E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

বোয়ালমারীতে সরকারি খালের মাটি অবৈধভাবে ইট ভাটায় বিক্রি

২০২৪ মার্চ ০৩ ১৮:৫০:৪৫
বোয়ালমারীতে সরকারি খালের মাটি অবৈধভাবে ইট ভাটায় বিক্রি

কাজী হাসান ফিরোজ, বোয়ালমারী : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একদিকে সরকারি টাকায় খাল বা নদী খনন করা হচ্ছে আরেক দিকে সেগুলির মাটি অবৈধভাবে বিক্রি বা ভরাটের প্রক্রিয়া চালু আছে। এমনই অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু প্রতিকারের কোন পদক্ষেপ নেই। সরকারি অর্থায়নে খননকৃত উপজেলার ময়না ইউনিয়নের কেওয়াগ্রাম নামক স্থানে চন্দনা-বারাসিয়া নদীর একটা সংযোগ খালের ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে মাটি বহন করছেন এক মাটি খেকো ব্যবসায়ী। সরকারি টাকায় খননকৃত খালের পাড়ে সঞ্চিত মাটি বিভিন্ন জায়গায় এবং ইটভাটায় বিক্রি করছেন ওই মাটি ব্যবসায়ী। অবৈধ সুবিধাভোগী ওই ব্যবসায়ী একদিকে খালের পাড় কেটে নিচ্ছেন অপরদিকে খালের ভিতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে খাল ভরাট করছেন। মাটি পরিবহনের সুবিধার জন্য খাল ভরাট করে এভাবে রাস্তা তৈরি এবং সরকারি খালের মাটি বিক্রি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। 

শনিবার (২ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের দক্ষিণ পাড়ের মাটি পরিবহনের জন্য এ রাস্তা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চদনা -বারাসিয়া ও এলাকার বিভিন্ন সরকারি খালের মাটি বিক্রির সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জনৈক সহকারি প্রকৌশলীর হাত আছে। গত তিন দিন ধরে কেয়াগ্রামে চন্দনা-বারাসিয়ার সংযোগ খাল থেকে জনৈক জাফরের জমির পাশের স্তূপকৃত মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। সহযোগিতার জন্যে জাফর ট্রাকপ্রতি পাচ্ছেন ১২০ টাকা।

অবৈধ মাটির ব্যবসায়ে এসকেভেটর ও মাটি পরিবহনের গাড়ি সরবরাহ করে গুনবহা ইউনিয়নের চন্দনী গ্রামের তারা মোল্লা প্রতিদিন গাড়ি প্রতি ২৬০০ টাকা পান বলে জানান, ময়না ইউনিয়নের বর্নিরচর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুছ মিয়া। এছাড়াও ইট কাটার মৌসুমের শুরু থেকেই চলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তিন ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার উৎসব । এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের নেই কোনো নজরদারি।

মাটি কাটার বিষয়ে তারা মোল্যা বলেন, আমিসহ আমাদের কিছু লোকের জায়গায় খাল খননের মাটি আছে। আমাদের এক আত্মীয় যিনি সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তা, তিনি ইউএনওকে বলে দিয়েছেন। ইউএনও একটা লিখিত দরখাস্ত দিতে বললে আমরা লিখিত দরখাস্ত দেই। এরপর তিনি মাটি কাটার মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। লোক পাঠিয়ে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

খালের মাটি কাটার অনুমতি এবং খালের ভেতর রাস্তা করার বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ আমার নিকট কোন অনুমতি চায়নি, আমিও কাউকে অনুমতি দেইনি। আর অনুমতি দেয়ার প্রশ্নও ওঠেনা। সরকারের যে দপ্তর খালটি খনন করেছেন, তাদেরই দায়িত্ব খালটি রক্ষণাবেক্ষণের।

(কেএফ/এসপি/মার্চ ০৩, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২৪ এপ্রিল ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test