E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

মাদকের বিরুদ্বে জাহিদকে ফের রাজপথে দেখতে চান সেনবাগের নেতা কর্মীরা

২০১৭ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৩:৪৩:৫৫
মাদকের বিরুদ্বে জাহিদকে ফের রাজপথে দেখতে চান সেনবাগের নেতা কর্মীরা

নোয়াখালী প্রতিনিধি : সেনবাগের মাদকের বিরুদ্বে অকুতোভয় যুবকের নাম জাহিদ ভূঁইয়া যিনি সেনবাগের মাদকসেবীদের যম নামে এক নামে পরিচিত। একাই তিনি মাদক সেবিদের বিরুদ্বে লড়তে গিয়ে গত ২৬ মে ২০১৬ সালে  মাদকসেবিদের গুলিতে পা হারান ৭ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ ভূঁইয়া। 

ঢাকায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত নিয়ে যান তার পরিবার, জীবন বাঁচলেও বর্তমানে পগুত্ব বরন করে বাড়ীতেই বেশি সময় কাটছে তার। তবুও থেমে নেই তিনি আওয়ামি পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন তিনি, তার পিতা জহিরুল ইসলাম একজন তুখোড় আওয়ামীলীগ কর্মী তার পরিবারের প্রতিটি সদস্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।

জাহিদ ভূঁইয়া ২০০১ সালে ছাত্রলীগ রাজনিতিতে প্রবেশ করেন সে থেকে আওয়ামিলীগ ছাত্রলীগ সহ তৃনমূলে ছিল তার ব্যাপক পর্দাপন খুব কম সময়ের হয়ে উঠেন সকলের প্রিয় মুখ। ২০১৫ সালে ৭ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন, সভাপতি দ্বায়িত্ব পেয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন সেনবাগ উপজেলাকে মাদক মুক্ত করবেন, সে লক্ষ্যে প্রতিটি হাট, বাজার চষে বেড়াতেন তিনি খবর রাখতেন কারা মাদকের মত ভাইরাস ছড়িয়ে যুব সমাজকে ধ্বংস করছেন, বেশ কয়েক জায়গায় হানা দিয়ে সফল ও হন তিনি, প্রসাশনের সহযোগীতায় বহু মাদক ব্যাবসায়ীদের তুলে দেন পুলিশের হাতে। হয়ে উঠেন মাদক ব্যাবসায়ীদের এক মাত্র শত্রু। ঘটনার দিন জাহিদ ভূঁইয়া রাজনৈতিক কর্মকান্ড শেষ করে সেনবাগ বাজারের নতুন স্কুল মার্কেটে ব্যাক্তিগত কাজ সম্পাদন করছিলেন হঠাৎ করে মাদকসেবিরা জাহিদকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে, সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলির একটি গুলি জাহিদের বাম পায়ের হাটুতে বিঁধে যায় মুহুর্তেই জাহিদ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটে পড়েন।

খবর পেয়ে সেনবাগ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফিরোজ রিগান ও জাহিদেন পরিবার প্রথমে মাইদী জেনারেল হাসপাতাল অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকা জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করে ১০ দিন চিকিৎসা শেষে সেখানে ও অবস্থার অবনতি দেখে মূমূর্ষ অস্থায় তাকে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত "স্যার গঙ্গারাম হসপিটালে" ভর্তি করে প্রায় ২ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসেন জাহিদ। ব্যায়বহুল চিকিৎসায় জাহিদের পরিবারের ৩০ লক্ষ টাকারও বেশি খচর হয়। বর্তমানে জাহিদের পরিবারটি তার চিকিৎসার খচর বহন করে অনেকটিই ক্ষতিগ্রস্থ, ডাক্তার কৃত্তিম পা লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন এতে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার বেশী ব্যায় হবে বলে ডাক্তারগন ধারনা করছেন। এতো টাকা বর্তমানে জাহিদের পরিবার বহন করা সম্বব নয় তাই জাহিদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন, ও সেতু মন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালীর কৃতিসন্তান ওবায়দুল কাদের সহ সেনবাগ উপজেলার সর্বস্তরের তার দলীয় নেতা ও সাংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন।

এদিকে জাহিদ চিকিৎসা চলাকালিন সময়ের আবারো মাদকসেবিরা জ্বলে উঠতে শুরু করেছে সেই সাথে ৭ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কর্মিরা নিষ্কৃয় হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় মহল। তাই সকল ছাত্রলীগ নেতা কর্মিদের দাবী জাহিদকে উন্নত চিকিৎসায় সাহায্যর হাত বাড়ীয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, ছাত্রলীগের দূর্সময়ের কান্ডারিকে পূনরায় রাজপথে নিয়ে আসা হোক। সেনবাগ উপজেলার ছাত্রলীগ সভাপতি ফিরোজ রিগানের সাথে আলাপকালে তিনি জানান জাহিদ অত্যান্ত সাহসী একজন ছাত্রলীগ কর্মি তার উপর হামলার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা করেছি এবং সেনবাগ সোনাইমুড়ি (আংশিক) সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম তার চিকিৎসার জন্য অর্থিক সহযোগীতা করছেন।

এছাড়াও অনেক নেতা কর্মী জাহিদের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এসেছেন। তবে এখন যদি জাহিদকে আবারো চিকিৎসার মাধ্যমে কৃত্তিম পা লাগিয়ে স্বাভাবিক জীবনে পিরিয়ে আনা যায় তাহলে তিনি পূনরায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন এবং ছাত্রলীগ নেতা কর্মিরা পূনরায় উজ্জেবিত হয়ে উঠবেন।

এ ব্যাপারে জাহিদের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমার বাবা সেই ছোটবেলা থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজিনিতি করছেন তার রক্ত আমার শরিরে বইছে। ছাত্রলীগ আমার প্রানের সংগঠন এই সংগঠন থেকে কখনো পিচপা হবোনা, এক পা গেছে সমস্যা নাই শরিরের সব রক্ত বিলিয়ে দিয়ে হলেও অন্যায়ের বিরুদ্বে প্রতিবাদ করে যাবো, তিনি আরো জানান এখনো আমি ধমে যায়নি সব সময় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে যতটুকু পারছি রাজনিতিতে সময় দিচ্ছি হয়তো পা থাকলে মাঠকে আরো চাঙ্গা করতে পারতাম, তিনি সেনবাগের সকল নেতৃবৃন্দ দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন আমি পা হারালেও মনবল হারায়নি, যতদিন বাঁচবো ততদিন আমি ছাত্রলীগের সাথে ছিলাম আছি থাকবো।।

জাহিদের পিতা জহিরুল হক বলেন "আমার ছেলের পা গেছে আমার কোন আপসোস নেই আমার ছেলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক সেটাই বড় কথা, বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করতে স্ব-পরিবারে জীবন দিয়েছেন সে ইতিহাস কারো অজানা নয় তিনি আরো বলেন আমাদের নেতা মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এছাড়াও সকল এমপি মন্ত্রী ছাত্রলীগ রাজনিতি থেকেই উঠে এসেছে আমার বিস্বাস আমার ছেলের চিকিৎসার্থে সবাই এগিয়ে আসবেন"।


(আইইউএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

১৫ নভেম্বর ২০১৮

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test