E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

রংপুরে নির্বাচনী উত্তাপ, কার হাতে উঠবে নৌকা

২০১৭ জুলাই ১৫ ১২:৩৩:০৩
রংপুরে নির্বাচনী উত্তাপ, কার হাতে উঠবে নৌকা

জাকারিয়া ইসলাম, রংপুর : রংপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এজিএম সাহাতাব উদ্দিন এর দেয়া তথ্য মতে জুলাই মাসের প্রথম থেকে রসিক নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। এ সময় থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা।  ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ২৫ জুলাই।

হাতে খুব বেশি সময় নেই , তাই নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত রংপুর সিটির নেতারা। ব্যানার – ফেস্টুনে ভরে গেছে রংপুর সিটি এলাকার পাড়া মহল্লা। এতদিন যারা ছিলেন আলোচনার বাইরে তারাই যেন আজ “জনবান্ধব নেতা” । এই যখন নির্বাচনী চালচিত্র তখন বিপাকে আছে সরকারী দল আওয়ামী লীগ ।
একদিকে নিজেদের একাধিক নেতার মুখে “সবুজ সংকেত” পাবার কথা আর অন্যদিকে বিরোধী দল থেকে কেউ এসে মনোনয়ন ভাগিয়ে নিলো কিনা সেই চিন্তা ।

নগরজুড়ে গুঞ্জন চলছে বিলুপ্ত রংপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দীর্ঘ সাড়ে আট বছর ক্ষমতায় থাকা জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুর রউফ মানিক আওয়ামী লীগে যোগদান করে এবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান। এজন্য তিনি উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এরশাদের দুর্গ বলে খ্যাত রংপুর এর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফসল ঘরে তুলতে গেলে চাই নৌকার যোগ্য মাঝি। যা নিয়ে বেশ ভাবনায় আছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। যদিও এরই মধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের এক ডজনের বেশি নেতা গণসংযোগ শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে আবারও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বর্তমান মেয়র মুক্তিযোদ্ধা শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। বর্তমান সরকার আমলে তিনি যেসব উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সে সব কর্মকাণ্ড প্রচারণা করে তিনি প্রার্থিতা চাইছেন। সম্প্রতি এক সমাবেশে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা তাকে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে চান না। কারণ তিনি দলের মেয়র হিসেবে দলীয় কোনো কাজে সাহায্য সহযোগিতা করেননি। এমনকি দলের কোনো সাংগঠনিক কাজে তাকে পাওয়া যায়নি। এমন অভিযোগ রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের। এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের মহানগর কমিটির সভাপতি সাফিউর রহমান সাফির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করলেও তিনি দলীয় কোনো কাজ করেননি। তিনি গত পাঁচ বছরে স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় দলীয় কোনো সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকেননি। দলের কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল না। তিনি একলা চল নীতিতে চলেন।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু বলেন, সিটি কর্পোরেশন একটি আলাদা জেলার সমপর্যায়ে, তাই সে বিষয়ে মহানগর কমিটি বলতে পারবে কে হবেন দলের মেয়র প্রার্থী। আর সব চেয়ে বড় কথা দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

এদিকে রংপুর-৫ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমানের ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক রাশেক রহমান নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন।

রাশেক রহমানও দলীয় সভানেত্রীর গ্রিন-সিগন্যাল পেয়েই মাঠে নেমেছেন বলে দাবি করেছেন। মাঠে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিয়ার রহমান জানিয়েছেন, তিনি কোনো গ্রিন-সিগন্যাল পাননি। তবে সিগন্যালের অপেক্ষায় না থেকে তিনিও মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন।

অপরদিকে সাংবাদিক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট রাকিবুল বাসার ইতোমধ্যে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন । নগরবাসীর মধ্যে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় এই সাংবাদিক ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগের উপর মহলে ব্যাপক তোরজোড় চালাচ্ছেন বলেই গুঞ্জন উঠেছে। রাশেক রহমানকে ঠেকানোর ডাক দিয়ে বসেছেন তিনি। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র সিটি এলাকার থেকেই আসা উচিত। রংপুরবাসী কি মেনে নিবে সিটির বাইরে অন্য কোন উপজেলা থেকে নির্বাচন করতে আসা কাউকে?’

এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তিনি টেলিফোনে জানান, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে আওয়ামীলীগের কাছে মনোনয়ন চাওয়াটা আমার অধিকার , বাকিটা দলীয় নীতি নির্ধারকদের হাতে।তবে যার হাতেই নৌকা উঠুক না কেন আমি নিঃস্বার্থ ভাবে তাঁর পক্ষেই কাজ করবো’ ।

রাকিবুল বাসারের মতন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রের নজরে আসতে অনেকই তোড়জোড় শুরু করেছেন। মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান,জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. জয়নুল আবেদীন সরকারের নাম।

এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সহ সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা মোতাহার হোসেন মাওলা, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধক্ষ্য মো. আবুল কাশেম, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মণ্ডল রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সিরিয়ালে। তবে সবকিছু বাদ দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা ও মোতাহার গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু মনোনয়ন পেয়ে গেলে সবাই অবাক হলেও হতে পারেন। কারণ গত নির্বাচনের সময় থেকেই তার নামটা আলোচনায় আছে। তবে নৌকার টিকেট বা মনোনয়ন কে পাচ্ছেন আর কে পাচ্ছেন না, তা জানতে অপেক্ষাসহ কান রাখতে হবে কেন্দ্রীয় বার্তার দিকেই।

(জেআই/এসপি/জুলাই ১৫, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

১৬ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test