E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

 

দীর্ঘ বিরোধের জেরে খুন হন নড়াইলের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল 

২০২৪ মে ১৭ ১৭:০১:১৮
দীর্ঘ বিরোধের জেরে খুন হন নড়াইলের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল 

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত শুটারসহ চারজনকে গ্রেফতারের পর নেপথ্যের ঘটনা বেরিয়ে এসেছে।

মূলত সাবেক ইউপি সদস্যের সঙ্গে বিরোধ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষ ভাড়ায় শুটার এনে গুলি করে কামালকে হত্যা করেন। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য আকবর হোসেন লিপনকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি র‍্যাব।

গ্রেফতার চারজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে এলিট ফোর্স।

গত ১০ মে হত্যার শিকার হন চেয়ারম্যান কামাল। ঘটনার সাত দিন পর চারজনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে খুনের রহস্য।

গ্রেফতার চারজন হলেন- শুটার সাজেদুল মল্লিক (২৫), পাভেল শেখ (২৮), মামুন মোল্যা (২৬) ও রহমত উল্লাহ শেখ (১৯)। এর মধ্যে দুজন ছাত্র, একজন চালক, আরেকজন শ্রমিক। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বায়েজিদ ও নড়াইল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

গত ১০ মে মোস্তফা কামালকে দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা ও এলোপাথাড়ী গুলি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তায় মারা যান। এই হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই রিজাউল শিকদার বাদী হয়ে ইউপি সদস্য আকবর হোসেন লিপনকে প্রধান আসামী করে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় চারজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

র‍্যাবের মুখপাত্র জানান, দীর্ঘ বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। মল্লিকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ও একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আকবর হোসেন লিপনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব থেকে শত্রুতা ছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে পূর্ব বিরোধের জের ধরে মোস্তফা কামাল এবং আকবর হোসেন লিপনের অনুসারীদের মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে লিপন গুরুতর আহত হন এবং তার একটি হাত কাটা পড়ে। পরে লিপন ও তার অনুসারীরা মোস্তফা কামালের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে। সে কারণেও এ হত্যাকাণ্ড।

যেভাবে পরিকল্পনা ও হত্যা

র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম জানান, লিপনের নির্দেশনায় ঘটনার দিন সকালে তার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে গ্রেফতার সাজেদুলসহ অন্যরা মোস্তফা কামালকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মোস্তফা কামালের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাজেদুলসহ অন্যরা সুইচ গিয়ার চাকু, রাম দাসহ বিদেশি অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ওঁৎ পেতে থাকেন। মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থলে পৌঁছানে মাত্রই সুযোগ বুঝে সাজেদুলের হাতে থাকা বিদেশি পিস্তল দিয়ে মোস্তফা কামালকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করেন। যার মধ্যে দুই রাউন্ড গুলি কামালের বুকে ও পিঠে বিদ্ধ হয় এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

র‍্যাব জানায়, সাজেদুলসহ অন্য সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে ঢাকা, পতেঙ্গা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে যান এবং আত্মগোপন করেন। এই অবস্থায় চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে সাজেদুল, পাভেল ও মামুন র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হন।

সাজেদুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রহমত উল্লাহকে নড়াইল থেকে গ্রেফতার করা হয়।

কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাজিদ মল্লিক জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। ওই সময় তার হাতে থাকা চার রাউন্ড এমুনিশন ভর্তি গুলি দিয়ে তিন রাউন্ড গুলি করেন। এতে চেয়ারম্যানের হাতে, বুকে ও পাজরে লাগে। পরবর্তী সময়ে এই অস্ত্রটি তিনি নড়াইলের মধুমতি নদীতে ফেলে দেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। অন্যদের হাতেও অস্ত্র ছিল। তাদের এক লাখ টাকায় ভাড়া করে আনা হয়েছিল এই হত্যাকাণ্ডের জন্য।

জড়িত সাবেক ইউপি সদস্য কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কি না বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়টা এখানে মুখ্য নয়, অপরাধটা মুখ্য। আমাদের দেশের প্রত্যেকে কারো না কারো রাজনৈতিক অনুসারী হতে পারি। রাজনৈতিক অনুসরণের সাথে অপরাধের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের কাছে অপরাধটাই মুখ্য এবং অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

(আরএম/এসপি/মে ১৭, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২৫ জুন ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test