E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

জামায়াতের অামির মকবুলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

২০১৬ নভেম্বর ০৯ ১৫:০৭:৪৯
জামায়াতের অামির মকবুলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

সৈয়দ মনির অাহমদ, ফেনী থেকে :জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে ফেনীর দাগনভূইয়া উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়নের উক্তর লালপুর গ্রামের হিন্দু পাড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ শহীদ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সহকারী পরিচালক মো. নরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল তদন্ত করছেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১ জুলাই লালপুর গ্রামের হিন্দু পাড়ায় মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পাকহানাদার বাহিনীর দোসর শান্তি কমিটির ফেনী অঞ্চলের প্রধান সংগঠক মকবুল আহমেদের নির্দেশে লালপুর গ্রামের রাজাকাররা সাহাব উদ্দিন,বদিউর জামান ও লাতুমিয়ার নেতৃত্বে হানাদার বাহিনী উক্ত গ্রামে আভিযান চালায়। এ সময় তারা হিন্দু পাড়ায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ও মুক্তিযোদ্ধা আনা মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে।

এ সময় নারায়ণ চন্দ্র দে, মতিলাল দাস, বিপন পাল, দিলিপ চন্দ্র পাল, হরলাল পাল, কালিপদ ঘোষ, ধীরেন্দ্র কুমার ভৌমিক, তার ছেলে অমৃত লাল ভৌমিক, প্রিয়তোষ দাস ও নরেন্দ্র কুমার দাসকে হাত-এবং চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে ফেনীর সিও অফিস এলাকায় তৎকালিন পাকহানাদার ক্যাম্পে নিয়ে আসে। পরদিন তাদেরকে দিয়ে মাটির গর্তখুড়ে ১০ জনকে একসঙ্গে ব্রাশফায়ার করে মাটি চাপা দেয় বলে দাবি করেছে নিহতদের পরিবার।

শহীদ নারায়ণ চন্দ্র দের স্ত্রী সুরুচি বালা দে (৭০) জানান, তিনি এখনো তার স্বামীকে খুঁজছেন। স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে ৩ শিশু সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এর অর্থ যোগাতে নিজের ভিটে-বাড়ি টুকু বিক্রি করে দিয়েছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছরও তাদের কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি।

মুক্তিযোদ্ধা খোকন চন্দ্র পাল জানান, লালপুর গ্রামের হিন্দু পাড়ার এ হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিয়ে বিভিন্ন সময় সরকার প্রধান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদে আবেদন করা হয়েছে। তাদের এ আবেদনে কোনো সাড়া দেয়া হয়নি।

স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ফেনী মহাকুমার শান্তি কমিটির অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মকবুল আহমদ। তার দায়িত্ব ছিল রাজাকার আল-বদর ও আল সামসের সমন্বয় করা।

জামায়াতের আমীর মকবুল আহমাদের গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূইয়া উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামে। তিনি ফেনী শহরে অবস্থিত সেন্ট্রাল হাইস্কুলে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।

মকবুল আহমদ ১৯৯১ সালে ফেনী-২ (ফেনী সদর-দাগনভুইয়া) আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি পরাভূত হন। ভোট পান সর্বসাকূল্যে ২০ হাজার।

মকবুল আহমদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে ৭১ সালে মহান মুক্তির সংগ্রাম চলাকালে মকবুল আহমদের নির্দেশে ফেনী কলেজের সাবেক ভিপি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ওয়াজ উদ্দিনকে ফেনী থেকে ধরে নিয়ে চট্টগ্রামে অজ্ঞাতস্থানে হত্যা করা হয়। ওয়াজ উদ্দিনের লাশের হদিস পায়নি তার স্বজনেরা। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ফেনী শহরের তাকিয়াবাড়ি।

ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান বলেন, ৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালে মকবুল আহমদ রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। তারই নির্দেশে ফেনীর স্থানীয় রাজাকার, আলবদর বাহিনীর সদস্যরা ওয়াজ উদ্দিনকে হত্যা করে।

তিনি অভিযোগ করেন, মকবুল আহমদের নেতৃত্বে রাজাকার, আলবদর ফেনীর স্বাধীনতা যুদ্ধে ফেনীর মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ, মালামাল লুটপাট, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা এবং ধর্ষণসহ নানা অপকর্ম করে।

দাগনভূইয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শরীয়ত উল্যাহ বাঙ্গালী বলেন, যুদ্ধকালীন সময় মকবুল আহমদের নির্দেশে উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ায় আগুন দিয়ে ১০ হিন্দু ও এক মুসলমানকে হত্যা করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান মো. নরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষটি নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেছি।






(এসএমএ/এস/নভেম্বর ০৯, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test