E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

তালিকায় আসেনি অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের নাম

উফশী প্রনোদনার বীজধান ও সার প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন নামধারী কৃষকরা

২০২৩ নভেম্বর ৩০ ১৩:০৬:৩৭
উফশী প্রনোদনার বীজধান ও সার প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন নামধারী কৃষকরা

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া : কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিতরণ করা উফশী প্রনোদনার বীজ ও সার প্রকাশ্যে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ নামধারী কৃষকগণ তাদের নামে বরাদ্ধকৃত বীজ ও সার অবাধে ডিলারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে সরকারের উদ্দেশ্য অপরদিকে তালিকা থেকে বাদ পরেছেন অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে মোট ৫ হাজার ৩০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বোরো ধান উফশী প্রনোদনা বিতরণ করা হচ্ছে ৩-৪ দিন ধরে। বিতরণ করা প্রনোদনার মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি বীজ ধান ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ এমওপি সার। এসব বীজ সার কৃষি বিভাগ থেকে সংগ্রহ করে প্রকাশ্যেই প্রতিজন নামধারী কৃষক তাদের নামে বরাদ্ধকৃত সার ও বীজ ৪৭০ থেকে ৪৮০ ও ৪৯০ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এই ৫ কেজি বীজ ধান দিয়েই অন্তত পক্ষে ২৫ মন ধান উৎপাদন করা যেতো যদি তারা চাষ করতেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ২ সপ্তাহ আগে উফশী প্রনোদনা বিতরণের জন্য বরাদ্ধ আসে। এরপর উপজেলা কমিটির মাধ্যমে বিভাজন করে ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা তৈরির জন্য পাঠানো হয়। তারা তালিকা তৈরি করে পাঠানোর পর উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সার ও বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

অভিযোগ ওঠেছে, স্বজনপ্রীতির কারণে ওই তালিকা থেকে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের নাম বাদ পরেছে। দলপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: শাহিন মিয়া বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সংখ্যা পাওয়ার পর সকল ইউপি সদস্য ও তিনটি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদেরকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা তৈরির জন্য দেওয়া হয়। আমরা সকলে মিলেই ওই তালিকা করে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত তালিকা উপজেলা কৃষি বিভাগে জমা দেই। সেখান থেকে কৃষকরা বীজ ও সার উত্তোলন করে বিক্রি করে দেন কিনা, তা আমাদের জানা নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন সুলতানার কাছে জানতে চাইলে বুধবার তিনি বলেন, তালিকা তৈরি করেছেন পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটি। সেই তালিকা মোতাবেক প্রত্যেক কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, এক কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর ও মাস্টারোলে স্বাক্ষর গ্রহণ করে প্রত্যেককে ৫ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিতরণকালে আমি পরিদর্শনে গিয়ে দেখি ডিলারের কাছে প্রনোদনার বীজ সার বিক্রি করা হচ্ছে। তখন এ ঘটনা দেখতে পেয়ে একজনের বীজ সার জব্দ করেছি। এখন তারা অফিস থেকে স্লিপ সংগ্রহ করে নিয়ে ডিলারদের কাছে অন্য জায়গায় বিক্রি করছেন কিনা সেটা দেখার মতো সুযোগ আমাদের নেই। তাছাড়া যদি কোন প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক তালিকা থেকে বাদ পরে থাকেন তাহলে পরবর্তী সময়ে প্রনোদনা আসলে সেই কৃষকের তালিকা অর্ন্তভুক্ত করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডিলার বলেন, প্রতিজন কৃষক আমার কাছে স্লিপ নিয়ে আসছেন আমি ৪৮০ বা ৪৯০ টাকা দিয়ে ৫ কেজি বীজ ধান ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার কিনে রাখছি। তারা বিক্রি করছেন বলেই আমরা কিনছি এখানে আমাদের দোষ কোথায়?

(এসবিএস/এএস/নভেম্বর ৩০, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

০৫ মার্চ ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test