতে ইভটিজিংয়ের শিকার ছাত্রীরা

২০২৩ নভেম্বর ২০ ১৮:৩০:২৪
যাত্রীবেশী বখাটেদের হাতে ইভটিজিংয়ের শিকার ছাত্রীরা

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া : নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা সদরে নারী শিক্ষার প্রসারে গড়ে ওঠা একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়টির সামনে সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ড থাকার কারণে বখাটেদের হাতে প্রতিনিয়তই ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন ছাত্রীরা। তারা মনে নানা শঙ্কা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রতিকার মূলক কোন ব্যবস্থা না থাকায় নীরবে নিবৃত্তেই চলছে ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা। 

জানা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯৮৩ সালে নেত্রকোনা কেন্দুয়া সড়কের পাশে উপজেলা সদরে স্থাপিত হয় সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষার মান উন্নয়নে পাঠদানের কার্যক্রম ভালো থাকায় দিন দিনই বিদ্যালয়টিতে ছাত্রীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৭ জন। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ১৮ জন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখলেছুর রহমান বাঙ্গালী বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বিদ্যালয়টিতে একাডেমিক নতুন কোন ভবন হয়নি। তাছাড়া শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব না থাকায় ছাত্রীরা এ ক্ষেত্রে নিজস্ব উদ্যোগে পাঠ গ্রহণের ক্ষেত্রে উদ্যোগি হচ্ছেন। অথচ, উপজেলার প্রায় সব বিদ্যালয়েই শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব রয়েছে। কিন্তু সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে না থাকায় শিক্ষার্থীদেরকে অনেক অসুবিধার সন্মুখীন হতে হচ্ছে। সিফটিং ব্যবস্থা চালু না থাকায় ছাত্রীদেরকে গাদাগাদি করে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের গেটের সামনে এবং ডানে বামে দুই পাশে সিএনজি অটো স্ট্যান্ড রয়েছে। এই সিএনজি অটো স্ট্যান্ডের যানবাহনে বসে বখাটে যুবকেরা অনেক সময় ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিডিও ধারণ করে থাকে। তাছাড়া নানান কায়দায় ছাত্রীদের ইভটিজিং করে। সোমবার উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মুখলেছুর রহমান বাঙ্গালী এসব সমস্যার কথা তুলে ধরে সিএনজি অটো স্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে ছাত্রীদেরকে নিরাপদে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি তোলেন। বখাটেদের কিছু তারা নিজেরদেরকে যাত্রী বলে দাবি করে। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রীরা বলেন, বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করাই কঠিন হয়ে পরেছে। তারাও বিদ্যালয়ে নিরাপদে আসা যাওয়ার জন্য সিএনজি অটো স্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: এনামুল হক বলেন, সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সিএনজি অটো স্ট্যান্ডের শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী জালাল বলেন, ছাত্রীদেরকে স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে হবে। ছাত্রীদের নিরাপদে চলাচলের ক্ষেতে ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সমস্যা সমাধানে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

সোমবার বিকেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটো চালকের কাছে যাত্রীবেশী বখাটেদের ইভটিজিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সামনে এরকম কেউ করতে পারে না। তাছাড়া যদি স্ট্যান্ড অন্য জায়গায় দেওয়া হয় আমরা সেখানেই চলে যাব।

(এসবি/এসপি/নভেম্বর ২০, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

১৩ জুন ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test