E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

বিস্কুট শিম আবাদ করে চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা বেজায় খুশি

২০১৬ নভেম্বর ১৯ ১৩:২০:১০
বিস্কুট শিম আবাদ করে চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা বেজায় খুশি

তৌহিদ তুহীন, চুয়াডাঙ্গা থেকে:চুয়াডাঙ্গাতে উচ্চ ফলনশীল বিস্কুট ও রুবভান জাতের শিম আবাদ করে চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা বেজায় খুশি। শিমের দাম ভালো থাকাই চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের কাছে আনন্দের বন্যা বয়ে এনেছে। জেলায় ১৩৫ হেক্টোর জমিতে এবর শিমের আবাদ হয়েছে। এ শিম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মেটাচ্ছে। চাষীদের উন্নত কৃষি প্রযুক্তির আওতায় আনতে পারলে শিমসহ সবধরণের সবজি আবাদ করে এ জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মনে করে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর  ।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ভগিরথপুর গ্রামের হাসেম এ বছর ১৫ কাঠা জমিতে বিস্কুট শিমের আবাদ করেছেন। লাভের কথা জানতে চাইলে বেশ হাসি হাসি মুখে জবাব দেন “ গত এক বছর ধইরে যা আবাদ করেচি তাতেই তেমন লাভ হয়নি। রূপবানই মুক ফিরে চেয়েছে। ১৫ কাঠা জামিতে সার, বিষ, নেবার খরচ সব মিলিয়ে খরচ পড়েছে ১০/১২ হাজার টাকার মতো। বিক্রি করে ফেলেচি ৩৫ হাজার টাকার মতো। এখনো ধরছে ২০/২৫ হাজার টাকার বিক্রি করতে পারবো।”

চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে সবজি আবাদ হয়ে আসছে। কিছু কিছু বছরে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় ফসলের উৎপাদন ও মান কমে যায়। যার ফলে বাজার দর নেমে যায় । ফলে কৃষকরা প্রতিটি ফসলে একের পর এক ফসলে অর্থনেতিকভাবে মার খেতে থাকেন। কিন্তু এ বছর কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতি ও উচ্চ ফলনশীল জাতের শিম আবাদ করে লাভের মুখ দেখেছেন । হাসছেন আনন্দেত।

টেইপুরে গ্রামের লিমন জানান, প্রথমে মাটি শিম আবাদের উপযোগি করে নিতে হয়। পরে সারি সারি লম্বা লাইন করে তাতে শীমবীজ লাগিয়ে দিতে হয়। শিম গাছের গোড়ায় বাঁশ বা পাটকাঠির শলা দিয়ে শক্ত করে দাঁড়করানোর ব্যবস্থা করতে হয়। এরপর গাছগুলোর জন্য চার/পাঁচ ফুট উচু বাঁশের বা তারের মাঁচা তৈরি করতে হবে। যাতে শিমের লতাগুলো ওই মাঁচায় উঠে নিজের বেড়ে ওঠা ও ফলন সঠিকভবে সম্পন্ন করতে পারে।

জীবননগরের মনোহরপুর গ্রামের নিয়ামত আলী ব্যস্ত লেবার দিয়ে শিম বস্তায় বোঝায় করতে। বস্তা বোঝাই শিম নসিমনে করে নিয়ে যাওয়া হবে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের কাছে। এরপর ট্রাকে লোড হয়ে শিম চলে যাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। নিয়ামত জানান, কৃষকরাই কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন মোকামে মোবাইলে যোগাযোগ করেন। দামদর ঠিক করেন। তারপর ৩/৪ জন কৃষক জোট হয়ে ট্রাক ভাড়া করে শিম বোঝায় ট্রাক নিয়ে চলে যান নির্ধারিত স্থানে। এ ভাবে বিক্রি করলে তাদের লাভ ভালো থাকে বলে তিনি জানান। এক দাগে নিয়ামতের সাড়ে তিন বিঘা জমিতে শিম আবাদ করেছেন।

একই উপজেলার উথলী গ্রমের হারেস জানান, শুরুতো ৯৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজি দর পর্যন্ত বিক্রি করেছি। বর্তমান ৪২/৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফালগুন মাস পর্যন্ত এ শিম বিক্রি করা যাবে। তিনি বিঘা খানেক জমিতে শিম আবাদ করেছেন। তার অল্প শিম হওয়ায় তিনি বাইরে থেকে আসা ক্রেতাদের কাছেই শিম বিক্রি করে দিচ্ছেন। তারপরও তার লাভ ভালোই থাকছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বীজের মান এবং আবহাওয়া ভালো থাকায় শিমে ভালো ফলন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নির্মল কুমার দে, জানান, জেলার জমি সবজি চাষের জন্য খুবই উপোযোগী। বিশেষ করে জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলায় প্রচুর সবজি আবাদ হচ্ছে। এ বছর জেলায় ১৩৫ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় এবং বাজার মূল্য বেশি থাকায় কৃষকরা এতে লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, চাষীদের উন্নত কৃষি প্রযুক্তির আওতায় আনতে পারলে শিমসহ সবধরণের সবজি আবাদে এ জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি করা সম্ভব।


(টিটি/এস/নভেম্বর ১৯, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test