E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

অনুমোদন না দিতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের আবেদন

শরীয়তপুর জেলা আ. লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপত্তি

২০১৭ আগস্ট ১৪ ১৫:৪০:৪৩
শরীয়তপুর জেলা আ. লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপত্তি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের নবগঠিত পূর্নাঙ্গ কমিটি নিয়ে ফুঁসে উঠেছে শরীয়তপুরে আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা কর্মীরা। দীর্ঘ দিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত, দুর্দিনে দলের জন্য কাজ করা লোকদের বাদ দিয়ে দল থেকে বহিস্কৃত, দলীয় নেতা-কর্মীদের  হত্যা মামলার আসামী, দুর্দিনে দলের সাথে ঘাতকতাকারী, প্রবাসী দ্বৈত নাগরিক এমনকি কোন দিনও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জরিত ছিলেন না এমন  লোকদের নিয়ে কমিটি করায় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন নেতারা। 

অভিযোগকারি নেতারা বিতর্কিত কমিটি অনুমোদন না দিয়ে সকলের সমন্বয়ে দলের প্রকৃত লোকদের নিয়ে কমিটি গঠনের অনুরোধ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে। এতে জেলার তিন জন সংসদ সদস্য, একজন কেন্দ্রীয় নেতা, বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা ও পৌরসভা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৩০ জন জ্যেষ্ঠ নেতার স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ প্রদানকারি নেতারা গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, এ কমিটি টাকার বিনিময়ে দল থেকে বহিস্কৃত, দলীয় নেতা-কর্মীদের হত্যা মামলার আসামী, দুর্দিনে দলের সাথে ঘাতকতাকারী, প্রবাসী দ্বৈত নাগরিক এমনকি কোন দিনও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জরিত ছিলেন না এমন বিএনপি-জামাত ঘরোনার লোকদের এই কমিটির গুরুত্বপূর্ন পদে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। দলের দীর্ঘ দিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা কর্মীরা এই কমিটি থেকে বাদ পরায় সেখানে নবাগত হাইব্রীডদের নিয়ে কমিটি গঠন করায় আগামী ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি নির্বাচনী এলাকাতেই এর বিরূপ প্রভাব পরবে বলে আশংকা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের।

শরীয়তপুর জেরা আওয়ামীলীগ সূত্রে জানা গেছ, ২০০৩ সালে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনের দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয় জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। সেদিন দলের তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশ্রাফুল ইসলাম একই গ্রামের দুই ব্যক্তির নাম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ঘোষনা করেন।

এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ জুলাই ৭৫ সদস্যের পূর্নাঙ্গ কমিটি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার হাতে জমা দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে। দলের তিনজন সংসদ সদস্য, বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও পৌর মেয়রসহ অধিকাংশদের আড়ালে রেখে, কারো সাথে তেমন সমন্বয় না করে, মুষ্টিমেয় কিছু নেতার সাথে শলা পরামর্শ করে একটি পকেট কমিটি গঠন করে সভানেত্রীর কাছে জমা দেয়ার খবর জানতে পেরে ফুঁসে উঠেন জেলার তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও। তারা তাৎক্ষনিকভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ১৩ জুলাই দলীয় সভানেত্রী বরাবরে কমিটি অনুমোদন না দেয়ার দাবিতে ৩০ নেতার স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় তারা দলের গুরুত্বপূর্ন নেতাদের সাথে সমন্বয় বা আলোচনা না করে একটি পকেট কমিটি জমা দিয়েছে। যাতে দলের দীর্ঘ দিনের ত্যাগী ও যোগ্য ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হয়েছে। এই কমিটিতে ১১জন সহ-সভাপতির মধ্যে দুইজন সহ-সভাপতি করা হয়েছে এমন ব্যক্তিদের যারা বিগত উপজেলা নির্বাচনে দল থেকে বহিস্কৃত, দুইজন নিস্ক্রীয়, একজন টানা ১৪ বছর একটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন, দুইজন ২০০১ সালে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নৌকার পরাজয়ে সহায়তা করেছেন, একজন কোন দিনও আওয়ামীলীগ করেননি এবং বিদেশী নাগরিক। তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে একজন দলের দুঃসময়ে দীর্ঘ দেড় যুগ বিদেশে কাটিয়েছেন। তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে একজন দল থেকে বহিস্কৃত এবং একজন ২০০১ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন এমনকি তিনজন দলীয় কর্মী হত্যার অন্যতম আসামী। কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া কোষাধক্ষ, প্রচার সম্পাদক, ত্রান ও সমাজ কল্যান সম্পাদক, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ২০১০ সালের আগে কোন দিনও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জরিত ছিলেননা এমনকি তারা কখনো রাস্তায় নেমে একদিন জয়বাংলা স্লোগানও দেননি বলে জানিয়েছেন দলের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা।

শরীয়তপুর-২আসন থেকে ৭ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব:) শওকত আলী, শরীয়তপুর-৩ আসনের সাংসদ জাতীয় নেতা মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের জ্যেষ্ঠ পূত্র নাহিম রাজ্জাক, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, সাবেক সংসদ সদস্য সদস্য মাষ্টান মজিবুর রহমান, শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম তপাদার, জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার, ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর মাঝি, শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, গোসাইরহাট উপজেলা আ‘লীগের সভাপতি শাহজাহান শিকদার, ডামুড্যা উপজেলা আ‘লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবলু শিকদার, জেলা আ‘লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন তালুকদারসহ অনেক প্রবীন ও তরুণ নেতারা জানিয়েছেন, বিকর্তিত লোকদের নিয়ে গঠিত কমিটি যদি কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেয়া হয় তাহলে দলের দীর্ঘ দিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা ঘরে বসে যাবে। আর এর প্রভাব পরবে আগামী একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তারা এই কমিটি অনুমোদন না দিতে কেন্দ্রীয় সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদককে জোর অনুরোধ জানিয়েছেন।


শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, আমার কাছে এই কমিটি সম্পর্কে কেউ কোন আপত্তি জানাননি। তবে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এমনকি এই কমিটিতে কোন বিতর্কিত লোকের স্থান হয়নি। আগামী দিনে এই কমিটি গতশিীলতা পাবে।

আপত্তি প্রদান বা অভিযোগকারিদের দাবি খন্ডন করতে গিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার বলেন, সকল পর্যায়ের নেতা দের সাথে আলোচনা এবং সমন্বয় করেই এ কমিটি দাখিল করা হয়েছে।

তার দাবি, কোন দিন আওয়ামীলীগ করেননি এমন লোকদের তিনি কমিটিতে ঠাই দেননি, তবে এটা পদ বঞ্চিতদের মনের জ্বালা বলে উড়িয়ে দিলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এই কমিটিতে কার কত জন লোক ঠাঁই পেয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে বলে দিতে পারবো।

(কেএনআই/এসপি/আগস্ট ১৪, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

১৩ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test