E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

রাজশাহী অঞ্চলে কৃষকের নামে গম দিচ্ছে সিন্ডিকেট

২০১৭ জুন ০৭ ১২:১০:৪৮
রাজশাহী অঞ্চলে কৃষকের নামে গম দিচ্ছে সিন্ডিকেট

স্টাফ রিপোর্টার , রাজশাহী : রাজশাহী অঞ্চলে কৃষকের নামে সিন্ডিকেট করে খাদ্য গুদামে গম সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বাইরে থেকে গম এনে দিচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীরা। ফলে লাভ বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষক।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় গমের আবাদ হয়েছিল এক লাখ ৯ হাজার ১৫৬ হেক্টরে। এ থেকে গম উৎপাদিত হয় ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৮৪ মেট্রিক টন। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের হিসেবে, এ অঞ্চলে কৃষি উপকরণ সহায়তা পাওয়া কৃষক রয়েছেন ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৩৪ জন। এদের একটি অংশ এ বছর গম চাষ করেন। তবে খাদ্য গুদামে গম সরবরাহের সুযোগ পাননি তারা। কিন্তু তাদের নামেই গম সরবরাহ করছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

কৃষি দফতর আরও জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষক রয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৪৫ জন। এ বছর এ জেলায় ৩১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে ৯৮ হাজার ৬৬৭ মেট্রিক টন।

নওগাঁয় এ বছর ২৯ হাজার ১০০ হেক্টরে ২১ হাজার ৯১৫ মেট্রিক টন গম উৎপাদন হয়েছে। এ জেলায় কৃষক রয়েছেন ৪ লাখ ৯০ হাজার ২৬৯ জন। রাজশাহীতে ২৬ হাজার ৮৪১ হেক্টরে ৮৭ হাজার ৫৪২ মেট্রিক টন এবং নাটোরে ২১ হাজার ৯১৫ হেক্টরে ৭৯ হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন গম উৎপাদিত হয়েছে।এর মধ্যে রাজশাহীতে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩০ জন এবং নাটোরে ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৯০ জন কৃষক রয়েছেন।

এদিকে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দফতর জানিয়েছে, এ বছর রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় সরকারি উদ্যোগে কেনা হবে ৩৪ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন গম। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৫ হাজার ৩৩১ মেট্রিক টন, নাটোরে ৪ হাজার ৮১৯ মেট্রিক টন, নওগাঁয় ৬ হাজার ৩৯৯ মেট্রিক টন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬ হাজার ৮৬০ মেট্রিক টন, পাবনায় ৮ হাজার ৪৪৮ মেট্রিক টন, সিরাজগঞ্জে এক হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন, বগুড়ায় ৫৪৪ মেট্রিকটন এবং জয়পুরহাটে ৪৭২ মেট্রিক টন। গত ৩০ মে পর্যন্ত বিভাগজুড়ে ১৬ হাজার ৮৩০ মেট্রিকটন গম সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৩ শতাংশ গম সংগ্রহ হয়েছে চাঁপানবাবগঞ্জে। আর বগুড়ায় সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ।

আঞ্চলিক খাদ্য দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নীতিমালা অনুযায়ী এ বছরও কৃষকের কাছ থেকে গম কেনার কথা। এ বছর প্রতি কেজি গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ টাকা। গম ক্রয় শুরু হয়েছে গত ১৮ এপ্রিল। এ কার্যক্রম চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনকার বাজারে প্রতি কেজি গমের দর ২০ টাকা। কেজিতে আট টাকা লাভে বাইরে থেকে কেনা গম খাদ্য গুদামে সরবরাহ করছেন ক্ষমতাশীন দলের স্থানীয় নেতা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা দিচ্ছেন খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা। প্রতি বস্তায় কমিশন পাচ্ছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, আগেভাগেই গোপন বৈঠক করে গম কেনায় নেমেছে চক্রটি। খাদ্য গুদামগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নেতা ও ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করেছেন কৃষকের কৃষি ভর্তুকির কার্ড।

কৃষি ভূর্তকি কার্ডে সংশ্লিষ্ট কৃষকের স্বাক্ষরের সঙ্গে ওজন মান ও মজুত ফরমের স্বাক্ষরের কোনো মিল নেই। সেটি যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংগ্রহ হচ্ছে নিম্নমানের গম। এ বছর গম কেনায় অনিয়ম হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায়।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী খাদ্য গুদামে ৯৭০ টন এবং ওই উপজেলার কাঁকনহাট খাদ্যগুদামে ৩২৯ টন গম কেনার কথা। তবে কৃষকদের গম ছাড়াই পুরণ হবার পথে সেই লক্ষ্যমাত্রা।

উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ওয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস কৃষকদের নামে সেই গম সরবরাহ করেছেন। দিনাজপুর থেকে নিম্নমানের গম এনে ট্রাক ও ট্রলি ভর্তি করে দেয়া হয়েছে গুদামে। কৃষকদের লাভের অংশ নিয়ে গেছেন তারাই।

জানতে চাইলে তবে কৃষকদের গম দেয়ার কথা অস্বীকার করেন যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস।

তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন গোদাগাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শিহাবুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, কয়েকজন কৃষক পঞ্চগড়-দিনাজপুর থেকে এনে গুদামে গম ঢোকাচ্ছেন। জাহাঙ্গীর আলম ও ওয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস গম দিচ্ছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

বাইরে থেকে কিনে এনে সরকারি গুদামে গম সরবরাহ বিধি বহির্ভূত বলে জানিয়েছেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

এ বিষয়ে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষি দফতর থেকে পাওয়া কৃষক সহায়তার কার্ড দেখেই খাদ্য গুদামগুলোয় গম কেনা হয়। গম কেনার সময় মিলিয়ে দেখা হয় কৃষকের নাম-স্বাক্ষরসহ খুটিনাটি বিষয়গুলো। শেষে গমের মূল্য পরিশোধ করা হয় কৃষকের ব্যাংক হিসাবে। এনিয়ে অনিয়মের সুযোগ নেই।

তবে কৃষকের নামে কেউ গম সরবরাহ করলে তাও বোঝার উপায়ও নেই বলে স্বীকার করেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক। এছাড়া বিধি ভঙ্গের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

(ওএস/এসপি/জুন ০৭, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test