E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

আবারও উঠছে বালু, নির্বিচারে কাটছে মাটি

গাইবান্ধায় ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় চলমান অবৈধ ইটভাটা

২০২৩ ডিসেম্বর ০৬ ১৫:৪৮:১৬
গাইবান্ধায় ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় চলমান অবৈধ ইটভাটা

আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলায় আবারও মহাসমারোহে নদী ও ভূ-গর্ভস্থ থেকে উঠছে বালু, নির্বিচারে কেটে নিয়ে যাওয়া হচেছ ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি। মাটি সুরক্ষার দায়িত্বে যারা তারা যেন শীতল পাটি। জেলাজুড়ে চলা সকল অবৈধ ইটভাটায় এসব বালু-মাটি কেনার হিড়িক পড়েছে জেলার গ্রাম গঞ্জে। এসব ইটভাটা যেমন অবৈধ ভাবে জমির আকার পরিবর্তন করে মাটি সংগ্রহ করছে তেমনি পরিবেশের ক্ষতি করে খড়ি, গাছ ও রাতের আধারে পুরাতন জুতা ও প্লাস্টিক পোড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় কোন বৈধ ইটভাটা না থাকার পড়েও দেড় শতাধিক ইটভাটা ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় চলমান রয়েছে। ইটভাটা গুলোতে এসব অবৈধ কাজ করে যে ইট তৈরী হচ্ছে তাও পরিমাপের ও আকারে ছোট যা ক্রয় করে প্রতারিত হচ্ছে ভোক্তাসাধারণ। জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার একবারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কে গ্রাস কারী আশপাশের ৪ টি ইটভাটা কারো চোখে পড়ে না। একই উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাজারের ও একাধিক বিদ্যালয়ের পাশেও ইটভাটা চলমান রয়েছে। গোটা জেলার মধ্যে থেকে কোন অংশেই পিছিয়ে নেই জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বরং ধারাবহিকভাবে এগিয়ে রয়েছে। জেলার মাটি ও বালু রানী খ্যাত এ উপজেলায় বিগত কয়েক মাসে নদী ও ভূ-গর্ভস্থ বালি উত্তোলনের একাধিক মামলা রুজু করা হয়। আর তাতে এ কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়লেও সম্প্রতি তা একযোগে আবারও চালু করেছে বালু-মাটি দস্যুরা। অবৈধ বালু উত্তোলনের চ্যালেঞ্জিং কাজে এগিয়ে রয়েছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী, সাপমারা, দরবস্তু, তালুককানুপুর, হরিরামপুর, রাখালবুরুজ ও মহিমাগঞ্জ ইউিনিয়নগুলো।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলাহার পয়েন্টে বেলাল, বৈরাগীর হাট পয়েন্টে লাজু, বেরাগীর হাট কচুয়া পয়েন্টে মুনছুর, বালুয়ায় মামুন-আতিক-ময়নুল, সাহেবগঞ্জ পয়েন্টে শাহ আলম,চকরহিমাপুর পয়েন্টে আলম, মিশনরোড ও ফুলাহার পয়েন্টে আতাব্বর গংরা কোথাও ভূ-গর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলন, কোথাও নদীর চর কাটা আবার কোথাও জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ মহাযজ্ঞ চিত্র বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে জোড়ালোভাবে প্রচার প্রচারনার পর প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহন করলে বিগত ৫ মাস এ উপজেলায় ওভারলোডে বালু-মাটি নিয়ে গ্রামীণ সড়ক দাপিয়ে ৬ বা ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক চলতে দেখা যায়নি। এর ব্যতিক্রমে সাহেবগঞ্জ এলাকার একটি পয়েন্ট থেকে বালু-মাটি নিয়ে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট রুটটি সক্রিয় ছিল। সম্প্রতি উপজেলাজুড়ে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কে দিন-রাত একাধিক ড্রাম ট্রাককে সদর্পে বালু ও লাল মাটি বহন করতে দেখা যাচ্ছে।

ওভারলোডে এসব ড্রাম ট্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক আর ধূলি-বালিতে স্বাস্থ্যহানীর বিষয়টি এখন উপেক্ষিত। জাম ট্রাকে বালু-মাটি সরবরাহের অন্যতম কারণ গত নভেম্বরের মাঝামাঝি দেশজুড়ে চালু হয়েছে বৈধ-অবৈধ ইটভাটায় ইট পোড়ানো কাজ বেড়েছে মাটির চাহিদা। জেলার একাধিক ইট-ভাটা আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘেঁষে গড়ে উঠায় তা নিয়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রচারিত- প্রকাশিত খবরগুলো ফলো-আপ দিলেও তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো দু একটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করলেও পরে অন্যান্যা ইটভাটা মালিকদের নিদের নিকট অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেন সংশ্লিষ্টরা । এ নিয়ে জনমনে বিরুপ প্রশ্ন দেখা দেখা দিলেও সংশ্লিষ্টরা নিরব দর্শক হয়ে আছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সবগুলো ইট-ভাটা মাটি সংগ্রহে নিজস্ব উৎস হারিয়েছে। বিগত সময়ে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ফসলি জমির উপরি অংশ (পলিমাটি) সংগ্রহ করলেও এবার তা না পারায় দূর- দূরান্ত থেকে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল খ্যাত লাল মাটিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রতিটি ইট ভাটা ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে লাল মাটি সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি এ মাটির সাথে মিশিয়ে নিচ্ছে নদী বা ভূ-গর্ভস্থ বালু। শতাধিক ট্রাক্টর চলমান রয়েছে এসব মাটি বহনের কাজে। এসব মাটি পুরোটাই যাচ্ছে ইট-ভাটাগুলোতে। বরাবরই ইটভাটা মওসুমের শুরুতে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিএসটিআই বা জেলা প্রশাসনের নজরদারির দেখা পাওয়া দায়। তবে মওসুমের মাঝ পথে বা শেষের দিকে প্রতিটি উপজেলায় একাধিক ইট ভাটায় বিপুল অংকের অর্থ জরিমানা আদায়, বুলডোজার বা স্কাপিটার দিয়ে ইটভাট গুড়িয়ে দেওয়া নয়ত ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকে দিয়ে ভাটার আগুন নেভাতে দেখা যায়।

কয়েকটি স্থানে ইট ভাটা সরিয়ে নিতে মুচলেকাও নেওয়া হয়। এর পরেও অবৈধ ভাটাগুলো বছরের পর বছ ধরে চালু রয়েছে। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নামসর্বস্ব আবেদন দিল নতুন ভাটা স্থাপন করে উৎপাদনে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলন, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া সহ সরেজমিনে ইট-ভাটাগুলো পরিদর্শন শেষে যথাযত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, ঝটিকা অভিযান নয়-স্থায়ীভাবে জেলার প্রতিটি অবৈধ ইট- বন্ধ সহ জেলার জুড়ে অবৈধ বালু-মাটি দস্যুদের আইনের আওতায় আনা হবে এমনটাই মনে করেন জেলার সর্বস্তরের সচেতনমহল।

(এআই/এসপি/ডিসেম্বর ০৬, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

০২ মার্চ ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test