E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

হামলা মামলার গ্রাম আমতলায় ৩০ বছরের বিরোধ মিটমাট

২০২৪ এপ্রিল ১৭ ২৩:২৯:১৫
হামলা মামলার গ্রাম আমতলায় ৩০ বছরের বিরোধ মিটমাট

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া : হামলা মামলার গ্রাম আমতলা। কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের একটি গ্রাম। এই গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক হামলা পাল্টাপাল্টি মামলা, দিনের বেলায় গোয়ালঘর থেকে গরু লুট, ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের বাগান থেকে গাছের চারা কেটে ফেলা, ফিসারির মাছ বিষ দিয়ে নিধন করে ফেলা সহ জোর পূর্বক অন্যের জমি দখল করে নেওয়ার মতো ঘটনা মাথাছাড়া দিয়ে উঠছিলো। ঈদের দিনও নিরাপদে শান্তিতে এবং মনের আনন্দে কেউ ঈদ করতে পারেননি। নারী শিশু ও সাধারণ জনগনের মাঝে বিরাজ করছিলো আতংক উৎকন্ঠা। 

এই রোয়াইবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের কৃতী সন্তান নন্দিত কথা সাহিত্যিক ড. হুমায়ূন আহম্মেদ, ড. জাফর ইকবাল ও আহসান হাবিব। তাদের বিষয়টি মাথায় নিয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেন। আমতলা গ্রামে তিনদিন আগে দুই গ্রুপের মধ্যে দেখা দেয় চরম উত্তেজনা। পুলিশ খবর পেয়ে দুই গ্রুপের লোকদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমান দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এ সময় এডভোকেট রফিকুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক নারু সহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিরোধ নিষ্পত্তির শর্তে তাদেরকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।

আজ বুধবার বেলা ২ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শালিস বৈঠক বসে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার।

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ ফারাবি, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: রাজিব হোসেন, কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: এনামুল হক পিপিএম, উপজেলা আওয়ামীগের সভাপতি এডভোকেট আব্দুল কাদির ভূঞা, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মো: আসাদুল হক ভূঞা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ঐ বৈঠকে মামলা ও ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সহকারি কমিশনার ভূমি ও সহকারি পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে দুটি কমিটি গঠন করা হয়।

বৈঠক শেষে এডভোকেট রফিকুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক নারু বলেন, আমাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ৬টি মামলা বিচারাধিন। আজ থেকে আমাদের মধ্যে আর কোন বিরোধ নেই। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দির্ঘক্ষন বৈঠকের পর বিনা শর্তে সব মিটমাট হয়েছে।

কেন্দুয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওমীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: আসাদুল হক ভূঞা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় আমতলা গ্রামের দুই পক্ষের বিরোধ মিটমাট করতে পেরেছি।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: এনামুল হক পিপিএম বলেন, গ্রামের জনগণ শান্তিতে থাকলে আমরাও শান্তিতে থাকতে পারি। দুই পক্ষের বিরোধ মিটমাট হয়েছে। কিভাবে মামলা ও ভূমি সংক্রান্ত বিষয় গুলো শেষ করা যায় এ জন্য ২টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিতে আমতলা গ্রামের দুই গ্রুপের বিরোধ মিটমাট করতে পেরেছি। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তাদের এই বিরোধ ছিলো। একের পর এক হামলা মামলা চলত। ঈদের দিনও তারা শান্তিতে ঈদ করতে পারেননি। তাই উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের সহায়তায় বিরোধ মিটমাট করে দিয়েছি।

(এসবি/এসপি/এপ্রিল ১৭, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২২ মে ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test