E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

শিরোনাম:

ভারতীয় পশু নিয়ে আতঙ্কে খামারিরা

২০১৭ আগস্ট ২৫ ১২:৪৬:৪৮
ভারতীয় পশু নিয়ে আতঙ্কে খামারিরা

যশোর প্রতিনিধি : যশোরে খামারিরা এখন ভারতীয় গরু নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে যশোরের সীমান্ত পথে প্রতিদিনই ভারত থেকে আসছে গরু-ছাগল। ক্রেতারাও ভারতীয় গরুর কথা বলে স্থানীয় খামারগুলোতে গিয়ে কম দাম হাঁকছেন। খামারিদের দাবি এমনিতেই খরচের তুলনায় গরু ছাগলের দাম পাচ্ছেন না। তার উপর যদি ভারতীয় গরু আসে তাহলে তাদের পথে বসতে হবে।

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানায়, জেলার আট উপজেলায় এবার কোরবানি উপলক্ষে ১৪ হাজার ৫৩০টি খামারে ৬৮ হাজার ১২৮টি পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ৩৫ হাজার ৭৫২টি, ছাগল ২৯ হাজার ৩০০টি ও ভেড়া রয়েছে ৩ হাজার। জেলায় মোট ৫৫ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। তাই স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বাইরের জেলায় পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার।

খামারিরা জানান, এই জেলার অধিকাংশ খামারি নিজেদের গচ্ছিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগ করে কোরবানির পশু পালন করছেন। তাই ভারতে গরু আমদানি কমলে দেশীয় গরু পালন বৃদ্ধি পাবে, খামারিরাও লাভবান হবেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ ক্রেতারা এখন বাড়ির ওপরে এসে বলছেন ভারতীয় গরু নাকি আসছে। ফলে দাম কমে যাবে। এই বলেই কম দাম হেঁকে ফিরে যাচ্ছেন তারা। আর তাই ভারতীয় গরু আসার আতঙ্কে রয়েছেন খামারিরা।

এদিকে সীমান্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, বছরজুড়েই যশোর সীমান্ত পথে কমবেশি গরু আসে। তবে ২/৪ বছর আগে প্রতিদিন যেখানে ৪/৫ হাজার পশু আসতো। এখন সেখানে মাসে আসছে ৪/৫ হাজার। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ সংখ্যা একটু বেড়েছে বলে গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

সূত্র মতে, যশোর সীমান্তের চারটি পয়েন্ট পুটখালী, অগ্রভুলট, দৌলতপুর ও গোগা দিয়ে যে পশু আসে তা নাভারণ সাতক্ষীরা মোড়স্থ পশু করিডোরের মাধ্যমে ভ্যাট আদায় করে কাস্টমস।

এ অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা কাস্টম ইনস্পেক্টর সুমা মনি জানিয়েছেন, চলতি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে (আগস্টের ১ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত) সীমান্তের চারটি খাটাল থেকে ৬ হাজার ১০০টি পশুর ভ্যাট আদায় করা হয়েছে। এরমধ্যে গরু রয়েছে ৫ হাজার ৪৫১টি, ছাগল ৬৪৭ ও মহিষ ২টি।

তিনি আরও বলেন, গরু প্রতি ৫০০, ছাগল ৩০০ ও মহিষ থেকে ৫০০ টাকা ভ্যাট আদায় করা হয়। এ হিসেবে চলতি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে ২৯ লাখ ২০ হাজার ৬০০ টাকা ভ্যাট আদায় হয়েছে।

ভারতীয় গরু আসায় চিন্তিত দেশি খামারি ও বাড়িতে গরু মোটাতাজা করা চাষিরা। শার্শার শাড়াতলা বাজারে পশু বিক্রি করতে এসে একই এলাকার চাষি হাবিবুর রহমান বললেন, কোরবানির পশু হাট এখনও জমেনি। এ বাজারে তিনি দুটি ছাগল বিক্রি করতে এসে প্রত্যাশিত দাম পাননি। তাই বিক্রিও করেননি। ভারত থেকে যদি পর্যাপ্ত গরু-ছাগল আসে, তখন দাম আরও কমে যাবে।

তবে বর্তমানে যেভাবে ভারত থেকে পশু আসছে সেটাকে স্বাভাবিক বলেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার।

তিনি বলেছেন, এতে দেশি গরুচাষি ও ব্যবসায়ীরা তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তবে ভারতীয় পশু আসার পরিমাণ আরও বেড়ে গেলে খামারিরা বিপাকে পড়তে পারেন।

(ওএস/এসপি/আগস্ট ২৫, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test