E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

মৌলভীবাজারে মসজিদের ইমামকে মারধরের অভিযোগকে মিথ্যা বললেন মোতাওয়াল্লী

২০২৪ মে ১৯ ১৯:২৫:৫০
মৌলভীবাজারে মসজিদের ইমামকে মারধরের অভিযোগকে মিথ্যা বললেন মোতাওয়াল্লী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : গত ১৬ মে মৌলভীবাজারের সমশেরনগর সড়কের বায়তুর রব আল রব্বানী জামে মসজিদ কমপ্লেক্স এর ইমাম মো. মোস্তাফিজুর রহমান বকুলকে মারধর ও মসজিদের চাকুরী ছেড়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোতাওয়াল্লী বক্স মো: রাশেদ আহমদ এর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে ওই মসজিদের ইমাম নিজেই অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো তুলপাড় সৃষ্টি হয়। অনেকে ফেসবুক লাইভের কমেন্টে ওই ইমামের প্রতি সহানুভ’তি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে মোতাওয়াল্লী বক্স মো: রাশেদ আহমদ সহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনের নামে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও দেন ইমাম মো. মোস্তাফিজুর রহমান বকুল। 

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বক্স মো: রাশেদ আহমদ সহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জন মিলে দীর্ঘ দিন ধরে মসজিদের ক্ষতি করার জন্য লিপ্ত রয়েছেন। তিনি এসব ঘটনার প্রতিবাদ করে আসছিলেন। প্রতিবাদের কারণে মসজিদের কোন ক্ষতি করতে না পেরে ইমামের সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা শুরু করেন মোতাওয়াল্লী বক্স মো: রাশেদ আহমদ। তিনি ইমামকে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। উপায় না পেয়ে ইমাম এসব ঘটনা স্থানীয় ব্যক্তিদের অবহিত করেন। তবে কোন প্রতিকার পাননি। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৬ মে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বক্স মো: রাশেদ আহমদ ২/৩ জকে নিয়ে মসজিদের ইমাম মো. মোস্তাফিজুর রহমান বকুলকে মসজিদের ২য় তলায় ডেকে নিয়ে মসজিদের চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এসময় ইমাম চাকরি ছাকরি ছাড়তে অপরাগতা প্রকাশ করলে মোতাওয়াল্লী ইমামকে কিল ঘুষি মেরে আহত করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বায়তুর রব আল রব্বানী জামে মসজিদ কমপ্লেক্স এর মোতাওয়াল্লী বক্স মো: রাশেদ আহমদ অস্বীকার করে বলেন, মসজিদের ইমাম আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন এগুলো মিথ্যা। এই অভিযোগের সাথে আমার নুন্যতম সম্পর্ক নেই। আমি এগুলো করিনি। ওই মসজিদটি আমার মায়ের দেয়া ভুমির উপর প্রতিষ্ঠিত। সরকারের ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমোদনে বৈধ কমিটি দ্বারা পরিচালিত মসজিদটির ব্যয়ভার আমাদের পরিবার থেকেই বহন করা হয়। আমি পরিবার সহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছি। কিছুদিন আগে আমি দেশে আসি।

ইমামকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা নতুন কমিটি গঠন করার পর আগের কমিটির কিছু লোককে ওই কমিটিতে বেশ কিছু অভিযোগের কারণে রাখা হয়নি। তাদের সাথে ইমাম সাহেবের যোগসাজোশ থাকায় ইমামকে দিয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পায়তারা সহ আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। মূলত কমিটিতে তাদের না রাখায় ইমাম সাহেবকে এরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমার প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছে। এর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। উনি যা বলেছেন সব মিথ্যা বলেছেন।

মোতাওয়াল্লী বক্স মো: রাশেদ আহমদ বলেন, ইমাম সাহেব ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মসজিদ থেকে পদত্যাপত্র দিয়ে চলে যাওয়ার কারণে আমরা মসজিদে একজন ইমাম নিয়োগ দেই। ওই ইমাম গত শুক্রবারে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার পূর্বে বক্তব্য রাখছিলেন। এমন সময় পূর্বের ইমাম সাহেবের নেতৃত্বে মসজিদে হামলা চালিয়ে বক্তব্য দেয়া ইমামকে সরিয়ে জোরপূর্বক তিনি ইমামের দ্বায়িত্ব নেন। তিনি বলেন, ইমাম সাহেব সব সময় দ্বায়িত্ব পালন করতে পারেন না, এমন কি তিনি নিয়মিত ফজরের নামাজও পড়াতে আসেন না। এসব কারণে তিনি নিজে থেকেই মসজিদের কমিটিকে পদত্যাগপত্র দেন এবং আমরা তা গ্রহণ করে পরবর্তীতে মসজিদের অচলাবস্থা নিরসনে একজন ইমাম নিয়োগ দেই। বর্তমানে ইমামের নেতৃত্বে স্থানীয় কিছু লোক মসজিদটি তাদের দখলে রেখেছেন।

এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম মো. মোস্তাফিজুর রহমান বকুল জানান, মোতাওয়াল্লী মসজিদে এসে আমাকে নিয়ে যান মসজিদের উপরতলায়। সেখানে নিয়ে প্রথমে ইমামের দ্বায়িত্ব থেকে চলে যেতে বলেন। এবং কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন। আমি অস্বীকৃতি জানালে মারধর শুরু করেন। পদত্যাগ পত্রের স্বাক্ষর নিজের বলে স্বীকার করলেও জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

(একে/এসপি/মে ১৯, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২৫ জুন ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test