Pasteurized and Homogenized Full Cream Liquid Milk
E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

টানা অবরোধে বেকার হয়ে পড়েছেন ৭ হাজার শ্রমিক

২০১৫ জানুয়ারি ৩১ ০৯:১৯:১৪
টানা অবরোধে বেকার হয়ে পড়েছেন ৭ হাজার শ্রমিক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও হরতালে বেকার হয়ে পড়েছেন ঝিনাইদহের সাত হাজার পরিবহণ শ্রমিক। দিনে এনে দিন খাওয়া এসব শ্রমিকদের ঘরে এখন ঠিকমত চুলাও জ্বলছে না।

রাস্তায় গাড়ি নামাতে না পেরে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা। জীবিকার তাগিদে কেউ কেউ অন্য কাজ খুঁজে নিলেও বেশিরভাগ শ্রমিককে ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে গাড়ি বের করলেও ভয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের পরিবারের স্বজনদের। কখন জানি খবর আসে বোমার আঘাতের।

ঝিনাইদহ জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহে বর্তমানে তিন হাজার বাস-মিনিবাস শ্রমিক রয়েছে। টানা অবরোধের কারণে গাড়ি না চলায় তারাও বেকার হয়ে পড়েছেন।
সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের শ্রমিক এমদাদুল ইসলাম জানান, সড়কে বাস কিংবা কোচ চললে চুলোয় হাড়ি উঠে,
না হলে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয় তাদের পরিবারকে। টানা এই অবরোধে পরিবারকে নিয়ে সমস্যার অন্ত নেই তার। পরিবারে সেই একমাত্র উপার্জনক্ষম। তাকে বাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে। পরিবারের খরচ মেটাতে পারছেন না সে।

হাটগোপালপুর এলাকার বাস শ্রমিক আমিন উদ্দিন বলেন, ‘বাস চললে আমার সংসার চলে। না চললে না খেয়ে পরিবার নিয়ে থাকতে হয়। টানা এই অবারোধে দিন কাটাচ্ছি ধার দেনা করে। এভাবে আর কতদিন চলবে তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

রেজাউল ইসলাম নামের এক বাস শ্রমিক জানান, অবরোধের কারণে গাড়ি চলছে না। প্রতিদিন যা পান তাই দিয়ে সংসার চলে তার। এখন গাড়ি নিয়ে বেরুতে পারছেন না। যদিও একটি/দুটি ভাড়াই যান-তাতেও ভয় হয়।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের তিন হাজার কার্ডধারী শ্রমিক আজ বেকার হয়ে পড়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থার নিরসন না হলে প্রয়োজনে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হব।’

ঝিনাইদহ জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের চার হাজার শ্রমিকেরও একই অবস্থা। কাজ না থাকায় বাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে।

নাজমুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘সন্তানের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা ঋণ করে জমা দিয়েছি। অবরোধে কাজ না থাকায় এখন ঋণের টাকাও শোধ করতে পারছি না। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সন্তানদের লেখাপড়াও। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।’

মহিউদ্দিন নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘দেশের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের ফায়দা লুটছেন। মাঝখানে আমাদের যাতাকলে পিষ্ট করা হচ্ছে। এভাবে অবরোধ চলতে থাকলে পরিবহণ শ্রমিকরা না খেয়ে মারা যাবে।’
ঝিনাইদহ জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আনু মন্টু মন্ডল জানান, ঝিনাইদহে ট্রাকসহ পরিবহণ সেক্টরে প্রায় সাত হাজার শ্রমিক রয়েছেন। তারা নিদারুণ কষ্টে আছেন। যারা বিএনপি সমর্থক শ্রমিক আছেন, তাদেরও আজ একই অবস্থা। তারাও বেকার হয়ে পড়েছেন।

তিনি খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থে অবরোধ প্রত্যাহারসহ উভয় দলকে আলোচনায় বসে দেশের এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান।

(ওএস/এটিআর/জানুয়ারি ৩১, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test